
Vastu Shastra – নাম, যশ, উন্নতি, সাফল্য
ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েও নাম, যশ ও সাফল্য পাওয়ার আশা করলে আইপিসির কোনও অ্যাক্ট-এ আটকাবে না। হয়তো স্বপ্ন দেখলে এগুলো পাওয়া হবে না! জেনে নিন কীভাবে পাবেন।
বাস্তুমতে
শুধু সুখ নয় বাস্তু প্রভাব ফেলে উন্নতি, সাফল্য ও সমৃদ্ধিতেও।
আয়-উন্নতি
আয়, উন্নতি আর সাফল্য সুখী জীবনের চাবিকাঠি। চেষ্টা করলে সফল হওয়া সম্ভব কিন্তু তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ভাগ্য। চেষ্টার ওপর জোর চলে না কিন্তু ভাগ্যের ওপর চলে। কিছুটা হলেও। এটা প্রমাণিত। বাস্তুর দোষ-গুণ নিয়ন্ত্রণ করে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। জন্মকুণ্ডলীর বিচার করে প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নিলে জীবন সুন্দর ও সুখী হতে পারে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ। দিশা পরিবর্তন করে দশা সংশোধন সম্ভব। কারণ, জন্মকুণ্ডলী হল ভাগ্য ও বাস্তু কর্ম। মূল দরজা থেকে শুরু করে সব কিছুই বাস্তুমতে বানালে ভাগ্যচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব।
উন্নতি ও গৃহসজ্জা
শোয়ার ঘরের জিনিসপত্র আয়-উন্নতিকে প্রভাবিত করে। ঘরের প্রতিটা জিনিস থেকেই বিভিন্ন রকম শক্তির বিকিরণ হয়। এটি শরীরে প্রভাব ফেলে। সেইজন্য আলমারি ঘরের দক্ষিণ- পশ্চিমে খাটের পাশে রাখতে হবে। আলমারির মুখ থাকবে উত্তর দিকে। টাকাপয়সা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এই আলমারিতে রাখতে হবে। বিশেষত, ব্যবসা ও চাকরি সংক্রান্ত নথি। দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারী আলমারি রাখা সম্ভব না হলে গৃহস্বামীর ঘরের উত্তরে ছোট আলমারিতে টাকাপয়সা ও কাগজপত্র রাখতে হবে।
পারিবারিক উন্নতি ও সুখ-সমৃদ্ধি
সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ— এই তিন গুণ ও পাঞ্চভৌতিক তত্ত্বের অধীন জীবন। বাস্তুশাস্ত্র এই নিয়ম মেনেই বাসস্থান বানাতে বলে। বর্গাকার এবং আয়তাকার বাস্তুর চারদিক সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ এবং পাঞ্চভৌতিক তত্ত্বের প্রভাব অনুযায়ী ভাগ করা হয়। যেমন, জমি বা বাড়ির দক্ষিণ- পশ্চিম দিকে তমোগুণের বাড়বাড়ন্ত হয়। অগ্নি ও বায়ু রজোগুণের প্রতীক। বাস্তুর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এর অবস্থান। বায়ুর অবস্থান আর চলাচল উত্তর-পশ্চিম দিকে বিশেষ প্রভাবশালী।
অন্য দিকে জল সাত্ত্বিক গুনবিশিষ্ট বলে বাস্তুর উত্তর-পূর্ব দিকে এর প্রভাব বেশি। বাস্তুর উত্তর-পূর্ব দিকে প্রথম সূর্যের আলো পড়ে। এই সূর্যালোক প্রাণশক্তিতে ভরপুর। সেইজন্য এই দিক সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। তা হলে জীবনে সাত্ত্বিক গুণের প্রভাব বাড়বে। তাই পূর্ব দিকেই পুজোর ঘর, পড়ার ঘর ও রোগীর ঘর করা প্রয়োজন। তমোগুণ স্থবিরতার প্রতীক। বাস্তুর দক্ষিণ-পশ্চিমে এর প্রভাব বেশি। কারণ, এদিকে সূর্যের আলো সবশেষে পড়ে। এই জায়গায় ভারী জিনিসপত্র রাখা উচিত। শোয়ার ঘরও এখানে হবে। তা হলে পরিবারে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।
উত্তর-পূর্ব দিক তমঃ ও রজঃ গুণের মিশ্রণ। ভাল কাজের জন্য তাই এই দিক বেছে নেওয়া জরুরি। নাহলে কাজে বাধা পড়বে। যে-কোনও ধরনের কাজ ও মানসিক উত্তেজনা রজোগুণের অধীন। অন্যদিকে আলসেমি, ঘুম তমোগুণসম্পন্ন। বুদ্ধি ও সুখের যাবতীয় অনুভূতি সাত্ত্বিক গুণীদের হয়ে থাকে। এদের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে চললেই সব সমস্যার সমাধান হবে। সেইজন্য এই তিন গুণ ও পাঁচ তত্ত্ব মেনে বাড়ি সাজালে পরিবারের উন্নতি হবে, সুখ ও শান্তি বজায় থাকবে। সবার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।
মেয়েদের ওপর প্রভাব
- দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে শুতে পারলে পরিবারে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে
- যদি ক্লান্ত লাগে বা অসুস্থ মনে হয় তাহলে বাড়ির পূর্ব দিকে বেশি করে সময় কাটান। এটি ইন্দ্রের দিক। তা ছাড়া, এই দিকে সূর্যের প্রভাব প্রখর থাকার জন্য হাড়, চোখ, শিরদাঁড়া ভাল থাকে। শরীরে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয়
- দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের দেওয়ালে রাখুন পূর্বপুরুষদের ছবি
- উত্তর-পূর্ব দেওয়ালে থাকবে পরিবারের ছবি, কিন্তু জোড় সংখ্যায়
অ্যাকোয়ারিয়ামের অনেক গুণ
সুখ, শান্তি আর সাফল্যের জন্য বাড়িতে রাখতে পারেন অ্যাকোয়ারিয়াম। শুধু তাই নয়, বাস্তুমতে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা ও উচ্চো কাটাতে এটি সাহায্য করে। তরঙ্গায়িত জল, জীবন ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। মাছ প্রাণের প্রতীক। এই দুইয়ের অনুষঙ্গে জীবনে উন্নতি নিয়ে আসে। তবে, ঘরের ঠিক কোন জায়গায় এটি রাখলে উপকার পাবেন সেটা জানা প্রয়োজন।
অ্যাকোয়ারিয়াম রাখার নিয়ম
- অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ যেন সুস্থ-সবল হয়। অসুস্থ, নির্জীব মাছ কখনওই রাখবেন না
- অ্যাকোয়ারিয়ামে মোট ন’টি মাছ রাখতে হবে। কারণ, নয় পূর্ণ সংখ্যা
- ন’টি মাছের মধ্যে আটটি লাল ও একটি কালো হবে। কারণ, লাল সুখ ও কালো বাস্তবের প্রতীক
- ড্রাগন ও গোল্ড ফিশ একসঙ্গে রাখলে ঘরের মঙ্গল হয়
- মাছেদের সবসময় পরিবারের নির্দিষ্ট কোনও সদস্যেরই খাওয়ানো উচিত
- অ্যাকোয়ারিয়াম সবসময় বসার ঘরে রাখুন, অবশ্যই উত্তর বা পূর্ব দিকে
অ্যাকোয়ারিয়াম রাখার উপকারিতা
- বাস্তুমতে অ্যাকোয়ারিয়ামের কোনও মাছ যদি হঠাৎ করে মারা যায় তা হলে বড় কোনও বিপদ কাটে
- অ্যাকোয়ারিয়ামের জল পাম্পের সাহায্যে সবসময় সচল রাখতে হবে। এর থেকে তৈরি শক্তি অশুভ ক্ষমতাকে দূরে রাখে
- স্বাস্থ্যবান, সুন্দর মাছ সুস্থ, সুখী জীবনের প্রতীক
- মন অশান্ত হলে অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছের চলাফেরা দেখুন। অশান্তি কাটবে, মন শান্ত হয়ে আসবে
- প্রতি দিন মাছকে খাবার দেওয়ার অর্থ হল পরিবারের জন্য পুণ্য অর্জন
- হিন্দু ধর্মমতে মাছ বিষ্ণুর অবতার। সেইজন্য বাড়িতে মাছ রাখলে সেগুলো অশুভ শক্তি শুষে নেয়
- যদি মনে হয় বাস্তুদোষের জন্য বাড়িতে কোনও সমস্যা হচ্ছে তা হলে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখলে সেই দোষ কিছুটা হলেও কাটে
- সুন্দর, রঙিন মাছ সবার দৃষ্টিআকর্ষণ করে। তাই বাড়িতে কোনও লোকজন এলে তাঁদের চোখ সেদিকেই বেশি থাকে। বলা হয়, এতে বাড়িতে খারাপ নজর লাগে না
বেকারত্ব
বাস্তুর সঙ্গে বেকারত্বের বড় সম্পর্ক রয়েছে। বাস্তু ঠিকঠাক না হলে তার খারাপ প্রভাব জীবন ও পেশায় পড়তে বাধ্য। হয়তো বাড়ির টুকটাক কিছু পরিবর্তন সেই প্রভাব কাটিয়ে দিতে পারে। যদি ভাগ্যকে ৫০ শতাংশ ধরা হয় তা হলে তার খারাপের ২৫-৩০ শতাংশ বাস্তুশাস্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অবশ্যই অভিজ্ঞ বাস্তুবিদের সাহায্য নিয়ে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, একটু খেয়াল করলে বাস্তু সংস্কার করে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য অনেকাংশে পরিবর্তন করে বেকারত্ব ঘোচানোও সম্ভব।
সম্পত্তির ভাগ
বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ বয়সে বড়দের জন্য এবং দক্ষিণ-পূর্বের অংশ ছোটদের জন্য বরাদ্দ।
জমি বা বাড়ি কেনার নিয়ম
বর্তমান জমির সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব দিকে কোনও জমি থাকলে সেটা কেনা শুভ। উত্তর-পূর্ব দিকে বর্ধিত জমি সুস্বাস্থ্য ও উন্নতির সহায়ক। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে দূরে পূর্ব দিকের সংলগ্ন জমিও শুভ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দূরে উত্তর দিকের সংলগ্ন জমিও কেনা যেতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকের সংলগ্ন জমি কেনা উচিত নয়। এমনকী এই দিকগুলোর জমি কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়াও উচিত নয়।
ফাং শুই মতে
দিক: উত্তর দিক। বাস্তুমতে এখানে কুবেরের বাস, রুলিং এলিমেন্ট: জল, মাদার এলিমেন্ট: ধাতব বস্তু, রং: নীল ও কালো
এই অংশ সক্রিয় করতে
- এই অংশে যা-ই থাকুক না, তা যেন গতিশীল হয়। কারণ, আমরা কেউ চাই না যে, আমাদের কেরিয়ার স্থবির হয়ে পড়ুক। কাজেই এখানে উইন্ড শাইম, জলের ফোয়ারা বা ঝরনা রাখুন
- বোলে সাতটি রুপোর মুদ্রা বা সাধারণ কয়েন ডুবিয়ে রাখতে পারেন।
- অ্যাকোয়ারিয়ামে দুটো গোল্ড ফিশ আর একটা ব্ল্যাক ফিশ রাখা খুব কার্যকরী
- যে-কোনও ধাতব বস্তু রাখতে পারেন। নীল আর কালো রঙের জিনিস উপকারী
- জল গতিশীলতার প্রতীক। মানা হয়, জল বয়ে গিয়ে ধনসম্পত্তি নিয়ে আসে। তাই পাত্রে জল রাখুন কিন্তু জল যেন স্থির না থাকে। ফুল বা পাতা ভাসিয়ে দিন
- ডলফিন বা মাছের ছবি কিংবা শো-পিস রাখুন
- এমন ছবি লাগান যার মধ্যে গতি রয়েছে। যেমন— বয়ে চলা নদী, ঝরনা, সমুদ্র। এমন ওয়াটার বড়ির ছবি রাখবেন না যেখানে জল স্থির
- নীল, কালো, সাদা, রুপো, ছাই আর সোনালি রঙের ঘর সাজানোর জিনিস রাখুন। সঙ্গে ক্রিস্টাল বা মেটালিক বাল্বও রাখতে পারেন। এতে বেশি পরিমাণে এনার্জি বাড়ির প্রতি আকর্ষিত হবে
- কালো রট আয়রনের আসবাবপত্র রাখুন
কেরিয়ার
উত্তরের দেওয়ালে মেটাল ফ্রেমে আয়না বাঁধিয়ে রাখুন। পাশে রাখুন একটা পেন্ডুলাম ঘড়ি আর নীচে একটা ফাঁকা বোল। আয়না উচ্চাশা বাড়ায়। মনে হতাশা দানা বাঁধলে, পেন্ডুলাম সেই বদ্ধ এনার্জিকে সক্রিয় করতে
সাহায্য করে আর ফাঁকা বোল আপনার কেরিয়ারে নয়া সুযোগকে স্বাগত জানায়
উত্তর দিকে কী কী রাখবেন না?
- ঝড়ে উত্তাল সমুদ্রে ডুবন্ত জাহাজের ছবি রাখবেন না। বরং এই অংশে শান্ত সমুদ্রে ভাসমান, প্রচুর জিনিসে বোঝাই একটা জাহাজের ছবি রাখুন
- জাহাজের মূর্তি রাখতে পারেন, কিন্তু কখনওই উচ্চতায় নয়। একটা নিচু টুলে জল ভর্তি প্লেটে রাখুন। কিন্তু প্লেটটি যেন বাড়ির প্রধান দরজার দিকে মুখ করে না রাখা হয়। সেক্ষেত্রে ধনসম্পদ বেরিয়ে যাচ্ছে— তারই ছায়া পড়বে
- টাইটানিক জাহাজের মডেল বা ছবি রাখবেন না
কেরিয়ার পরিবর্তনে মনে স্থিরতা বাড়ির উত্তরের অংশে একটা ভারী পাথর রেখে দিন
চাইনিজ কয়েন কীভাবে ব্যবহার করবেন
তিনটে চাইনিজ কয়েন একসঙ্গে ত্রিকোণ আকারে বেঁধে পার্সে রাখুন। এই তিনটে কয়েন স্বর্গ, পৃথিবী আর মানুষের প্রতীক। ত্রিত্ব ভাগ্য নিয়ে আসে। কখনও ফাঁকা অবস্থায় ব্যাগ রাখবেন না। সবসময় তিনটে কয়েন রেখে দেবেন।
নাম-যশে বাড়ির দিক
দক্ষিণ দিক। রুলিং এলিমেন্ট আগুন ও মাদার এলিমেন্ট কাঠ। এই অংশে লাল ও বেগুনি রং খাপ খায়।
কোণ সক্রিয় করতে
- এই অংশের অপরিহার্য উপাদান আলো আর আগুন। তাই এই দুটো জিনিস থেকে এই কোণ যেন বঞ্চিত না হয়। জোরালো ল্যাম্প বা প্ৰদীপ রাখুন
- যদি বাড়িতে ফায়ার প্লেস তৈরি করার কথা ভাবেন, তা হলে তা যেন দক্ষিণ দিকে হয়। যদি তৈরি করার পর ব্যবহার না করেন, তা হলে ফায়ার প্লেসের পাশে একটা সবুজ গাছ রাখুন যাতে ওই অঞ্চলের এনার্জি ক্রিয়াশীল ও তরতাজা থাকে
- গাছ রাখুন। গাছ ফায়ার এনার্জিকে পুষ্ট করে। যদি কোনও কারণে গাছ লাগাতে না পারেন, তা হলে চেষ্টা করুন ওই অংশের পর্দা, কার্পেট বা ছবিতে সবুজ বা লাল রং ব্যবহার করতে
সামাজিক প্রতিপত্তি, জনপ্রিয়তা বাড়াতে
মোমবাতিতে ফায়ার এনার্জি থাকে যা আসক্তি জাগায়, দৃষ্টিআকর্ষণ করে। জনপ্রিয়তা বাড়াতে, ন’টা লম্বা মোমবাতি জ্বালিয়ে একসঙ্গে কাছাকাছি চৌকো আকারে রাখুন। লম্বা মোমবাতি ট্রি এনার্জির প্রতীক। সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়ায়।
রোজগার কমলে ডিপ্রেশন শোয়ার ঘরে একটা অগ্নিশিখার ছবি রাখুন। মনে উদ্যম আনতে বাড়ির অন্দরে উজ্জ্বল আলো, উজ্জ্বল রং ব্যবহার করুন। লাল বা মেরুন রং স্পন্দন ও সক্রিয়তার ইঙ্গিতবাহী
শিল্পীর সাফল্য
আপনার তৈরি কোনও শিল্পের নিদর্শন বা এমন একটা কিছু যা আপনার শিল্পের ইঙ্গিতবাহী, তা দক্ষিণ কোণে রাখুন। যেমন, পেন্টার হলে আপনার আঁকা ছবি বা গায়িকা হলে যে- কোনও গানের যন্ত্র। গুরু, শিক্ষক-শিক্ষিকা বা যাঁকে মন থেকে মানেন এমন ব্যক্তির ছবি কাঠের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখুন।
ব্যবসায় আন্তর্জাতিক সাফল্য
আপনার কোম্পানির লোগো এমনভাবে ডিজাইন করুন, যাতে লোগোর ওপর একটা ওয়ার্ল্ড ম্যাপ থাকে। যে যে দেশের সঙ্গে আপনার ব্যবসায়িক সম্পর্ক চলছে, সেই সেই দেশ লাল দিয়ে হাইলাইট করুন, আর যে যে দেশে ব্যবসা ছড়াতে চান, সেই দেশ সবুজ দিয়ে মার্ক করুন। লাল স্বীকৃতির প্রতীক আর সবুজ উন্নতি ও বৃদ্ধির প্রতীক
কেরিয়ারে দীর্ঘদিন স্ট্রাগল
আপনার ‘চি’ কিছুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ির উত্তর দিকে একটা জলের ফাউন্টেন বা অ্যাকোয়ারিয়াম রাখুন। ফোয়ারা যেন নিচুতে রাখা হয়। জোয়ারের সময় জল যেমন ভয়ংকর, তেমনই বেশি উচ্চতায় রাখা জলও ভয়ংকর। বাড়ি যদি উত্তরমুখী হয়, আর সামনের দরজার দিকে যদি ফাউন্টেনটি থাকে, তা হলে বয়ে চলা জল বাড়িতে ভাগ্য আর সচ্ছলতা আনে। কোনও কিছু যা ফাউন্টেনের উল্টো দিকে রাখা হয়েছে, তা যেন জলের গতিতে বাধা না দেয়। বাড়ি যদি দক্ষিণমুখী হয়, তা হলে উত্তরে জলের ফোয়ারা রাখা মারাত্মক। কারণ, মানুষের পিছন দিক থেকে শক্ত বস্তুর সাপোর্টের প্রয়োজন। জল, যা সচল, গতিশীল, অস্থির, তা মজবুত সাপোর্ট দিতে পারে না।
বাসস্থান ও টাকাপয়সা
দক্ষিণ-পূর্ব দিক। রুলিং এলিমেন্ট কাঠ, মাদার এলিমেন্ট জল।
দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সক্রিয় করা
- সম্পত্তির কাগজপত্র, উইল, ব্যাঙ্কের নথি ও টাকাপয়সা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র এইদিকে রাখুন।
- একটা লাল খামে টাকা ভরে লাল রিবন দিয়ে বেঁধে এখানে রেখে দিন।
- ন’টা রুপোর মুদ্রা একটা লাল কাগজে মুড়ে, রুপোর বাক্সে ভরে, লাল সুতো দিয়ে বেঁধে বাগানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পুঁতে রাখুন। এটি গুপ্তধনের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এবং গৃহের সদস্য ও উত্তরসূরির মধ্যে অর্থপ্রাপ্তির ভাগ্য নিয়ে আসবে।
- বাগান, বারান্দা বা শোয়ার ঘরের দক্ষিণ- পূর্ব কোণে সবুজ গাছগাছালি রাখুন। লেবু, জেড, ফার্ন বা মানিপ্লান্ট কার্যকরী।
- বাগানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সবুজ আলো জ্বাললে বা দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ঘরে সবুজ রঙের কিছু রাখলে ওই অংশের ‘চি’ ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে।
- এই অংশে একটা বোলে জল ভরে রাখুন যাতে পাখিরা এসে স্নান করতে পারে । ডাস্টবিন, ঝাঁটা বা ন্যাকড়া রাখবেন না। বিশ্বাস করা হয়, এগুলো আপনার টাকাপয়সা ধুয়েমুছে নিয়ে যাবে।
- এই দিকে ভারী কোনও বস্তু রাখবেন না। টাকাপয়সার ভাগ্য চাপা পড়ে যাবে।
লাফিং বুদ্ধ
ধনসম্পত্তির প্রতীক। টাকার ঝোলা নিয়ে বসে থাকে। প্রধান দরজার ডান দিকে একটা টুলে রাখুন। বাড়িতে যে পজিটিভ এনার্জি ঢুকছে, তাকে স্বাগত জানায় লাফিং বুদ্ধ। লাফিং বুদ্ধ উপহারে পেতে হয় এরকম কোনও মানে নেই। কেন কেউ আপনাকে এমনি এমনি ভাল ভাগ্য উপহার দিতে যাবে? তার থেকে নিজেই কিনে নিন। হাতি ক্ষমতা, প্রতিপত্তির প্রতীক বলা হয়, আপনি যা চান, তার প্রতীকী কিছু যদি হাতির পিছনে রাখেন, তা হলে তা পূরণ হবেই। কাজেই, একটা বোলে জল ভরে, ছ’সাতটা রুপোর কয়েন ফেলে একটা ধাতুর তৈরি হাতির মূর্তির পিছনে রেখে, শোয়ার ঘরের উত্তরে রাখুন। তবে, প্রতিদিন যেন জল পরিবর্তন করা হয়
ফাং শুই শাস্ত্রে ব্যবহৃত কিছু শব্দের অর্থ
- চি: প্রতিটি বস্তুর সহজাত এনার্জি বা শক্তি।
- ব্রহ্মস্থান: বাড়ির কেন্দ্রস্থল।
- ফ্লাইং স্টারস: সূত্র যা দিয়ে বাড়ির উপকারী ও ক্ষতিকারক অংশ নির্ণয় করা হয়।
- লো শু গ্রিড: একটি জাদুকরী বর্গক্ষেত্র যার নটা বর্গে কিছু সংখ্যা থাকে, যাদের যোগফল হয় পনেরো। এই নম্বর বাড়ির ফ্লাইং স্টার গণনায় সাহায্য করে।
- তাই চি: বাড়ির কেন্দ্রস্থল যা ধনসম্পত্তি, স্বাস্থ্য বজায় রাখে
- শার চি: ধ্বংসাত্মক শক্তি
- ইন ও ইয়াং এনার্জি: ইন নিষ্ক্রিয় এনার্জি, ইয়াং সংক্রিয় এনার্জি
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বাস্তু কি সত্যিই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে?
বাস্তুশাস্ত্রের অনুসারীরা মনে করেন বাড়ির পরিবেশ ও দিকনির্দেশ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভাগ্য পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা হিসেবে বাস্তু নিয়মকে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
কোন দিকে aquarium রাখা হয়?
কিছু প্রচলিত বাস্তু ও Feng Shui ধারণায় aquarium উত্তর বা পূর্ব দিকে রাখার কথা বলা হয়। তবে aquarium-এর অবস্থান নির্ধারণের সময় ঘরের ব্যবহার, electrical safety এবং মাছের যত্নের বিষয়ও বিবেচনা করা উচিত।
আলমারি কোন দিকে রাখা ভালো?
প্রচলিত বাস্তু মতে ভারী আলমারি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আলমারির মুখ উত্তর দিকে রাখার ধারণাও রয়েছে।
Career-এর জন্য কোন দিক গুরুত্বপূর্ণ?
Feng Shui-এর প্রচলিত ধারণায় উত্তর দিককে career ও professional growth-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
নাম-যশের জন্য কোন দিক গুরুত্বপূর্ণ?
Feng Shui-এর প্রচলিত ধারণায় দক্ষিণ দিককে reputation, fame ও recognition-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
অর্থ ও সম্পত্তির জন্য কোন দিক গুরুত্বপূর্ণ?
Feng Shui-এর কিছু পদ্ধতিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিককে wealth ও prosperity-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়।
শেষ কথা
বাস্তু ও Feng Shui বহুদিন ধরে ঘর, স্থাপত্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্যবাহী ধারণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কেউ এগুলিকে আধ্যাত্মিক বা সাংস্কৃতিক বিশ্বাস হিসেবে অনুসরণ করেন, আবার কেউ ঘর সাজানোর একটি traditional framework হিসেবে ব্যবহার করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আলো-বাতাসযুক্ত এবং সুশৃঙ্খল বাড়ি তৈরি করা।
জীবনে উন্নতির জন্য বাস্তু অনুসরণ করতে চাইলে তার সঙ্গে পরিশ্রম, শিক্ষা, দক্ষতা, সঠিক পরিকল্পনা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং বাস্তব সিদ্ধান্ত যুক্ত করুন। তাহলেই ঘর সাজানোর পাশাপাশি জীবনযাপনও আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হতে পারে।
MakeMyNotes.in-এ এমন আরও শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক বিষয় পড়তে আমাদের অন্যান্য পোস্টও দেখুন।
Disclaimer
এই নিবন্ধটি বাস্তুশাস্ত্র ও Feng Shui-এর প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এখানে কোনো আর্থিক, চিকিৎসা, সম্পত্তি বা পেশাগত সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য, আইন, সম্পত্তি বা আর্থিক বিষয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।



