ধাঁধা আর হেঁয়ালি
বুদ্ধির ধাঁধা উত্তর সহ | Buddhir Dhadha Uttor Soho | Bangla Funny Riddles with Answers | Bangla Dhadha With Answers
প্রথম ধাঁধা
চটপট বলো দেখি—
ক। কোন্ জায়গা কাকের বাসা ?
খ। দাঁত মাজা যায় কোন্ জায়গা দিয়ে ?
গ। কোন্ জায়গা দারুণ ঠাণ্ডা আর দারুণ মিষ্টি ?
ঘ। কোন্ জায়গা সমুদ্র ?
দ্বিতীয় ধাঁধা
চল্লিশ কিলোর এক বিরাট বাটখারা ছিল এক মুদির। শুধু ওই একটিমাত্র বাটখারা নিয়ে তো আর দোকান চালানো যায় না। তাই সে অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে বাটখারাটাকে চার টুকরো করে নিল। চারটে চার মাপের টুকরো। চার রকম ওজন। কিন্তু তাই দিয়েই সে দিব্যি কাজ চালিয়ে নিতে পারে। এক কিলো থেকে চল্লিশ কিলো পর্যন্ত ওজন করা আর শক্ত কাজ নয়। বলতে পারো, চারটে টুকরো কীভাবে ভাগ করেছিল সেই মুদি ?
তৃতীয় ধাঁধা
একটি শব্দের আরম্ভে যা রয়েছে, শেষে তাই রয়েছে, মাঝে লুকিয়ে রয়েছে ইচ্ছে। শব্দটা কী বলতে পারো ?
চতুর্থ ধাঁধা
নীচে কয়েকজন দেব-দেবী আর তার বাহনের নাম ছাপা হল। কিন্তু সব ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে। ঠিকঠাক করে বসাতে পারো ?
দেব-দেবী বাহন দেব-দেবী বাহন
বিশ্বকর্মা মৃগ মনসা ছাগ
বিষ্ণু অশ্ব গঙ্গা গরুড়
অগ্নি গর্দভ শীতলা হস্তী
সূর্য মকর ষষ্ঠী হংস
যম বিড়াল পবন মহিষ
পঞ্চম ধাঁধা
নীচে ছটা জায়গার নাম দেওয়া হল। এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তোমাদের অতি প্রিয় এক চরিত্রের নাম। নামটা কী, বার করতে হবে।
১ কাগোশিমা
২ ভিয়েনা
৩ আন্দামান
৪ সফেদাবাদ
৫ ডুলুস
৬ মাদাগাস্কার
ষষ্ঠ ধাঁধা
নীচের চিঠিটায় কিছু কিছু ‘—’ চিহ্ন দেওয়া আছে। মানানসই কিছু ফল বা তরকারির নাম বসালেই চিঠিটার মর্ম উদ্ধার করা সম্ভবপর। দেখ তো, পার কি-না ?
ভাই —ক,
তুমি যে নিরাপদে —গুড়িতে পৌঁছে গিয়েছ, এ-খবর পেয়ে —রা নিশ্চিন্ত হলাম। এ— অত টাকা ও সোনার অ—র নিয়ে রাতের গাড়িতে যাওয়া খুবই ভয়ের। প্রায়ই তো খা—রি ডাকাতির কথা শুনি। কোনো —স্তর যে ঘটেনি ঈশ্বরের অ— অনুগ্রহে বলতে হবে।
—শেদপুর থেকে ন— এসেছিল কাল। ওর ছেলে ন—কিশোরের চাকরির জন্য —শ করতে। ছেলেটি তো অকাল—, পড়াশুনোয় অষ্ট—, টেস্টে স্কুলেই অ্যা— করেনি। এখান থেকে গেল দিদির বাড়ি, ওর দিদিরা —ডাঙ্গার ভাড়া বাড়ি ছেড়ে এখন অল্প দূরে —গাছিতে ফ্ল্যাট কিনেছে। জামাইবাবু —পাহাড়ীতে কারখানা খুলেছেন। তবে যা কড়া লোক, নিজের নীতি থেকে এ—লও নড়বেন বলে মনে হয় না। ওর অবস্থা বিরাট ভরসা, বহু আগে থেকে — করে রেখেছে। গাছে —, গোঁফে তেল আর কাকে বলে। পারলে অবশ্য এই বাজারে — —ভ নয়।
আজ এখানেই শেষ —ম। ইতি
—ল
সপ্তম ধাঁধা
কানতাকৃগো পাকামাকোতু
না-না, কোনো বিদঘুটে ভাষা নয়। কলকাতা থেকে শুরু করে পূর্ব উপকূল ধরে ভারতের দক্ষিণপ্রান্তে পৌঁছে ফের পশ্চিম উপকূল ধরে গুজরাট পর্যন্ত পৌঁছনোর পথের পাঁচটি নদী ও পাঁচটি বন্দরের নামের আদ্যক্ষর এর মধ্যে লুকনো। সংকেত ভেদ করে নামগুলো বের করতে পার ? পর পর সাজিয়ে বলতে হবে কিন্তু।
অষ্টম ধাঁধা
এক চাষী মৃত্যুকালে বলে গিয়েছিল যে, তার সম্পত্তির ১/৩ অংশ পাবে বড় ছেলে, ১/৪ অংশ মেজো ছেলে, ১/৬ অংশ সেজো ছেলে, ১/৮ অংশ ছোট ছেলে আর ১/৯ অংশ মেয়ে।
তার মৃত্যুর পর দেখা গেল, ওইভাবে ভাগ করা অসম্ভব। কেননা, সম্পত্তি বলতে শুধু কয়েকটি গোরু। আস্ত গোরু, তো আর টুকরো করে ভাগ করা যায় না। ছেলে-মেয়েরা পড়ে গেল মহা ফ্যাসাদে। এক প্রতিবেশী ভদ্রলোক সব শুনে চট করে একটা সমাধানের পথ বাতলে দিলেন। তিনি করলেন কী, নিজের গোয়াল থেকে একটি গোরু ধার দিলেন ওদের। বললেন, এটাকে ধরে নিয়ে প্রথমে যে যার ভাগ বুঝে নাও। পরে আমারটা ফেরত দিয়ে দিয়ো। তাহলেই সমস্যা মিটে যাবে।
সত্যিই মিটে গেল। প্রত্যেকে খুশি মনে তার অংশ বুঝে নিল আর প্রতিবেশীটিও তার গোরু ফিরে পেলেন। বলতে পারো, মোট কটা গোরু ছিল সেই চাষীর আর ছেলে-মেয়েরা কে কটা করে পেল ?
নবম ধাঁধা
এক মহিলা তাঁর জন্মদিনে পাঁচ জন প্রতি বেশিনীকে চায়ের নেমন্তন্ন করেছেন। গোলমতন একটা টেবিলে গৃহকর্ত্রীসমেত মোট ছ-জন মহিলা একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন। মহিলাদের নাম শ্রীমতী মমতা, শ্রীমতী সাধনা, শ্রীমতী মায়া, শ্রীমতী নমিতা, শ্রীমতী জয়া ও শ্রীমতী দেবী। নামগুলো, বলা বাহুল্য, পরপর বলা হয়নি।
এদের মধ্যে একজন কানে কম শোনেন, একজন দারুণ মোটাসোটা, একজন বড়ো বেশি কথা বলেন, একজন খুব পরোপকারী, একজন শ্রীমতী দেবীর সম্পর্কিত বোন, একজন নিমন্ত্রণকর্ত্রী।
দেবীর বোন বসেছেন জয়ার ঠিক উলটোদিকে, মুখোমুখি। কানে খাটো যিনি, তিনি বসেছেন সাধনার উলটোদিকে, সাধনা আবার পরোপকারী মহিলা ও দেবীর বোনের মাঝখানে। মোটাসোটা মহিলাটি মায়ার মুখোমুখি, কানে খাটো মহিলার পাশে এবং দেবীর বোনের ডান পাশে। দেবীর বোনের উলটোদিকে যে মহিলা তাঁর এবং সাধনার মাঝখানে বসেছেন পরোপকারী মহিলাটি। মমতা—যাঁর সঙ্গে নাকি প্রত্যেকেরই দারুণ ভাব, বিশেষ করে দেবীর—
বসেছেন মোটাসোটা মহিলার পাশে এবং নিমন্ত্রণকর্ত্রীর উলটোদিকে। প্রত্যেকটি মহিলাকে আলাদা করে চিনে কে কোথায় বসেছে বলা যায় কি-না, দেখ তো ?
দশম ধাঁধা
কোন্ শব্দের শুরু বা শেষ নাই ?
উত্তর
১। (ক) কাকদ্বীপ, (খ) দাঁতন, (গ) কুলপী, (ঘ) সাগর।
২। ১ কিলো, ৩ কিলো, ৯ কিলো এবং ২৭ কিলো। হিসেব করে দেখলে এই চার রকম বাটখারা দিয়েই এক থেকে চল্লিশ কিলো পর্যন্ত ওজন করা সম্ভবপর।
৩। যাচ্ছেতাই (যা+ইচ্ছে+তাই)
৪। বিশ্বকর্মা—হস্তী, বিষ্ণু—গরুড়, অগ্নি—ছাগ, সূর্য—অশ্ব, যম—মোষ, মনসা—হংস, গঙ্গা—মকর, শীতলা—গর্দভ, ষষ্ঠী—বিড়াল, পবন—মৃগ।
৫। ‘গোয়েন্দা ফেলুদা‘। প্রতিটি জায়গায় শুধু দ্বিতীয় অক্ষর পড়ে যাও—তাহলেই পাওয়া যাবে এই প্রিয় চরিত্রের নাম।
৬। শসা, জলপাই, আম, কলা, লংকা, লিচু (খালি চুরি), আতা, সীম, জাম, কুল, ওল, সুপারি, কুষ্মাণ্ড, রম্ভা, লাউ, নারকেল, কাঁকুড়, বেল, কচু, তাল, কাঁঠাল, কমলা (কম লাও), করলা, কপি।
৭। গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী, তাপ্তী, নর্মদা—এই পাঁচটি নদী এবং পারাদ্বীপ, তুতিকোরিন, কোচিন, ম্যাঙ্গালোর, কান্ডালা—এই পাঁচটি বন্দরের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে ওই বিদঘুটে শব্দ দু’টি তৈরি হয়েছে।
৮। ৭১টি গোরু। বড় ছেলে ২৪, মেজ ১৮, সেজ ১২, ছোট ৯ এবং মেয়ে পাবে ৮টি গোরু।
৯। যেভাবে বসেছেন ছ-জন মহিলা তা হল, সাধনা, মায়া, জয়া, মমতা, দেবী ও নমিতা। এদের মধ্যে সাধনা নিমন্ত্রণকর্ত্রী, পরোপকারী মায়া, জয়া বেশী কথা বলেন, কানে খাটো মমতা, দেবী মোটাসোটা এবং নমিতা হলেন দেবীর বোন।
১০। বানাই। শুরু ‘বা‘ এবং শেষ ‘নাই‘