পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প
Poshchim Bongo Rajyo Sorkarer Notun Prokolpo Rochona Bengali
পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বদাই রাজ্যবাসীর কল্যাণচিন্তা করে এসেছে। এমনকি করোনা পরিস্থিতিতেও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মানুষের সুবিধার্থে চালু করেছিলেন। বিভিন্ন প্রকল্প। আর ২০২৬–এর বাজেটে আরও বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন তিনি এবং পুরনো প্রকল্পগুলিরও নবীকরণ ঘটেছে। প্রত্যেক পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করা হয়। স্বাস্থ্যসাথী একটি স্মার্টকার্ড পরিসেবা, যেটি কোনো পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠা মহিলার নামে হয়। এই কার্ডটির মাধ্যমে স্বামী–স্ত্রী, তাদের দুজনের বাবা–মা, নির্ভরশীল সন্তানসন্ততি, পরিবারভুক্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা, ইএসআই, সরকার পোষিত স্বাস্থ্যবিমার সাহায্য পান না অথবা সরকারি চাকরি করলেও চিকিৎসাভাতা পান না এমন পরিবারের মহিলা সদস্য এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা পরিবারপিছু বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পাবেন নিজস্ব ও অন্য রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পটি যথেষ্ট জনপ্রিয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ স্মার্টকার্ডভিত্তিক পরিসেবা দেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ১০৭ লক্ষ ব্যক্তি উপকৃত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯৭.২৪ শতাংশ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন।
চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী নন এমন পঁচিশ থেকে পঁয়ষট্টি বছর বয়সি মহিলাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনন্য প্রয়াস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারী মহিলাকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং অবশ্যই তাকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এই প্রকল্পে আবেদনকারী মহিলার আবেদন মঞ্জুর হলে তিনি আর্থিক ভাতা পাবেন। আবেদনকারী মহিলা সাধারণ শ্রেণিভুক্ত হলে মাসিক ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি শ্রেণিভুক্ত হলে মাসিক ১৭০০ টাকা ভাতা পাবেন।
অর্থের অভাবে মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ–সহ ভারতের একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রদান প্রকল্পটি চালু করে। পশ্চিমবঙ্গবাসী শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমনকি গবেষণা স্তরেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ নিতে পারে। এই প্রকল্পের সুবিধা এটাই যে, শিক্ষার্থী ঋণ নেওয়া টাকা ১৫ বছরের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ (চাকুরিরত অবস্থায়) অথবা ৩ শতাংশ (শিক্ষার্থী অবস্থায়) সুদে ফেরত দিতে পারবে। শিক্ষার্থীরা সরকারি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভরতি হলে, এমনকি কোচিং সেন্টারে চাকরির পড়াশোনা করলেও এই সুযোগ পাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঋণপ্রাপ্ত টাকা সরাসরি কোচিং সেন্টার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিতে পারবে। মোট ঋণপ্রাপ্ত টাকার ৩০ শতাংশ বই ও কম্পিউটার কেনা বা শিক্ষামূলক ভ্রমণের কাজে লাগাতে পারবে। তবে এই ঋণপ্রাপ্ত টাকার যাতে কোনো অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীকে সচেতন থাকতে হবে।
এ ছাড়াও বেকার ভাতা হিসেবে যুবশ্রী তো ছিলই, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক–যুবতীদের জন্য নব উদ্যোগে যুবসাথী প্রকল্পও চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে থাকা বেকারদের মাসিক ১৫০০ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷
গ্রাম–শহর নির্বিশেষে রাস্তার উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরও একটি অভিনব উদ্যোগ হল পথশ্রী–রাস্তাশ্রী। এই প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে (২০২৫–২৬) প্রায় ৩০,০০০ কিমি–রও বেশি নতুন পথ নির্মাণ ও জীর্ণ রাস্তা সংস্কারের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় এই কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গবাসী কৃষকদের আর্থিক সাহায্যদানের জন্য ২০২১ সালের ১৭ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কৃষি দফতরের অধীনে কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের সূচনা করেছে। এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কৃষকেরা খরিফ ও রবিশস্য চাষ শুরু করার আগে চাষের উপকরণ কেনার জন্য অর্থসাহায্য পাবেন। জমির পরিমাণ এক একরের বেশি হলে বছরে দুই কিস্তিতে সর্বাধিক দশ হাজার টাকা এবং জমির পরিমাণ এক একর বা তার কম হলে দুই কিস্তিতে আনুপাতিক হারে কমপক্ষে চার হাজার টাকা সাহায্য পাবেন। আঠারো থেকে ষাট বছর বয়সি কৃষক মারা গেলে তার উত্তরাধিকারী এককালীন দুই লক্ষ টাকা অনুদান পাবে।
এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হল— ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী, বাংলার বাড়ি প্রভৃতি। পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবী এবং দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী ব্যক্তি। ফলে সরকারের এই নব প্রকল্পগুলি সত্যিই ভীষণ কার্যকরী হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে দুর্দশা কাটিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখার অধিকার দিয়েছে বলা চলে।