‘সূর্য’সেনার বিশ্বজয়
Surjo Senar Bishwajoy Rochona Bengali
আবারও একটা রবিবারের সন্ধে। সেই বিশ্বকাপ ফাইনাল! সেই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম! আর অবশেষে শাপমোচন।
আড়াই বছর আগে এই মাঠেই যে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল ভারতের এবার সেই মাঠেই হল বিশ্বজয়। ঘরেই থাকল ঘরের ট্রফি। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতল ভারতীয় যুবরা। এদিন টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। কিউয়ি পেসারদের দিয়ে ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলাই ছিল মিচেল স্যান্টনারের উদ্দেশ্যে। তবে মাত্র ছয় ওভারেই ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রতিপক্ষের সেই উদ্দেশ্যকে ভেস্তে দেয়। সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার যুগলবন্দিতে পাওয়ার প্লে–তেই ভারতের স্কোরবোর্ড পৌঁছোয় ৯২–এ, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ— তাও আবার ফাইনালে। টুর্নামেন্টের শুরুতে ডাগ আউটে বসে থাকা ছেলেটাই যে বিশ্বজয়ের কান্ডারি হয়ে উঠবে তা কে ভেবেছিল! শেষ তিন ম্যাচে সঞ্জুর দুর্ধর্ষ ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে গোটা বিশ্বকে, এদিনও তিনি ৪৬ বলে ৮৯ রান করেন। নিজের শতরান অধরা থাকলেও প্রতিপক্ষের কাছে ২৫৬ রানের বিরাট টার্গেট নির্ধারণের সূচনা হয় তাঁর ব্যাট ধরেই।
কথায় বলে, ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে‘— নিন্দুকদের জবাব দিতে যেন ফাইনাল ম্যাচটিকেই বেছে নিয়েছিলেন এই ওস্তাদ। একের পর এক চার– ছয়ে গ্যালারিতে রব উঠল ‘অভি–শেকিং’। আসলে এই দিনটিই যেন হয়ে উঠেছিল কামব্যাকের ও রেকর্ড গড়ার উপাখ্যান। অভিষেক শর্মা থেকে অক্ষর প্যাটেল— কামব্যাকের তালিকায় কে নেই! আর এদিন সর্বমোট ১৯টি রেকর্ড গড়েছে ভারত। প্রথমত এটি দেশের মাঠে ভারতের প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বজয়। এ ছাড়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বাধিক রান, সর্বাধিক ব্যবধানে জয় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি— নজির অনেক। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের দিকে তাকালে চোখে পড়ে, গোটা ম্যাচ জুড়েই স্যান্টনারের একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত। ফলে তা ভারতের একপাক্ষিক জয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২০২৬–এর বিশ্বজয় একঝাঁক তরুণ তুর্কির বিশ্বজয়। ব্যাটিং স্কিলের পাশাপাশি এদিন গোটা ভারত দেখেছিল ‘বাপু ম্যাজিক‘। মাত্র ২৭ রানের বিনিময়ে অক্ষর প্যাটেলের নেওয়া দুর্ধর্ষ তিন উইকেট ছিল সমালোচকদের মুখের উপর যোগ্য জবাব। আর বুমরার চার উইকেটের চোখরাঙানিতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড তাই এদিন ম্যাচের সেরা তিনিই।
মাত্র ১৫৯ রানেই স্বপ্নভঙ্গ হল নিউজিল্যান্ডের। সবরমতী তীরে উঠল তিরঙ্গা। এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই রোহিত শর্মার মুখে শোনা গিয়েছিল, ‘হিস্ট্রি রিপিট করেঙ্গে, হিস্ট্রি ডিফিট করেঙ্গে‘— ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি তো হলই উপরন্তু পুরোনো ইতিহাসের নজির ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা করল ভারতীয় ক্রিকেট টিম। সাক্ষী থাকলেন ক্রিকেটবিশ্বের মহারথীরা। টি–টোয়েন্টির নতুন শাসক এখন ভারত আর সেই বিজয়রথের সারথি সূর্যকুমার যাদব, পথপ্রদর্শক কোচ গৌতম গম্ভীর। এদিন গুরু গম্ভীরের মুখেও অবশেষে ফুটে উঠল তৃপ্তির হাসি। ক্রিকেটার এবং কোচ উভয় ভূমিকাতেই তিনি এখন বিশ্বজয়ী। বিশ্বকাপের গায়ে অক্ষত থাকুক ভারতের নাম, অব্যাহত থাকুক এই জয়ের ধারা— আপামর ভারতবাসীর এটাই কামনা।