
সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2 সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2
Hello Viewers Today’s We are going to Share WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2
সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget Question Answer in Bengali.
The Complete Syllabus of WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2
সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget Notes in Bengali PDF Share with you.
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2 সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget
Solutions in Bengali Which you Can Download PDF Notes HS 2nd Year Economics Solutions in Bengali for
using direct Download Link Given Below in This Post.
📘 Financing of Government Budget (সরকারি বাজেটের অর্থায়ন)
🔹 ভূমিকা : সরকারি বাজেট হল একটি আর্থিক বছরের জন্য সরকারের আয় (Receipts) ও ব্যয়ের (Expenditure) পরিকল্পনা। এটি অর্থনীতির নীতি বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার।
🟢 (a) Public Finance vs Private Finance
বিষয় Public Finance (সরকারি অর্থ) Private Finance (ব্যক্তিগত অর্থ)
উদ্দেশ্য জনকল্যাণ (Social Welfare) ব্যক্তিগত লাভ (Profit Maximization)
নিয়ন্ত্রণ সরকার ব্যক্তি/সংস্থা
আয় উৎস কর, ঋণ, অনুদান বেতন, ব্যবসা
ব্যয়ের ধরণ সমাজ উন্নয়ন, অবকাঠামো ব্যক্তিগত প্রয়োজন
ঘাটতি হতে পারে (Deficit allowed) সাধারণত এড়ানো হয়
👉 মূল পার্থক্য:সরকার জনকল্যাণের জন্য কাজ করে, কিন্তু ব্যক্তি লাভের জন্য।
🟢 (b) Sources of Government Revenue
1️⃣ Tax Revenue (কর রাজস্ব)
🔸 Direct Tax (সরাসরি কর):যিনি কর দেন তিনিই বহন করেন। উদাহরণ: আয়কর, কর্পোরেট ট্যাক্স
🔸 Indirect Tax (পরোক্ষ কর):করের বোঝা অন্যের উপর চাপানো যায়। উদাহরণ: GST, কাস্টম ডিউটি
🔹 Progressive vs Proportional Tax
ধরন ব্যাখ্যা
Progressive Tax আয় বাড়লে করের হার বাড়ে
Proportional Tax সকলের জন্য একই হার
🔹 GST (Goods and Services Tax)
এক দেশ, এক কর ব্যবস্থা
একাধিক পরোক্ষ করের পরিবর্তে একটি unified tax
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে
2️⃣ Non-Tax Revenue (অ-কর রাজস্ব): সরকারি সংস্থার লাভ (PSU dividend),ফি ও জরিমানা,সুদ আয় ও লাইসেন্স ফি
👉 এগুলো সরকারকে ঋণ ছাড়াই আয় করতে সাহায্য করে
🟢 (c) Concept of Government Budget & Budget Deficit
🔹 Government Budget:একটি আর্থিক বছরের জন্য সরকারের আয় ও ব্যয়ের হিসাব।
🔴 Budget Deficit (বাজেট ঘাটতি): যখন ব্যয় > আয়
🔹 Types of Deficit
1️⃣ Revenue Deficit
👉 Revenue Expenditure > Revenue Receipts
দৈনন্দিন খরচের ঘাটতি
অর্থনীতিতে “dissaving” বোঝায়
2️⃣ Fiscal Deficit
👉 Total Expenditure > Total Receipts (excluding borrowing)
সরকারের মোট ঋণের প্রয়োজন বোঝায়
3️⃣ Primary Deficit
👉 Fiscal Deficit – Interest Payment
প্রকৃত ঋণের চাপ বোঝায়
🔹 Monetization of Fiscal Deficit
RBI থেকে টাকা ধার নিয়ে deficit পূরণ
নতুন টাকা সৃষ্টি হয়
ফলে 👉 Inflation (মুদ্রাস্ফীতি) বাড়ে
🔹 Balanced Budget Multiplier
Balanced budget হলেও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়
Multiplier = 1
👉 অর্থাৎ সরকার আয় = ব্যয় রাখলেও অর্থনীতিতে বৃদ্ধি হয়
🟢 (d) Public Debt (সরকারি ঋণ)
🔹 Internal Debt (অভ্যন্তরীণ ঋণ)
দেশের ভিতর থেকে নেওয়া
উদাহরণ: ব্যাংক, জনগণ
🔹 External Debt (বহিঃঋণ)
বিদেশ থেকে নেওয়া
উদাহরণ: IMF, World Bank
🔹 Short Term vs Long Term Debt
ধরন সময়কাল
Short Term Debt ১ বছরের কম
Long Term Debt ১ বছরের বেশি
🔹 Public Debt এর গুরুত্ব
উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ জোগায়
কিন্তু অতিরিক্ত হলে Debt Trap হতে পারে
📌 উপসংহার:সরকারি বাজেটের অর্থায়ন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর, ঋণ এবং অন্যান্য উৎসের মাধ্যমে সরকার তার ব্যয় পরিচালনা করে। তবে অতিরিক্ত ঘাটতি ও ঋণ অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: সরকারি বাজেট বলতে কী বোঝো?
উঃ একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে (ভারতে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ) সরকারের সম্ভাব্য আয় এবং প্রস্তাবিত ব্যয়ের সুসংবদ্ধ বার্ষিক আর্থিক বিবরণীকে সরকারি বাজেট বলা হয়।
প্রশ্ন ২: প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের একটি প্রধান পার্থক্য লেখো?
উঃ প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে করের ঘাত ও আপতন একই ব্যক্তির ওপর পড়ে (যেমন: আয়কর), কিন্তু পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে করের ভার অন্যের ওপর অপসারিত করা যায় (যেমন: GST)I
প্রশ্ন ৩: মূলধনী ব্যয় (Capital Expenditure) কাকে বলে?
উঃ সরকারের যে ব্যয়ের ফলে নতুন সম্পদ সৃষ্টি হয় (যেমন : সেতু নির্মাণ) অথবা ঋণের দায় কমে, তাকে মূলধনী ব্যয় বলা হয়।
প্রশ্ন ৪: রাজস্ব ঘাটতি (Revenue Deficit) কী?
উঃ সরকারের মোট রাজস্ব ব্যয় যখন মোট রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন সেই পার্থক্যকে রাজস্ব ঘাটতি বলা হয়। এটি সরকারের দৈনন্দিন কাজ চালানোর অক্ষমতা প্রকাশ করে।
প্রশ্ন ৫: ফিসক্যাল ঘাটতি (Fiscal Deficit) বলতে কী বোঝো?
উঃ সরকারের মোট ব্যয় (রাজস্ব + মূলধনী) থেকে ঋণ গ্রহণ বাদে মোট আয়ের পার্থক্যকে ফিসক্যাল ঘাটতি বলা হয়। এটি সরকারের মোট ঋণের প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ৬: বাজেট সারপ্লাস বা উদ্বৃত্ত বাজেট কাকে বলে?
উঃ কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয়ের পরিমাণ যদি প্রস্তাবিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়, তবে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলা হয়।
প্রশ্ন ৭: কর-বহির্ভূত রাজস্বের দুটি উদাহরণ দাও?
উঃ সরকারি সংস্থার লভ্যাংশ, প্রশাসনিক ফি (যেমন: লাইসেন্স ফি), জরিমানা এবং সরকারি ঋণের ওপর প্রাপ্ত সুদ।
প্রশ্ন ৮: প্রাথমিক ঘাটতি (Primary Deficit) কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
উঃ ফিসক্যাল ঘাটতি থেকে পূর্বের ঋণের জন্য দেওয়া সুদের পরিমাণ বিয়োগ করলে প্রাথমিক ঘাটতি পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৯: রাজকোষ নীতি বা ফিসক্যাল পলিসি কী?
উঃ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের আয় (কর), ব্যয় এবং ঋণ সংক্রান্ত নীতিকে রাজকোষ নীতি বলা হয়।
প্রশ্ন ১০: শূন্য-ভিত্তিক বাজেট (Zero Based Budgeting) কী?
উঃ এটি এমন এক বাজেট পদ্ধতি যেখানে প্রতিটি ব্যয়ের খাতকে নতুন করে বিবেচনা করা হয় এবং পূর্ববর্তী বছরের বরাদ্দের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ)
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2 সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget
Today’s We have Shared in This Post WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2 সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget
Suggestions with you. WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 2
সরকারি বাজেট ও রাজকোষ নীতি – Financing of Government Budget Questions Answers in Bengali I Hope, you
Liked The information About The Class 12 Economics Textbook Solutions
in Bengali. If you liked Class 12 Economics Textbook PDF Notes in Bengali
Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.
প্রশ্ন ১১: সরকারি বাজেটের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
সরকারি বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। বাজেটের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করার চেষ্টা করে।
সম্পদের পুনর্বণ্টন:
বাজেটের মাধ্যমে সরকার ধনীদের ওপর বেশি কর চাপিয়ে সেই অর্থ দরিদ্রদের কল্যাণে (ভর্তুকি বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প) ব্যয় করে। এর ফলে সমাজে আয় ও সম্পদের বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
আর্থিক স্থিতিশীলতা:
অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বা মন্দার সময় সরকার বাজেটের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে। মুদ্রাস্ফীতির সময় ব্যয় কমিয়ে এবং মন্দার সময় ব্যয় বাড়িয়ে সরকার দ্রব্যমূল্য ও কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে ৷
সরকারি উদ্যোগের ব্যবস্থাপনা :
রেল, বিদ্যুৎ বা প্রতিরক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থাগুলোর পরিচালনা ও প্রসারের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এটি জনস্বার্থে পরিষেবা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ:
অনগ্রসর অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের জন্য বাজেটে বিশেষ কর ছাড় বা ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় থাকে৷
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি:
বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করা হয়। সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহ দিয়ে সরকার GDP বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে৷
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, একটি সুষ্ঠু বাজেট দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অপরিহার্য দিকদর্শন হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন ১২: ভারতের কর কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা করো?
উঃ ভূমিকা:
ভারতের কর ব্যবস্থা দেশের আয়ের প্রধান উৎস। এটি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিভক্ত এবং সময়োপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে একে আধুনিক করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
দ্বি-স্তরীয় কর কাঠামো:
ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়েই কর ধার্য করার ক্ষমতা রাখে। আয়কর বা কাস্টমস ডিউটি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে, আবার জমি বা পেশার ওপর কর রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিফলন।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের সমন্বয়:
ভারতীয় কর ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ কর (Income Tax) এবং পরোক্ষ কর (GST) উভয়ের গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমানে GST চালুর ফলে কর ব্যবস্থার জটিলতা অনেক কমেছে এবং ‘এক দেশ এক কর’ ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা:
ভারতের আয়কর ব্যবস্থা প্রগতিশীল প্রকৃতির, অর্থাৎ আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে করের হারও বৃদ্ধি পায়। এটি সমাজের দুর্বল শ্রেণির ওপর করের চাপ কমিয়ে উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে বেশি রাজস্ব সংগ্রহে সাহায্য করে।
সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা :
ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় এখন কর জমা দেওয়া এবং রিটার্ন ফাইল করা অনেক সহজ হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হয়েছে এবং ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর ছাড় ও ইনসেনটিভ:
কৃষি আয় ভারতে করমুক্ত রাখা হয়েছে যাতে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ না পড়ে। এছাড়া ক্ষুদ্র শিল্প বা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন কর ছাড়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে।
উপসংহার:
সুতরাং, ভারতের কর কাঠামো সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে।
প্রশ্ন ১৩: ফিসক্যাল ঘাটতি (Fiscal Deficit) বলতে কী বোঝো? এটি নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
সরকারের মোট রাজস্ব ও মূলধনী আয় (ঋণ বাদে) এবং মোট ব্যয়ের মধ্যে যে ব্যবধান থাকে, তাকেই ফিসক্যাল ঘাটতি বলা হয়। এটি মূলত নির্দেশ করে যে সরকারকে সেই বছরে কতটা ঋণ গ্রহণ করতে হবে।
সংজ্ঞা ও তাৎপর্য:
যখন সরকারের নিজস্ব আয় দিয়ে মোট ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না, তখনই ফিসক্যাল ঘাটতি দেখা দেয়। উচ্চ ঘাটতি মানেই দেশের ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে সুদের ভার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ:
এই ঘাটতি কমানোর প্রধান উপায় হলো অনুৎপাদনশীল ব্যয় কমানো। অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি হ্রাস করা এবং প্রশাসনিক খরচ কমিয়ে সরকার ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।
রাজস্ব বৃদ্ধি:
করের ভিত্তি সম্প্রসারণ করা বা কর ফাঁকি রোধ করার মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া সরকারি সংস্থার বিলগ্নীকরণ (Disinvestment) করে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা যায়৷
উন্নয়নমূলক বিনিয়োগ:
কেবল ব্যয় কমানো লক্ষ্য নয়, বরং মূলধনী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত যাতে ভবিষ্যতে দেশের আয় বাড়ে। আয় বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ঘাটতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।
ঋণ ব্যবস্থাপনা:
ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক ঋণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণে গুরুত্ব দিলে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কিছুটা কমে। এফআরবিএম (FRBM) আইনের মাধ্যমে সরকার ঘাটতির একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্ৰা বজায় রাখার চেষ্টা করে।
উপসংহার:
পরিশেষে, নিয়ন্ত্রিত ফিসক্যাল ঘাটতি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন হলেও এর মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে।
প্রশ্ন ১৪: প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের মধ্যে বিস্তারিত পার্থক্য আলোচনা করো?
উঃ
ভূমিকা: কর হলো সরকারের আয়ের প্রধান উৎস। একে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর।
কর হস্তান্তর:
প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে করের ভার বা ঘাত (Impact) অন্য কারোর ওপর স্থানান্তরিত করা যায় না; যিনি করদাতা তাকেই এটি বহন করতে হয় (যেমন: আয়কর)। কিন্তু পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে বিক্রেতা করের ভার ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন (যেমন: GST)।
আর্থিক বোঝা:
প্রত্যক্ষ কর সাধারণত প্রগতিশীল হয়, অর্থাৎ যার আয় যত বেশি তাকে তত বেশি কর দিতে হয়। ফলে এটি ধনীদের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, পরোক্ষ কর ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে একই হারে দিতে হয়, যা গরিবদের জন্য তুলনামূলক বেশি কষ্টকর।
কর ফাঁকি:
প্রত্যক্ষ করে করদাতার আয়ের হিসাব গোপন করে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু পরোক্ষ কর পণ্য কেনার সময় দামের সাথে যুক্ত থাকে বলে এটি ফাঁকি দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
উপসংহার:
সুতরাং, একটি আদর্শ কর ব্যবস্থায় এই দুই প্রকার করের সঠিক ভারসাম্য থাকা জরুরি যাতে সরকারের আয় বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক সাম্য বজায় থাকে।
প্রশ্ন ১৫: সরকারি ব্যয়ের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি কী কী?
উঃ
ভূমিকা: সরকার কেবল কর সংগ্রহ করে না, বরং দেশের সামগ্রিক কল্যাণে সেই অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
দেশের রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বন্দর নির্মাণের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে, যা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়।
সামাজিক কল্যাণ:
শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও অর্থ বরাদ্দ করে।
আয় বৈষম্য দূরীকরণ:
দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের (যেমন: বার্ধক্য ভাতা) মাধ্যমে সরকার গরিব মানুষের আয় বাড়ানোর চেষ্টা করে।
প্রতিরক্ষা ও শাসনকার্য:
দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশকে বাঁচাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পেছনে বড় অংশ ব্যয় করতে হয়।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, সরকারি ব্যয় হলো একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেশের সম্পদকে জনস্বার্থে সর্বাধিক ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন ১৬: রাজস্ব ঘাটতি (Revenue Deficit ) বাড়লে অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়ে?
উঃ
ভূমিকা: যখন সরকারের প্রতিদিনের প্রশাসনিক ব্যয় তার নিয়মিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন তাকে রাজস্ব ঘাটতি বলে।
মূলধনী সম্পদে টান:
রাজস্ব ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারকে অনেক সময় উন্নয়নমূলক কাজের টাকা (Capital Budget) খরচ করতে হয়। এতে দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ সৃষ্টি ব্যাহত হয়।
ঋণের বোঝা বৃদ্ধি:
ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, যা ভবিষ্যতে সুদের বোঝা বাড়িয়ে দেয়।
মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি :
অতিরিক্ত ঘাটতি মেটাতে সরকার অনেক সময় নতুন টাকা ছাপায় বা বেশি ঋণ নেয়, যা বাজারে অর্থের জোগান বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি ঘটাতে পারে ৷
উপসংহার:
সুতরাং, উচ্চ রাজস্ব ঘাটতি একটি অসুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ, যা সরকারের আর্থিক অদক্ষতাকে প্রকাশ করে।
প্রশ্ন ১৭ : ঘাটতি বাজেটের (Deficit Budget) সুবিধা ও অসুবিধাগুলি আলোচনা করো?
উঃ
ভূমিকা: যখন সরকারের আয়ের তুলনায় পরিকল্পিত ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হয়, তখন তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশে এটি খুব জনপ্রিয়৷
সুবিধা:
মন্দার সময় বা বেকারত্ব দূর করতে ঘাটতি বাজেট কার্যকর ভূমিকা নেয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে বাজারে চাহিদা সৃষ্টি হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
অসুবিধা:
এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাজারে পণ্যের জোগানের তুলনায় চাহিদা বেশি হয়ে গেলে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার:
পরিশেষে, ঘাটতি বাজেট তখনই সফল হয় যখন ঋণের টাকা উৎপাদনশীল কাজে (যেমন শিল্প স্থাপন) ব্যয় করা হয় ।
প্রশ্ন ১৮ : রাজকোষ নীতি বা ফিসক্যাল পলিসির প্রধান লক্ষ্যগুলি কী?
উঃ
ভূমিকা: সরকার তার আয়, ব্যয় ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে যে অর্থনৈতিক নীতি পরিচালনা করে তাকে ফিসক্যাল পলিসি বলে।
পূৰ্ণ নিয়োগ :
দেশের বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এই নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দামস্তর স্থিতিশীল রাখা:
মুদ্রাস্ফীতি বা মন্দার হাত থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করে দ্রব্যমূল্য সাধারণের নাগালে রাখা।
আয় বণ্টন :
কর ও ভর্তুকির মাধ্যমে সমাজের ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনা।
উপসংহার:
সংক্ষেপে, একটি স্থিতিশীল ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি গড়ে তোলাই হলো রাজকোষ নীতির মূল উদ্দেশ্য৷
প্রশ্ন ১৯ : কর-বহির্ভূত রাজস্বের (Non-Tax Revenue) উৎসগুলি কী কী?
উঃ
ভূমিকা: কর ছাড়াও সরকার আরও অনেক ক্ষেত্র থেকে নিয়মিত আয় করে থাকে।
প্রশাসনিক আয়:
সরকারি লাইসেন্স ফি, পাসপোর্টের ফি, বিভিন্ন কোর্ট ফি এবং ট্রাফিক জরিমানার টাকা এই খাতের অন্তর্ভুক্ত।
লভ্যাংশ ও লাভ:
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো (যেমন: রেল, তেল সংস্থা) থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সরকারের আয়ের একটি বড় অংশ।
সুদ:
সরকার বিভিন্ন রাজ্য বা সংস্থাকে যে ঋণ দেয়, তার বিনিময়ে প্রাপ্ত সুদও এই তালিকায় পড়ে।
উপসংহার:
কর-বহির্ভূত আয় সরকারের বাজেট ঘাটতি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ২০: একটি আদর্শ কর ব্যবস্থার গুণাবলী আলোচনা করো?
উঃ
ভূমিকা: অ্যাডাম স্মিথের মতে, একটি কার্যকর কর ব্যবস্থায় কয়েকটি নির্দিষ্ট গুণ থাকা উচিত৷ সামর্থ্য :
করদাতার কর দেওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে কর ধার্য করা উচিত (ধনীদের ওপর বেশি, গরিবদের ওপর কম)।
নিশ্চয়তা:
করদাতা কখন, কোথায় এবং কীভাবে কর দেবেন তা আগে থেকে সুনিশ্চিত থাকতে হবে।
মিতব্যয়িতা :
কর সংগ্রহের খরচ যেন সংগৃহীত করের তুলনায় অনেক কম হয়।
উপসংহার:
একটি স্বচ্ছ ও সহজ কর ব্যবস্থা দেশের নাগরিকদের কর দিতে উৎসাহিত করে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়ায়।
প্রশ্ন ২১: ভারতের পরোক্ষ কর সংস্কারে GST-এর ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করো?
উঃ
ভূমিকা: ২০১৭ সালের ১ জুলাই ভারতে পণ্য ও পরিষেবা কর বা GST চালু হয়। এটি ভারতের কর ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে পরিচিত।
এক দেশ এক কর :
আগে ভারতে সেলস ট্যাক্স, ভ্যাট, এক্সাইজ ডিউটির মতো বহুবিধ কর ছিল। GST এই সমস্ত করকে তুলে দিয়ে সারা দেশে অভিন্ন কর ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে ব্যবসার পরিবেশ সহজ হয়েছে।
ক্যাসকেডিং এফেক্ট বা ‘করের ওপর কর’ রোধ :
আগে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত প্রতি স্তরে আলাদা কর দিতে হতো। GST ব্যবস্থায় ‘ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট’ সুবিধার মাধ্যমে করের ওপর কর দেওয়ার সমস্যা দূর হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থা :
GST-এর পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত হয়। এর ফলে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ওপর প্রভাব :
বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে করমুক্ত বা নিম্ন করের (৫%) আওতায় রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সুরাহা দেয়। অন্যদিকে বিলাসদ্রব্যের ওপর উচ্চহারে কর ধার্য করে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমন্বয়:
GST কাউন্সিল গঠিত হয়েছে যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ই সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে কর সংক্রান্ত বিবাদ কমেছে এবং রাজ্যগুলোর রাজস্ব আয় সুনিশ্চিত হয়েছে।
উপসংহার:
যদিও শুরুতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল, বর্তমানে GST ভারতের অর্থনীতিকে একীভূত ও শক্তিশালী করতে সফল হয়েছে।
প্রশ্ন ২২: সরকারি ব্যয়ের বিভিন্ন প্রকারভেদগুলি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো?
উঃ
ভূমিকা: একটি দেশের আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করে। এই ব্যয়কে মূলত কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
রাজস্ব ব্যয় (Revenue Expenditure):
এটি সরকারের দৈনন্দিন কাজ চালানোর ব্যয়। এতে কোনো স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি হয় না। উদাহরণ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন, পেনশন, ঋণের সুদ প্রদান এবং বিভিন্ন ভর্তুকির কথা বলা যায়। এই ব্যয় নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক।
মূলধনী ব্যয় (Capital Expenditure):
যে ব্যয়ের ফলে দেশে নতুন সম্পদ সৃষ্টি হয় বা সরকারের ঋণের দায় কমে, তাকে মূলধনী ব্যয় বলে। বড় বড় কারখানা স্থাপন, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, রেললাইন বা এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি এই ব্যয়ের উদাহরণ। এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
পরিকল্পিত ও অ-পরিকল্পিত ব্যয় :
আগে বাজেটকে এই দুই ভাগে ভাগ করা হতো। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতাধীন কাজ ছিল পরিকল্পিত ব্যয়, আর প্রতিরক্ষা বা সুদ প্রদানের মতো নিয়মিত কাজ ছিল অ-পরিকল্পিত ব্যয়। বর্তমানে এই বিভাজন তুলে দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নমূলক ও অনুন্নয়নমূলক ব্যয়:
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পের প্রসারে যে ব্যয় হয় তা উন্নয়নমূলক। অন্যদিকে পুলিশ, প্রশাসন ও বিচারবিভাগের পেছনে যে ব্যয় হয় তা অনুন্নয়নমূলক হলেও দেশ পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে সরকার রাজস্ব ব্যয়ের চেয়ে মূলধনী ও উন্নয়নমূলক ব্যয়ে কতটা জোর দিচ্ছে তার ওপর।
প্রশ্ন ২৩: সরকারি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কর-রাজস্বের বিভাগগুলি আলোচনা করো?
উঃ
ভূমিকা: কর হলো জনসাধারণের পক্ষ থেকে সরকারকে দেওয়া বাধ্যতামূলক প্রদান। এটি সরকারি আয়ের বৃহত্তম উৎস এবং একে প্রধানত দুটি ধারায় ভাগ করা যায়।
প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax) :
যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর সরাসরি কর ধার্য হয় এবং সেই ব্যক্তিই তা বহন করেন, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যক্তিগত আয়কর (Income Tax) এবং কর্পোরেট কর (Corporate Tax)। এটি সাধারণত প্রগতিশীল হয়।
পরোক্ষ কর (Indirect Tax) :
যখন কর ধার্য হয় একজনের ওপর কিন্তু তার ভার অন্যজনের (ক্রেতার) ওপর স্থানান্তরিত হয়, তাকে পরোক্ষ কর বলে। ভারতে বর্তমানে GST হলো প্রধান পরোক্ষ কর। এছাড়া কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক এই তালিকায় পড়ে৷
সম্পদ ও উত্তরাধিকার কর :
আগে ভারতে বড় বড় ভূ-সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধনের ওপর কর নেওয়া হতো, যা বর্তমানে অনেকটা সীমিত বা বিলুপ্ত করা হয়েছে।
শুল্ক (Duties):
পণ্যের উৎপাদন বা সীমানা পারাপারের সময় যে বিশেষ কর নেওয়া হয় তাকে ডিউটি বা শুল্ক বলে। যেমন— মদ বা তামাকজাত দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক।
উপসংহার:
সুতরাং, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের সুষম সমন্বয় সরকারের আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করে ।
২৪. প্রশ্ন: ফিসক্যাল ঘাটতি মেটানোর উপায় এবং এর সম্ভাব্য বিপদগুলি আলোচনা করো?
উঃ
ভূমিকা: যখন সরকারের নিজস্ব আয়ের তুলনায় মোট ব্যয় বেশি হয়, তখন সেই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
ঘাটতি মেটানোর উপায়
অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ: সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বন্ড বিক্রি করে বা আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন বিশ্বব্যাংক) থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি মেটায়।
নতুন মুদ্রা ছাপানো (Deficit Financing):কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নতুন টাকা ছাপিয়ে সরকার ব্যয় মেটাতে পারে, তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিলগ্নীকরণ: রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বেসরকারি হাতে বিক্রি করে বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করা যায়।
সম্ভাব্য বিপদ বা ঝুঁকি
মুদ্রাস্ফীতি: বাজারে অতিরিক্ত টাকা চলে এলে দ্রব্যের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।
ঋণের ফাঁদ: ক্রমাগত ঋণ নেওয়ার ফলে আয়ের অংশ সুদের টাকা মেটাতেই চলে যায়, যা দেশের উন্নয়নকে থমকে দেয়।
ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হ্রাস: সরকার বাজার থেকে বেশি ঋণ নিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে বেসরকারি শিল্পে ঋণ
দেওয়ার টাকা কমে যায় (Crowding out effect)।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, ঘাটতি মেটানো অপরিহার্য হলেও সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয় যাতে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক বিপর্যয় না ঘটায় ।



