বাস্তুশাস্ত্রের (Vastu Shastra) ব্যাখ্যা ও ফাং শুই (Feng shui) কী ?
বাস্তুশাস্ত্রের ব্যাখ্যা
‘বাস্তু’ এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘বস্তু’ থেকে। জড় হোক বা সজীব, পৃথিবীর যে-কোনও সৃষ্টিই পঞ্চভৌতিক। বাস্তুশাস্ত্র স্থাপত্য বিজ্ঞানেরই অংশ যার মূল ভিত্তি পঞ্চভূত। মাটি, জল, আগুন, বায়ু ও আকাশ— এই পাঁচটি উপাদান নিয়ে পৃথিবী তৈরি। সৃষ্টি এবং ধ্বংসের নিয়ন্ত্রক জল ও বায়ু। এই নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ চাইলে প্রকৃতিকে আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাস্তু মেনে বাসস্থান বানালে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে কাজে লাগানো সম্ভব। দূরে রাখা সম্ভব কুপ্রভাব। বাস্তুশাস্ত্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—দিক, সৌরশক্তি ও মহাজাগতিক শক্তি। পৃথিবী এবং সৌরজগৎ এটির সঙ্গে যুক্ত। পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরতে ঘুরতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই ঘোরার ফলে তৈরি হওয়া চৌম্বকশক্তি পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে আটকে রেখেছে। এই চৌম্বকীয় শক্তির প্রভাব শরীরেও থাকে। যেমন, মাথা হল সুমেরু (উত্তর মেরু) এবং পা কুমেরু (দক্ষিণ মেরু)। সেইজন্য উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমোতে নেই। ঘুমোলে শরীরে রক্ত চালাচল বাধা পায়। হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হয়। হাঁসফাঁস লাগে। কারণ, সমমেরু নিজেদের বিকর্ষণ করে। সেইজন্য দক্ষিণে মাথা করে ঘুমোলে দেহ ও মন শান্ত থাকে। এইরকম নানা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই বাস্তুশাস্ত্রের বিচরণ।
ফাং শুই কী
ফাং শুই চিনা দর্শনশাস্ত্র। এই শাস্ত্রের ভাবাদর্শ— জীবজগৎকে চারদিকের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। এর কার্যপ্রণালীর মূলে রয়েছে এনার্জি বা কর্মশক্তি যা জীবনের মহাজাগতিক উৎস। ইংরেজিতে ফাং শুই মানে জল আর হাওয়া, জীবনীশক্তির দুই মৌলিক উপাদান।
সুখ ও শান্তি
সুখ কে না চায়! আর শান্তির জন্যই তো সারাজীবন, দৌড়ে বেড়ানো! বাস্তু ও ফাং শুইতে বেশ কিছু নিয়মকানুন ধার্য করা আছে যেগুলি মেনে বাড়ি গোছালেই কেল্লা ফতে।
বাস্তুমতে
বাস্তুমতে বানালে শুভ। রেডিমেড কিনলেও চিন্তা নেই। ভাঙাচোরা না করেই কাটানো সম্ভব বাস্তুদোষ।
বাস্তুতে দিকের ভূমিকা
বাস্তুশাস্ত্র আংশিকভাবে দিকনির্ভর। মূলত আটটি দিকের কথা এখানে বলা হয়েছে।
পূর্ব: এই দিক শক্তির প্রাণকেন্দ্র। দিক্পতি হল ইন্দ্ৰ।
পশ্চিম: এই দিক নাম, যশ এবং উন্নতিতে সাহায্য করে। দিক্পতি বরুণ ও গ্রহ শনি।
উত্তর: পৃথিবীর চৌম্বকীয় শক্তির একটি মেরু। এর ওপর নির্ভরশীল বুদ্ধি এবং চাতুর্য। দিক্পতি কুবের এবং গ্রহ বুধ।
দক্ষিণ: চৌম্বকীয় শক্তির অন্য মেরু। সমৃদ্ধি, শান্তি, নিরুপদ্রব জীবন এই দিকের হাতে। দিক্পতি যম এবং গ্রহ মঙ্গল।
উত্তর-পূর্ব বা ঈশান: সূর্যের লাল আলো এই দিকে সবথেকে বেশি পড়ে। এই রশ্মি ধনাত্মক (পজেটিভ) শক্তির উৎস। এই দিক বংশবৃদ্ধির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। দিক্পতি শিব গ্রহ বৃহস্পতি।
দক্ষিণ-পূর্ব বা অগ্নি: শরীর ও মনের শক্তি, উদ্দীপনা, খাওয়া-দাওয়া আর ভোগবিলাসের সঙ্গে এটি যুক্ত। দিক্পতি অগ্নি গ্রহ শুক্র।
দক্ষিণ-পশ্চিম বা নৈঋত: আয়ু ও আচার-ব্যবহারের সঙ্গে এই দিকের গভীর সম্পর্ক। দিক্পতি নিরুতি এবং গ্রহ রাহু ও কেতু।
উত্তর-পশ্চিম বা বায়ব্য: এই দিকের প্রভাবে মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু সম্পর্ক, শান্তি ও মৈত্রী বজায় থাকে। দিক্পতি বায়ু ও গ্রহ চন্দ্র।
তুলনাহীন তুলসী
বাস্তুর সঙ্গে তুলসী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তুলসীপাতা থেকে যে-বিকিরণ হয় তা পোকামাকড় ও জীবাণু নষ্ট করে। তুলসীপাতা খাবার টাটকা রাখতে সাহায্য করে। আগেকারদিনে বাড়ির ঠিক মাঝখানে বা ব্ৰহ্মস্থানে তুলসীমঞ্চ করা হত। এর ফলে বাড়ির ভারসাম্য বজায় থাকে। ফ্ল্যাটে সেটা সম্ভব নয়। সেইজন্য টবে করে তুলসী গাছ উত্তর বা পূর্ব কোণে বা ফাঁকা জায়গায় রাখা যায়।
বাস্তুমতে ফ্ল্যাট
১৬টি ঘর আর তার মাঝে উঠোন— প্রাচীনমতে এটাই আদর্শ বাসস্থান। এই বাড়ি জীবনে সমৃদ্ধি আনে। বর্তমানে এইরকম বাড়ি শুধুই স্বপ্ন। শহরে ছাড়িয়ে মফস্সল, ফ্ল্যাটের রাজত্ব। সেক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম মানা জরুরি।
অগ্নি কোণে: রান্নাঘর, মিটারঘর
উত্তরে: মূল্যবান জিনিসপত্রের ঘর
পশ্চিমে: খাওয়ার ও পড়ার ঘর
পশ্চিম ও নৈঋতের মধ্যে: পড়ার ও কর্তার শোয়ার ঘর
নৈঋত ও পশ্চিমের মধ্যে: বাথরুম ও শোয়ার ঘর
পশ্চিমে: ছেলে-মেয়েদের থাকার ঘর উত্তর-পশ্চিম বা বায়ব্যে: অবিবাহিত মেয়েদের ও গেস্টরুম
পূর্বে: লিভিং ও ড্রয়িং রুম
বাড়ি বানানোর আগে
জমি কিনে বাড়ি বানানোর সুযোগ থাকলে ভূমি পুজো করেই কাজ আরম্ভ করুন। জমির ঢাল থাকুক উত্তর- পূর্বে। পূর্ব ও উত্তরে ফাকা জায়গা রাখা ভাল। দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমানার পাঁচিল উত্তর ও পূর্ব দিকের তুলনায় মোটা বানান। মূল বাড়ি রাস্তা থেকে অন্তত দু’ফুট উঁচু করতে হবে। দিক অনুযায়ী ভাগ করতে হবে বিভিন্ন ঘর।
শোয়ার ঘর: দক্ষিণ-পশ্চিমের ঘরটিই আদর্শ। ঘর সংলগ্ন বাথরুম যেন উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হয়।
ছেলের ঘর: অবিবাহিত ছেলের ঘর হবে পূর্ব বা উত্তরে। বিবাহিত হলে দক্ষিণ-পূর্ব আগ্নেয় কোণে।
পড়ার ঘর: উত্তর বা পশ্চিমে। পড়ার সময় পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসতে হবে। ঘরের দরজা থাকবে উত্তর-পূর্বে।
ঠাকুরঘর: উত্তর-পূর্ব দিকে। এটা বৃহস্পতির দিক। সেইজন্য ঠাকুরের ঘর হিসেবে আদর্শ। এই ঘরটি পড়া ও যোগাসনের জন্যও ব্যবহার করতে পারেন। বাড়ি লাগোয়া ঠাকুরমন্দির বানালে সেটির মাথা করুন পিরামিড আকারে। এই আকারের ঘর ধ্যানের জন্য উপযুক্ত এবং মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
রান্নাঘর: দক্ষিণ-পূর্ব কোণ অগ্নি কোণ। সেইজন্য রান্নাঘর এইদিকে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
বসার ঘর: এই ঘর সবসময় পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমে দিকে হওয়া উচিত।
বারান্দা: উত্তর-পূর্ব দিকে বারান্দা বানাতে পারেন। বারান্দার উত্তর-পশ্চিমে জুতো রাখার জায়গা।
ব্রহ্মস্থান: জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ঠিক মাঝখানের জায়গা। এখানে কোনও ভারী জিনিস রাখা নিষেধ। একইভাবে প্রতিটি ঘরের মাঝখানও ফাঁকা রাখতে হবে।
গাড়ির ঘর: দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিমে।
জলের ট্যাংক ও সেপটিক ট্যাংক: জলের ট্যাংক উত্তর-পূর্ব দিকে এবং সেপটিক ট্যাংক দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিমে।
আউটহাউস: উত্তর বা পশ্চিমের সীমানায়। মূল পাঁচিল থেকে কিছুটা জায়গা ছেড়ে। আউটহাউসের উচ্চতা বাড়ি থেকে কম হবে।
মেজানাইন ফ্লোর: একান্ত প্রয়োজন হলে দক্ষিণ দিকে।
বেসমেন্ট: উত্তর-পূর্ব দিকে। কোনওমতে দক্ষিণ বা পশ্চিম করা যাবে না।
বাথরুম: আজকাল ঘর লাগোয়া বাথরুমের রেওয়াজ। তবে, এটি বানাতে হবে দক্ষিণ অথবা পশ্চিম দিকে। দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব বা বাড়ির মাঝখানে বাথরুম বানানো যাবে না। সম্ভব হলে পূর্ব ও উত্তর দিকও এড়িয়ে চলুন। কমোড বা প্যান দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী হতেই হবে। মেঝে থেকে প্যান কমপক্ষে দেড় ফুট উঁচুতে বসান। আয়না রাখুন উত্তর ও পূর্বে। হিটার, গিজার, সুইচ বোর্ড দক্ষিণ-পূর্ব দেওয়ালে।
বাস্তুপুরুষ
বাস্তুশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বাস্তুপুরুষ। মৎস্যপুরাণ অনুসারে বাস্তুপুরুষকে যখন দেবতারা পৃথিবীর বুকে ফেলেন, তখন তাঁর মাথা ছিল উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান কোণে। বাস্তুপুরুষের মূল তিনটি অবস্থান—
নিত্যবাস্তু: বাস্তুপুরুষের অবস্থান প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর বদলায়। একেই বলা হয় নিত্যবাস্তু। এর ভিত্তিতে বাড়ি তৈরির কাজ হয়।
চরবাস্তু: এই অবস্থান পরিবর্তন হয় প্রতি চান্দ্রমাসে। বাড়ি তৈরির কাজ শুরু, সদর দরজার ফ্রেম বসানো, গৃহপ্রবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এর ওপর নির্ভর করে করা হয়।
স্থিরবাস্তু: বাস্তুপুরুষ পেটের ভারে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকেন। মাথা উত্তর-পূর্ব দিকে, দু’পা ও নিতম্ব দক্ষিণ-পশ্চিমে, হাঁটু ও কনুই দক্ষিণ-পূর্বে এবং উত্তর-পশ্চিমে। বাড়ির দরজা-জানলা বসানো ও বিভিন্ন ঘর তৈরির কাজ করা হয় এই বাস্তুর ভিঞ্চিতে। প্রতি তিন মাসে বাস্তুপুরুষের অবস্থান পরিবর্তন হয়। শাস্ত্রমতে এইভাবে তিনি সবদিকে পর্যায়ক্রমে নজর রাখেন। বাড়ির শুভ স্থানে তাঁর অবস্থান। বাস্তুদেব বাড়িতে রাখলে ও তাকে প্রণাম করলে বাস্তু সম্পর্কিত ভয় দূর হয়।
ফ্ল্যাট ও বাড়ির দোষ কাটানো
বাড়ি না-ভেঙেও দোষ কাটানো সম্ভব। পেশাদার ও অভিজ্ঞ বাস্তুবিদরা শক্তি মাপতে জানেন। ‘এনার্জি ম্যানেজমেন্ট’ করে বাড়ির ঋণাত্মক ও ধনাত্মক (নেগেটিভ ও পজেটিভ) শক্তি মাপা যায়। লেচার ও গোল্ড অ্যান্টেনা দিয়ে এটা মাপা হয়। ঋণাত্মক শক্তির প্রভাব কোথায় বেশি সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তারপর ‘অরাগ্রাফি’র সাহায্যে শক্তির অদলবদল করে পরিবর্তন আনা সম্ভব। এর জন্য বিভিন্ন রকম যন্ত্রপাতির সাহায্যে ছবি তুলে পরীক্ষা করা হয়। মনে রাখতে হবে, মূর্তি ও যন্ত্র বসিয়ে বাস্তুদোষ কাটানো যায় না। অভিজ্ঞ বাস্তুবিদ দিয়ে সংস্কার করানোই একমাত্র উপায়।
ঘর সাজানোর জিনিস থেকে বিপর্যয়
ঘর সাজানোর জিনিস ডেকে আনে বিপর্যয়। যেমন— কার্পেট, সিন্থেটিক পেন্ট, পেট্রোকেমিক্যাল জিনিস বা যে-কোনও রকম ইলেকট্রনিক সামগ্রী। এছাড়া এমন জিনিস, যার থেকে উচ্চ কম্পাঙ্কের চুম্বকীয় বিকিরণ হয়। এই বিকিরণ শরীরের ক্ষতি করে। এগুলো থেকে বের হওয়া গন্ধও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। এর থেকে অনিদ্রা, মাথাধরা, স্ট্রেস, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কার্পেটে নানারকম জীবাণু বাসা বাঁধে। ঘর সাজাতে ব্যবহার করুন দড়ি বা প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে তৈরি কার্পেট। ক’দিন অন্তর ধুয়ে নিলে ভাল। মাইক্রোআভেন, কম্পিউটার, এলইডি থেকে বেরোনো রশ্মি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। প্লাস্টিক পেন্টও ক্ষতিকারক। এগুলো বায়ুনিরোধক। মুখে প্লাস্টিক বেঁধে রাখলে যেমন হাঁসফাস অবস্থা হয় প্লাস্টিক পেন্ট করালে ঘরের তেমন কষ্ট হয়। শাস্ত্রেমতে বাস্তু আমাদের ‘তৃতীয় ত্বক’। চামড়ায় ময়লা জমলে যেমন অসুখ হয়, তেমনই বাড়িতে পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচল না করলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু এইসব জিনিস আধুনিক জীবনের অঙ্গ। এগুলোর খারাপ প্রভাব কাটাতে পারে গাছ। যেমন- রাবার, পিস লিলি, গোল্ডেন পথস, ফিকাস। বাড়ি সাজানোর মুখোশের ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে। দেব-দেবীর মুখোশ শুভ। কিন্তু ভয়ানক মুখ বা রাক্ষসের মুখোশ বাড়িতে রাখা ঠিক নয়।
সদর দরজা ডিম্বাকৃতি নয়
বাড়ির দরজা হবে আয়তাকার বা বর্গাকার। ডিম্বাকার হলেই মুশকিল। আয়ত বা বর্গাকারের দরজা সুষ্ঠু শক্তিপ্রবাহে সাহায্য করে। অন্য আকারের দরজা এতে বাধা দেয়। দরজায় চৌকাঠ রাখা শুভ। এতে কোনও সরীসৃপ বা পোকামাকড় ঢুকতে পারে না।
বিছানার মুখোমুখি আয়না নয়
শোয়ার ঘরে বড় আয়না না রাখাই ভাল। জায়গার অভাব থাকলে রাখতে পারেন তবে বিছানার উল্টো দিকে নয়। ঘুমন্ত মানুষ সবথেকে বেশি দুর্বল। এই অবস্থায় প্রতিফলিত প্রতিবিম্ব দুর্বলতা বাড়ায় যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষভাবে শক্তির প্রতিফলন করে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। আয়নার চার কোনায় আধুনিক শক্তি- প্রতিফলক লাগিয়ে এই দোষ দূর করা যায়।
দরজা, জানলা ও প্রতীক
বাড়ির উন্নতিতে দরজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রধান দরজা বসানোর নিয়ম রয়েছে। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম- যে-কোনও দিকে দরজা বসানোর সময় প্রতিটি দিক সমান নয় ভাগে ভাগ করতে হবে। এবার বাঁ দিক থেকে তিন ভাগ বাদ দিয়ে চতুর্থ ভাগে বসাতে হবে মূল দরজা। বাড়ি হোক বা ফ্ল্যাট, প্রধান দরজাই লক্ষ্মীর প্রবেশপথ। এটিকে সবসময় তোরণ ও আলপনা দিয়ে সাজিয়ে রাখুন। দরজার বাইরে ‘ॐ’ চিহ্ন এমনভাবে রাখুন যাতে সবার নজরে আসে। দরজার ভিতরে রাখুন স্বস্তিক চিহ্ন। বেরোনোর সময় যাতে দেখা যায়। দরজার উচ্চতা সেটির চওড়ার দ্বিগুণের থেকে বেশি হওয়া দরকার। নতুন কাঠ দিয়েই দরজা বানান। দরজা খোলা ও বন্ধ করার সময় যেন বাজে আওয়াজ না হয়। ঘড়ির কাঁটার নিয়ম মেনে দরজা ডান দিকে খুলতে হবে। শাস্ত্রমতে দরজা দু’রকম। সব্যদ্বার ও অপসব্য দ্বার। ভিতরে ঢোকার সময় দরজা ডান দিকে ঘুরলে সেটা সব্যদ্বার। এই দরজা ঘরে সুখ, শান্তি ও সম্পত্তি আনে। বাঁ দিকে ঘোরা দরজা অপসব্য দ্বার। এর প্রভাবে অর্থহানি হয়, রোগের প্রকোপ বাড়ে। মূল দরজায় যেন দু’টি পাল্লা থাকে। দেওয়ালের মুখোমুখি দরজা বানাবেন না। মোট দরজার সংখ্যা যেন বিজোড় না হয় । আড়াআড়িভাবে আলো ও হাওয়া চলাচল করতে পারে এইভাবে জানলা লাগান। দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের তুলনায় উত্তর ও পূর্ব দিকে বেশি জানলা বসাবেন। কলকাতায় হাওয়া দক্ষিণ থেকে উত্তরে বয়ে যায়। সেইজন্য দক্ষিণ খোলা ঘর উপযুক্ত।
সিঁড়ি বানানোর নিয়ম
- সিঁড়ি সবসময় পূর্ব থেকে পশ্চিমে উঠবে। সম্ভব না হলে উত্তর থেকে দক্ষিণে ওঠানো যায়।
- ঘড়ির কাটার নিয়মে ডান দিকে ঘুরে ওপরে উঠবে।
- মূল জমির দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে সিঁড়ি থাকলে শুভ। সম্ভব না হলে দক্ষিণ-পূর্বের দক্ষিণ দিক ও উত্তর- পশ্চিমের পশ্চিম দিক বেছে নিন।
- উত্তর-পূর্ব দিকে সিঁড়ি করা চলবে না। এই জমি সবথেকে হালকা।
- সিঁড়ির ধাপ বিজোড় সংখ্যায় হওয়া উচিত।
- বাড়ির ভিতরে ঝুলন্ত সিঁড়ি বাস্তুশাস্ত্র বিরুদ্ধ।
- দরজার মুখোমুখি সিঁড়িও করা চলবে না।
ছোট্ট ফ্ল্যাটে কী কী গাছ
তুলসী গাছ জীবাণুনাশক। সেইজন্য বাড়িতে রাখুন। বড় জমির ওপর বাড়ি হলে নারকেল, আম, অশোক, চামেলি, কাঁঠাল ও নিম গাছ লাগাতে পারেন। কাঁটাওয়ালা (বেল গাছে সমস্যা নেই) ও দুধের মতো কষ বের হয় যে-গাছ থেকে, সেগুলো রাখা অশুভ। এর থেকে ঋণাত্বক শক্তি বের হয়। ফ্ল্যাটবাড়িতে রাখুন ক্যালাডিয়াম, পিককপ্ল্যান্ট, ক্রোটন, কোলিয়াস, ডাইফেনবেচিয়া, বিটনিয়া, পাম, মনস্ট্রেরা ও মানিপ্ল্যান্ট। মোটা ও চওড়া পাতাওয়ালা ছোট গাছ রাখতে পারেন। পাতাবাহার রাখা যায় একমাত্র উত্তর-পূর্বে।
বেডরুমে থাকবে না ঠাকুরের ছবি
ঠাকুরের ছবি এবং মূর্তির সামনে গভীর প্রেমালাপ নিষিদ্ধ। সেইজন্য শোয়ার ঘরে ঠাকুরের ছবি রাখতে নেই। বয়স্ক, বাচ্চা, ও শিক্ষার্থীদের ঘরে রাখতে পারেন।
পোষ্য রাখার নিয়ম
কুকুর বা বিড়ালের ঘর করুন সিঁড়ির নীচে অথবা ঠান্ডা জায়গায়। পাখি রাখবেন উত্তর-পশ্চিমে। রঙিন মাছ থাকবে বারান্দা আর বসার ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণে।
ছবি বা প্রতীক রাখার নিয়ম
দরজায় ওঁ, মীন, পদ্ম, পঞ্চগোলক, ফল সমেত গাছ, লতাপাতা সমেত গাছ, দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মীর ছবি, পূর্ণকলস, স্বস্তিক, শঙ্খ ইত্যাদি মাঙ্গলিক চিহ্ন টাঙানো শুভ। বাড়িতে কাক, শকুন, পেঁচা, বাদুড়, পশু শিকারের ছবি, মারামারি ও যুদ্ধের ছবি, ন্যাড়া গাছ ও ছুটন্ত ঘোড়ার ছবি রাখা অশুভ। বাড়িতে তেলের প্রদীপ জ্বালানো, টাটকা ফুল রাখা, লোহার পরিবর্তে কাঠের আসবাবপত্র ও বায়ুঘণ্টা রাখা ভাল। দু’বেলা শঙ্খধ্বনিও পরিবারে উন্নতি আনে।
বাস্তুমতে ঘরের রং
দিক অনুসারে রং করতে হবে। সেটা ঘরের রং হোক বা দরজা-জানলার।
পূর্ব: উজ্জ্বল লাল
পশ্চিম: হালকা নীল
উত্তর: হালকা সবুজ
দক্ষিণ: প্রবাল-লাল অথবা গোলাপি
উত্তর-পূর্ব: সোনা রঙের হলুদ
দক্ষিণ-পশ্চিম: গাঢ় রং অথবা ধূসর
দক্ষিণ-পূর্ব: শঙ্খের মতো সাদা
উত্তর-পশ্চিম: ধবধবে সাদা
দক্ষিণ-পশ্চিম দিক ফাঁকা থাকবে না বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিক খোলামেলা রাখতে হবে। দক্ষিণ- পশ্চিম দিক ভারী বলে আটকে দেওয়া ভাল। এইদিকে সূর্যের আলো অনেকক্ষণ, কড়াভাবে পড়ে। সেইজন্য এই দিকে বড় গাছ ও মোটা পাঁচিল দেওয়া উচিত।
জমি চেনার উপায়
বর্গাকার জমি। চারপাশে রাস্তা থাকলে আরও ভাল। উত্তর দিকে রাস্তা আছে এমন জমিও উৎকৃষ্ট। জমির চারদিকের কোণ ৯০ ডিগ্রি হওয়া শুভ।চওড়ার থেকে জমি লম্বায় আড়াই গুণের বেশি হওয়া ভাল নয়
গরুর মুখের মতো জমি শুভ, যেটা সামনের দিকে সরু ও পিছনের দিকটা চওড়া। ছয় ও আট কোণওয়ালা জমি এড়িয়ে চলুন।তিনকোনা জমিও অশুভ৷ এইসব জমিতে বাড়ি বানালে ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। এই জমি থেকে চৌকো জমি বের করে বাড়ি বানানো যায়
অরগোনাইট পিরামিড
বাড়িতে কোনওরকম কুপ্রভাব বা খারাপ শক্তি থাকলে এই বিশিষ্ট পিরামিড সেটা কাটাতে সাহায্য করে। এই পিরামিড ঘরে রাখলে শারীরিক ও মানসিকভাবে শান্তি পাওয়া যায়। জীবন সুন্দর ছন্দে এগোতে থাকে। সম্পর্কে উন্নতি আসে। মনে দৃঢ়তা আনে। স্বপ্নপূরণে সাহায্য করে। ঘুমের সমস্যা থাকলে শোয়ার ঘরে এই পিরামিড রাখতে হয়। বিভিন্ন ধরনের খনিজ স্তরে স্তরে সাজিয়ে এই পিরামিড বানানো হয়। এটি কোনওভাবে নষ্ট হয়ে গেলে না ফেলে দিয়ে ঠিক করাও সম্ভব। আজকাল অনলাইনেও কিনতে পাওয়া যায়, এমনকী অভিজ্ঞ বাস্তুবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কিনতে পারেন।
জমির দোষ কাটানো
সবসময় নিয়ম মেনে জমি কেনা সম্ভব হয় না। পছন্দসই জমি বাস্তুমতে শুভ না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে দোষ কাটিয়ে নেওয়া উপযুক্ত উপায়। জমির চৌম্বক অক্ষ সমান্তরাল না হলে এমনভাবে নকশা বানাতে হবে যাতে সুফল মেলে। এই অবস্থায় বাস্তুবিদের পরামর্শ জরুরি। মাটিতে দোষ থাকলে দু’মিটার পর্যন্ত খুঁড়ে নতুন মাটি ফেলে বাড়ি বানানো যায়।
বাস্তুদোষ ও ভাড়াটে
বাস্তুর সঙ্গে মালিকানার কোনও সম্পর্ক নেই। বাড়ির কাঠামোর মধ্যে যাঁরা থাকছেন প্রভাব তাঁদের ওপরেই পড়বে। ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও এক নিয়ম। যদি সেটা না ভেঙে অন্য উপায়ে দোষ কাটানো সম্ভব হয় তা হলে মালিকের আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে, বাস্তুতে স্বমালিকানাধীন বাড়ির ওপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাড়ি ভাড়া দেওয়ার নিয়মকানুন
বাড়ি ভাড়া দেওয়ারও নিয়ম আছে। মালিক থাকবেন বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে। বহুতল বাড়ির ক্ষেত্রে মালিক নেবেন হয় একতলা নয় সবথেকে ওপরের তল।
ফল পাবেন কত দিনে
বাড়িতে কী ধরনের দোষ ছিল এটা তার ওপর নির্ভর করে। প্রাথমিকভাবে বেশি দিন লাগে না। গৌণ দোষ হলে ৪৫-৬০ দিন, অন্যক্ষেত্রে একটু বেশি।
গৃহসজ্জা ও বাস্তুশাস্ত্র
বাড়ির সঙ্গে ঘরের সাজসজ্জাও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির প্রতিটি আসবারের সঙ্গে বাস্তুর সম্পর্ক আছে। এগুলো বাস্তুর প্রভাব কমাতে ও বাড়াতে সাহায্য করে। সেইজন্যই লোহার পরিবর্তে কাঠের আসবাব ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ, লোহা চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। বাড়ির বাসিন্দাদের দৈহিক গঠন ও প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে ঘর সাজানো উচিত।
বাড়ির উচ্চতা
বাস্তুশাস্ত্রের অন্যতম ভিত্তি প্রকৃতি। সূর্য শক্তির উৎস। সূর্যের আলো অল্প পরিমাণে শহরাঞ্চলে পৌঁছয়। এই আলো বাতাসের গ্যাসীয় উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে শক্তি তৈরি করে। এই শক্তি শরীর ও মনে প্রভাব বিস্তার করে। সেইজন্য বাড়ি যত উঁচু ও ফাঁকা হবে সূর্যের আলো তত বেশি ঢুকবে। তত বেশি তার শুভ প্রভাব কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
বাস্তুতে শুভদিন
- উত্তরায়ণ ও শুক্লপক্ষ
- দিনেরবেলা
- বৈশাখ মাসের সোমবার
- শ্রাবণ মাসের বুধবার
- অগ্রহায়ণ মাসের বৃহস্পতিবার
- পৌষ মাসের শুক্রবার
- ফাল্গুন মাসের শনিবার
এইসব দিন বাস্তুমতে শুভ, তবে অবশ্যই অমাবস্যা ও রিক্তাতিথি বাদ দিয়ে।
যানবাহন রাখার নিয়ম
অনেক আগে পালকি, রথ, নৌকা ইত্যাদি রাখার নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। আধুনিক যুগেও সেই নিয়ম মেনে যানবাহন রাখা উচিত। গাড়ি পার্ক করার সবথেকে ভাল দিক হল দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম। উত্তর-পূর্ব দিকে কখনওই গাড়ি রাখা উচিত নয়।
ফাং শুই মতে
দিক: উত্তর-পূর্ব
রুলিং এলিমেন্ট: মাটি,
মাদার এলিমেন্ট: আগুন,
রং: বেজ ও হলুদ
নতুন বাড়িতে সুখ, শান্তি বিঘ্নিত প্রথমেই দেখুন বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিক অক্ষত, সম্পূর্ণ অবস্থায় আছে কি না। এই অংশে বাস্তুপুরুষের মাথা থাকে, কাজেই খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মন, মস্তিষ্কের সঙ্গে জড়িত। এখানে ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকে। নেটওয়র্কিং কর্নারও বলা হয়। জীবনে যে যে মানুষের থেকে উপকার পেতে পারেন, তাঁদের সাহায্য, আশীর্বাদ এই অংশ থেকে আসে। অনেকসময় নির্মাণের ভুলে এমন হয় যে, উত্তর-পূর্ব দিকে ঘর নেই, বারান্দা বা সোজা দেওয়াল উঠে গিয়েছে। তখনই সুখ, শান্তি বিঘ্নিত হয়।
সেক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বের দেওয়ালে একটা আয়না লাগান। স্পেস ইন ডেপথ-এর বিভ্রম বা ইলিউশন তৈরি করে অথবা এমনভাবে একটা লাইট লাগান যাতে ওই দেওয়ালে আলো পড়ে। এতে উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে পজিটিভ এনার্জি আসতে শুরু করবে। অথবা উত্তর-পূর্বের যেটুকু অংশ অক্ষত রয়েছে, সেখানে ছোট্ট একটা মন্দির বানান বা এমন কিছু রাখুন, যার মধ্যে আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে। ধূপ জ্বালাতে পারেন, ওম বেল লাগাতে পারেন। এবং দেখবেন, মন্দিরে যেন একটা আলো বা প্রদীপ সবসময় জ্বলতে থাকে।
একাগ্রতা, সৃজনশীলতায় ব্যাঘাত বাড়ির উত্তর-পূর্ব অংশ পরিষ্কার করুন। এলোমেলো, নোংরা অবস্থায় যেন না থাকে। জিনিস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখবেন না। এই অংশে যেন গ্যারাজ বা স্টোররুম না থাকে।
ডিপ্রেশনে বেডরুমের উত্তর-পূর্ব দিকে নিয়মিত মোমবাতি জ্বালান।
উইন্ড শাইম
প্রতিটা কোণে একটি নির্দিষ্ট এলিমেন্ট রাজত্ব করে। যেমন— উত্তর, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিককে বলা হয় মেটাল এরিয়া। বাড়িতে ঢোকার প্রধান দরজা যদি এই দিকে হয় তা হলে দরজার ভিতরের দিকে ধাতুর উইন্ড শাইম ঝোলান। শাইমের মাথাটা যেন দরজার মাথায় লেগে থাকে যাতে প্রতিবার দরজা খুললে আওয়াজ হয়। এতে বাড়ির ভিতরে কসমিক এনার্জির প্রবেশ হয়। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিকে দরজা হলে কাঠের শাইম লাগান। বাঁশের শাইমও লাগাতে পারেন।
কী ধরনের উইন্ড শাইম কিনবেন ?
ছ”টা বা সাতটা ফাঁকা রডের উইন্ড শাইম সবথেকে কার্যকরী। কিন্তু বাড়ির সামনে যদি কোনও নেগেটিভ এনার্জির উৎস থাকে যেমন ধরুন, একটা বিশাল গাছ, ট্রান্সফর্মার বা দেওয়াল বাড়ি আগলে দাঁড়িয়ে রয়েছে কিংবা বাড়িটা কানাগলিতে অবস্থিত, তখন পাঁচটা রডের উইন্ড শাইম লাগান।
পাকওয়া মিরর
পাকওয়া মিররে বাড়ির ভিতরের খারাপ, দুষ্ট এনার্জি প্রতিফলিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। বাড়ির একেবারে বাইরে রাখুন যাতে এতে নিজের মুখ দেখতে না পাওয়া যায় ।
উত্তর-পূর্ব অংশ কীভাবে সাজাবেন
- ফুলের ছবি লাগান। আনন্দ আসে
- একটা আরামদায়ক চেয়ার রাখুন। তাতে লাল, কমলা রঙের কুশন। পাশে লম্বা রিডিং ল্যাম্প। এখানে বসে বই পড়তে বা গান শুনতে পারেন।
- ক্রিস্টাল বল দিয়ে সাজান।
- উপহার রেখে দিন। ভাল স্মৃতি মনে করায়।
- যদি কোনও জলের উৎস থাকে যেমন— কৃত্রিম ঝরনা বা ফোয়ারা, তা হলে জল সোজা নয়, যেন আঁকাবাঁকা আকারে প্রবাহিত হয়। এতে সুখ, শাস্তি, সচ্ছলতা আসে
কী কী জিনিস এই অংশে রাখবেন না?
- এমন ছবি লাগাবেন না যেখানে কোনও প্রাণী শরীরের এক বা একাধিক অংশ নেই বা দেখা যাচ্ছে না, কেউ কাদছে বা ভয়াল কোনও দৃশ্যের ছবি যেমন— যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মৃত্যুদৃশ্য।
- ডুবন্ত সূর্যের ছবি রাখবেন না। এটি তেজ বা কর্মশক্তি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার প্রতীক।
- মানে বোঝা যাচ্ছে না, এমন ছবি রাখবেন না।
- মৃত জানোয়ারের স্টাফড মূর্তি রাখবেন না। নেগেটিভ এনার্জি ছড়ায় তলোয়ার, ছুরি, খুরপি বা বন্দুক দিয়ে বাড়ি সাজাবেন না।
পয়জন অ্যারো
মনে মনে একটা গোলাপের ছবি ভাবুন, ভাললাগবে। কিন্তু যে-মুহূর্তে গোলাপের সঙ্গে কাটার কথা মনে আসবে, তখনই ভয় লাগবে। যা-কিছু ধারালো, ছুঁচোলো, চোখা, তিরের ফলার মতো কৌণিক, সেগুলো ফাং শুই মতে পয়জন অ্যারো। এটি কিলিং এনার্জি বা ধ্বংসাত্মক শক্তি। চি-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে, পজিটিভ এনার্জিকে পরিণত করে নেগেটিভে। বাড়ির সুখ, শান্তি নষ্ট হয়। ধরুন, দুটো লোক ঝগড়া করছে, দু’জনেই দু’জনের দিকে আঙুল তুলল। এক্ষেত্রে কিন্তু আঙুলও পয়জন অ্যারো হিসেবে কাজ করবে। কাঠামোগত কিছু পয়জন অ্যারো এড়িয়ে চলুন
- সোজা রাস্তা যা কানাগলিতে গিয়ে মিশেছে। উদাহরণ— তাজমহল। তাজমহলের সামনে দুটো লম্বা রাস্তা এক বিন্দুতে মিলে একটি রাস্তা হয়েছে এবং সেটি সরাসরি ইমারতের মূল ফটকে আঘাত করছে। এছাড়া, তাজমহলের ঠিক মাঝখানে একটা লম্বা পুকুর রয়েছে যা মধ্যস্থল অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করছে।
- পশ্চিমে কানাগলিতে বানানো বাড়ির চাহিদা বিশাল। কিন্তু ফাং শুই মতে, এরকম বাড়ি মারাত্মক। সামনের সোজা রাস্তা যা সরাসরি বাড়ির প্রধান ফটকে এসে ধাক্কা খাচ্ছে, বাড়িতে ক্রমাগত নেগেটিভ এনার্জি ছড়ায় ■ ■বাসস্থানের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া বা প্রাচীরের ওপর ভাঙা কাচের টুকরো নিরাপত্তার কাজ করলেও, বাড়ির বাসিন্দাদের জন্য উপকারী নয়
- গেটের ওপর দু’মুখো তিরের ফলা প্রায়শই দেখা যায়। একটা ফলা বাড়ির ভিতরের দিকে মুখ করা, একটা বাইরের দিকে। এতে বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্য, শান্তি বিঘ্নিত হয়। কারণ, প্রতিনিয়ত ছুরির ফলার মতো তীক্ষ্ণ এনার্জি বাড়ির ভিতর প্রবেশ করছে
- ড্রাইভ ওয়ে, বাগানের মধ্যেকার রাস্তা বা প্যাসেজ যা সোজাসুজি বাড়িতে হিট করে, পয়জন অ্যারো হিসেবে কাজ করে
- বাসস্থানের প্রবেশদ্বারে কোনও পিলার, ল্যাম্পপোস্ট বা গাছের সারি বাধা সৃষ্টি করছে। এটি কিন্তু আপনার জীবনে শাস্তি বিঘ্ন হওয়ার প্রতীক। এক্ষেত্রে বাড়ির চারদিকে সুন্দর দেখতে বেড়া বা ছোট ছোট গাছের সারি লাগান
বাড়ির ভিতরের পয়জন অ্যারো
- কড়িবরগা মানসিক চাপ বাড়ায়
- প্রবেশদ্বারের ওপরের ছাদ যদি খুব নিচু হয়, তা হলে দরজার দু’দিকে দুটো আয়না লাগান। আয়নার ওপরে দুটো আলো ও আয়নার সামনে কিছু গাছ রাখুন। এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি পাবে
- প্রবেশদ্বার, খিলান আর শোয়ার ঘরের দরজা যেন এক সারিতে না থাকে
- যদি পর পর তিন-চারটে ঘরের দরজা একই সারিতে থাকে, তা হলে একটা সোজা লাইন তৈরি হচ্ছে যা পয়জন অ্যারোতে পরিবর্তিত হয়। তিরের মতো কাজ করে এবং গতিপথে যা পজিটিভ এনার্জি আসে তা ছিঁড়ে ফালা ফালা করে দেয়
- চৌকো পিলারও পয়জন অ্যারো হিসেবে কাজ করে। বাড়ি থেকে পিলার সরানো সম্ভব হয় না। তাই ক্ষতিকারক প্রভাব কমাতে পিলারের চারদিকে গাছ রাখুন অথবা পিলার ঘিরে ওয়ার্ডরোব বা ক্যাবিনেট বানিয়ে ফেলুন
- খাটের একেবারে সামনে যদি পিলার থাকে এবং ঘুমোনোর সময়ে যদি কোনওভাবে তাতে আপনার শরীরের কোনও অংশ ধাক্কা খায়, তা হলে পিলারটা একটা নরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখুন অথবা পিলারের চারদিকে চারটে আয়না লাগান। এতে নেগেটিভিটি কমে।
আসবাবপত্রে পয়জন অ্যারো
■চেয়ারের পিছনের ব্যাকরেস্ট যেন রডের আকারে না হয়।
■যদি বেডসাইড টেবিলের একটা কোণ আপনার শরীরের কোনও অংশের দিকে পয়েন্ট করে থাকে, তা হলে সেই অংশে সমস্যা দেখা দেবে। ধরুন, কোণটা আপনার পেটের দিকে পয়েন্ট করে রয়েছে, তা হলে পেটের গণ্ডগোল হবে। মাথার দিকে তাক করে থাকলে মানসিক অশান্তি হতে পারে। কারণ, আপনাকে ঘিরে যে-ম্যাগনেটিক ফিল্ড রয়েছে, পয়জন অ্যারো তা ফুটো করে দেয়
■ ধরুন, আপনার বাড়িতে একটা আয়তাকার খাবারের টেবিল রয়েছে ও ছ’টি চেয়ার। সদস্য ছ’জন। এবার একজন অতিথি এসে পড়লে, আমরা সাধারণত একটা বাড়তি চেয়ার টেবিলের ধারে দিয়ে সেখানে বসার ব্যবস্থা করি। এক্ষেত্রে টেবিলের ধারটি সেই মানুষটির ক্ষেত্রে পয়জন অ্যারো হিসেবে কাজ করবে
এবং তার হজম সংক্রান্ত গোলযোগ দেখা দেবে।


