
অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1 অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1
Hello Viewers Today’s We are going to Share WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1
অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation Question Answer in Bengali.
The Complete Syllabus of WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1
অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation Notes in Bengali PDF Share with you.
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1 অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation
Solutions in Bengali Which you Can Download PDF Notes HS 2nd Year Economics Solutions in Bengali for
using direct Download Link Given Below in This Post.
📘 অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি (Money, Banking and Inflation)
📌 ভূমিকা
অর্থনীতি বোঝার জন্য “অর্থ”, “ব্যাংকিং” এবং “মুদ্রাস্ফীতি” — এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনে আমরা টাকা ব্যবহার করি, ব্যাংকে সঞ্চয় রাখি এবং বাজারে পণ্যের দাম বাড়া-কমার প্রভাব অনুভব করি। এই অধ্যায়ে আমরা সহজ ভাষায় এই বিষয়গুলি আলোচনা করব।
💰 অর্থ (Money) কী? অর্থ হলো এমন একটি মাধ্যম যা দিয়ে আমরা পণ্য ও পরিষেবা ক্রয়-বিক্রয় করি।
🔹 উদাহরণ:আপনি যদি দোকান থেকে একটি বই কিনেন, তাহলে আপনি টাকা দিয়ে সেটি ক্রয় করেন — এটিই অর্থের ব্যবহার।
🔑 অর্থের প্রধান কার্যাবলী
১. বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange):অর্থ পণ্য ও পরিষেবার বিনিময় সহজ করে।
২. মূল্য পরিমাপের একক (Measure of Value):সব পণ্যের দাম অর্থের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
৩. সঞ্চয়ের মাধ্যম (Store of Value):মানুষ ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে রাখতে পারে।
৪. ঋণ পরিশোধের মান (Standard of Deferred Payment):ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ ব্যবহৃত হয়।
🏦 ব্যাংকিং (Banking) কী?ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং ঋণ প্রদান করে।
🏛️ ব্যাংকের প্রকারভেদ
১. বাণিজ্যিক ব্যাংক (Commercial Bank):সাধারণ জনগণের জন্য সেবা প্রদান করে।
২. কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Bank):দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক, যেমন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)।
৩. সমবায় ব্যাংক (Co-operative Bank):গ্রামীণ ও কৃষি উন্নয়নে সাহায্য করে।
⚙️ ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলী:আমানত গ্রহণ,ঋণ প্রদান,অর্থ স্থানান্তর,চেক ও ড্রাফট পরিষেবা প্রদান
📈 মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) কী?মুদ্রাস্ফীতি হলো এমন একটি অবস্থা যখন সময়ের সাথে সাথে পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি পায়।
🔥 মুদ্রাস্ফীতির কারণ
১. চাহিদা বৃদ্ধি (Demand Pull):চাহিদা বেশি হলে দাম বাড়ে।
২. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি (Cost Push):উৎপাদন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দামও বাড়ে।
৩. অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ:বাজারে বেশি টাকা থাকলে দাম বাড়তে পারে।
📉 মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব
✔ ইতিবাচক প্রভাব:
ব্যবসায় লাভ বাড়তে পারে
উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
❌ নেতিবাচক প্রভাব:
ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়
সঞ্চয়ের মূল্য কমে
🇮🇳 বাস্তব উদাহরণ (ভারত)
ভারতে যদি পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং তার ফলে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায় — এটি মুদ্রাস্ফীতির একটি বাস্তব উদাহরণ।
🏦 অর্থ সরবরাহ ও ব্যাংকিং
🔹 অর্থ সরবরাহ (Supply of Money):অর্থ সরবরাহ বলতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্থনীতিতে মোট প্রচলিত অর্থের পরিমাণ বোঝায়।
🔹 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ (Central Bank Money):কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন RBI) যে অর্থ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ বলা হয়।
🔄 ঋণ সৃষ্টির প্রক্রিয়া (Credit Creation)
বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানতের একটি অংশ সংরক্ষণ করে এবং বাকি অংশ ঋণ হিসেবে প্রদান করে। এই প্রক্রিয়ায় নতুন অর্থ সৃষ্টি হয়।
📍 উদাহরণ
যদি কেউ ১০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা রাখে এবং ব্যাংক ২০% রিজার্ভ রাখে, তাহলে বাকি ৮,০০০ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়।
🏛️ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভূমিকা
আমানত গ্রহণ
ঋণ প্রদান
অর্থ স্থানান্তর
অর্থনীতিতে তরলতা (Liquidity) বজায় রাখা
📊 মানি মাল্টিপ্লায়ার (Money Multiplier)
ব্যাংকের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ যে হারে বৃদ্ধি পায়, তাকে মানি মাল্টিপ্লায়ার বলা হয়।
Money Multiplier=1 / Reserve Ratio
👉 উদাহরণ:যদি রিজার্ভ রেশিও ২০% (0.2) হয়, তাহলে মানি মাল্টিপ্লায়ার = 5
🔹 মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) ধারণা:মুদ্রাস্ফীতি হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে সময়ের সাথে পণ্য ও পরিষেবার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।
🔥 Demand Pull Inflation:যখন চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম থাকে, তখন দাম বেড়ে যায়।
⚙️ Cost Push Inflation:উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে পণ্যের দাম বাড়ে।
⚠️ Stagflation :যখন একই সাথে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও বেকারত্ব বৃদ্ধি ঘটে, তখন তাকে স্ট্যাগফ্লেশন বলা হয়।
🏛️ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ
🔹 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলী
নোট ইস্যু করা
সরকারের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করা
ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা
বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ
🎯 ঋণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি
🔸 প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ (Direct Control):ব্যাংকের ঋণ প্রদানে সরাসরি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।
🔸 পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ (Indirect Control):সুদের হার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
💡 গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হার (Control Rates)
👉 CRR (Cash Reserve Ratio):ব্যাংককে তাদের আমানতের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রাখতে হয়।
👉 SLR (Statutory Liquidity Ratio):ব্যাংককে নির্দিষ্ট অংশ তরল সম্পদ হিসেবে রাখতে হয়।
👉 Repo Rate:যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ দেয়।
👉 Bank Rate:দীর্ঘমেয়াদী ঋণের সুদের হার।
👉 Prime Lending Rate (PLR):ব্যাংক তাদের সেরা গ্রাহকদের যে সুদের হারে ঋণ দেয়।
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. অর্থ কী? অর্থ হলো বিনিময়ের একটি মাধ্যম।
২. ব্যাংকের কাজ কী? ব্যাংক আমানত গ্রহণ করে এবং ঋণ প্রদান করে।
৩. মুদ্রাস্ফীতি কেন হয়? চাহিদা বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে।
৪. মুদ্রাস্ফীতি কি সবসময় খারাপ? না, সামান্য মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য ভালো হতে পারে।
৫. মানি মাল্টিপ্লায়ার কী? ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির হার।
🧾 উপসংহার
অর্থ, ব্যাংকিং এবং মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির ভিত্তি। এই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলে বাস্তব জীবনে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা যায়।
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: বিহিত অর্থ (Legal Tender Money) কাকে বলে?
উঃ দেশের আইন অনুযায়ী যে অর্থ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে সবাই বাধ্য থাকে এবং যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করা আইনত দণ্ডনীয়, তাকে বিহিত অর্থ বলে। যেমন— ভারতের টাকা ও কয়েন৷
প্রশ্ন ২: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘ব্যাংকের ব্যাংক’ বলা হয় কেন?
উঃ দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাদের আমানতের একটি অংশ জমা রাখে এবং সংকটের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ঋণ দিয়ে সাহায্য করে ও তদারকি করে বলে একে ব্যাংকের ব্যাংক বলা হয়।
প্রশ্ন ৩: ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-Push Inflation) কী ?
উঃ যখন উৎপাদন উপকরণের ব্যয় (যেমন— শ্রমিকের মজুরি বা কাঁচামালের দাম) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সামগ্রিক জোগান কমে যায় এবং পণ্যের দাম বাড়ে, তখন তাকে ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
প্রশ্ন ৪: সংবিধিবদ্ধ জমার অনুপাত (SLR) বলতে কী বোঝো?
উঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ তরল সম্পদ হিসেবে (যেমন— সোনা বা সরকারি ঋণপত্র) নিজেদের কাছে জমা রাখতে হয়, একেই SLR বলে।
প্রশ্ন ৫: মুদ্রার অবমূল্যায়ন (Devaluation) কী?
উঃ যখন কোনো দেশের সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য বিদেশি মুদ্রার তুলনায় নিজের দেশের মুদ্রার বিনিময় মূল্য স্বেচ্ছায় কমিয়ে দেয়, তখন তাকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন বলে।
প্রশ্ন ৬: ‘High Powered Money’ বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অর্থ কী?
উঃ জনসাধারণের কাছে থাকা কারেন্সি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রাখা জমার সমষ্টিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অর্থ বলা হয়।
প্রশ্ন ৭: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি রাজস্ব নীতি উল্লেখ করো?
উঃ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করতে পারে, যার ফলে মানুষের ব্যয়যোগ্য আয় কমবে এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পাবে।
প্রশ্ন ৮: আমানত সৃষ্টি (Credit Creation) বলতে কী বোঝো?
উঃ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রাথমিক আমানতের একটি অংশ জমা রেখে বাকিটা ঋণ হিসেবে দেয়। এইভাবে প্রাথমিক আমানতের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়াকে আমানত সৃষ্টি
বলে।
প্রশ্ন ৯: নগদ জমার অনুপাত (CRR) কী?
উঃ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ টাকা হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা রাখতে হয়, একেই CRR বলা হয়।
প্রশ্ন ১০: রিভার্স রেপো রেট (Reverse Repo Rate) কাকে বলে?
উঃ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা রাখে এবং তার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে সুদ প্রদান করে, তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ – Type 2: 8 নম্বর)
প্রশ্ন ১১: বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলী সংক্ষেপে বর্ণনা করো?
উঃ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজগুলিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় :
আমানত গ্ৰহণ:
জনসাধারণের অলস সঞ্চয় বিভিন্ন ধরনের হিসাবের (সঞ্চয়ী, চলতি, মেয়াদী) মাধ্যমে জমা রাখা।
ঋণ প্ৰদান :
ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে ঋণ প্রদান করা।
এজেন্সি কার্যাবলী:
গ্রাহকদের পক্ষে চেক সংগ্রহ করা, ডিভিডেন্ড আদায় করা বা বিমার প্রিমিয়াম জমা দেওয়া৷
প্রশ্ন ১২: মুদ্রাস্ফীতির ফলে উৎপাদনকারী ও স্থির আয়কারীদের ওপর প্রভাব আলোচনা করো?
উঃ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিভিন্ন শ্রেণির ওপর ভিন্ন হয় :
উৎপাদনকারী:এরা মুদ্রাস্ফীতির ফলে লাভবান হয়। পণ্যের দাম বাড়লে তাদের মুনাফার পরিমাণ বাড়ে কারণ উৎপাদন খরচ সেই হারে দ্রুত বাড়ে না।
স্থির আয়কারী:যারা বেতনভুক কর্মচারী বা পেনশনভোগী, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও তাদের আয় বাড়ে না, ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় ৷
প্রশ্ন ১৩: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলি কী কী?
উঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে :
ঋণের প্রান্তিক সীমা নির্ধারণ:
ঋণের বিপরীতে রাখা জামানতের মূল্যের কত শতাংশ ঋণ দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া।
নৈতিক প্ররোচনা:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ সংকুচিত করার জন্য অনুরোধ বা উপদেশ দেওয়া।
সরাসরি ব্যবস্থা:
নিয়ম অমান্য করলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রশ্ন ১৪: মুদ্রাস্ফীতির কারণ হিসেবে অর্থের জোগান বৃদ্ধির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো?
উঃ ফিশারের সমীকরণ অনুযায়ী বাজারে অর্থের জোগান বাড়লে মানুষের হাতে অধিক অর্থ আসে: মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়ে। চাহিদার তুলনায় জোগান না বাড়লে দামস্তর বাড়তে থাকে৷ অত্যধিক অর্থ অল্প পরিমাণ দ্রব্যকে তাড়া করে, যা মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়।
প্রশ্ন ১৫: বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত সৃষ্টির সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী?
উঃ ব্যাংক চাইলেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে আমানত সৃষ্টি করতে পারে না কারণ:
নগদ জমার অনুপাত (CRR):
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জমার হার বাড়িয়ে দিলে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
জনগণের ব্যাংকিং অভ্যাস :
মানুষ যদি টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে নিজেদের কাছে নগদ রাখতে চায়।
ঋণের চাহিদা:
বাজারে যদি বিনিয়োগের ভালো পরিবেশ না থাকে এবং ঋণের চাহিদা কম থাকে।
প্রশ্ন ১৬: চাহিদাবৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে ?
উঃ যখন সামগ্রিক জোগান অপেক্ষা সামগ্রিক চাহিদা বেশি হয়, তখন এই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে:
সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি:
যুদ্ধ বা উন্নয়নমূলক কাজে সরকার বেশি টাকা খরচ করলে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি:
জনসংখ্যা বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা বেড়ে যায়।
কালো টাকা:
অঘোষিত অর্থ বাজারে কেনাকাটা বাড়িয়ে দিলে চাহিদাবৃদ্ধি ঘটে।
প্রশ্ন ১৭: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক হারের (Bank Rate) ভূমিকা আলোচনা করো?
উঃ ব্যাংক হার বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে:
ব্যাংক হার বাড়লে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদও বেড়ে যায়। চড়া সুদের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে ভয় পায়। বাজারে বিনিয়োগ ও অর্থের প্রবাহ কমে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রশ্ন ১৮: অর্থের কার্যাবলী সংক্ষেপে লেখো:
উঃঅর্থের প্রধান কাজগুলি হলো:
বিনিময়ের মাধ্যম:
পণ্য কেনাবেচার মাধ্যম হিসেবে কাজ করা ।
মূল্যের পরিমাপক:
প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য টাকার অঙ্কে প্রকাশ করা যায়।
মূল্যের ভাণ্ডার:
সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে অর্থকে সহজে রাখা যায়।
প্রশ্ন ১৯: মুদ্রাস্ফীতির ফলে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার অবস্থা কেমন হয় ?
উঃ মুদ্রাস্ফীতির সময়:
ঋণগ্রহীতা :
এরা লাভবান হয়। কারণ তারা যখন টাকা ধার করেছিল তার তুলনায় ফেরত দেওয়ার সময় টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।
ঋণদাতা:
এরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা যে মূল্যের টাকা ধার দিয়েছিল, ফেরত পাওয়ার সময় তার প্রকৃত মূল্য কমে যায়।
প্রশ্ন ২০: একটি আধুনিক অর্থনীতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের গুরুত্ব লেখো?
উঃ বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থনীতির মেরুদণ্ড :
মূলধন গঠন:
ছোট ছোট সঞ্চয় সংগ্রহ করে শিল্পে বিনিয়োগে সাহায্য করে।
বাণিজ্যিক সহায়তা:
দেশি-বিদেশি বাণিজ্যে অর্থের সংস্থান করে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি মেনে বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখে।
WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1 অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation
Today’s We have Shared in This Post WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1 অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation
Suggestions with you. WBSCHE Class 12 Economics Semester IV Chapter 1
অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রাস্ফীতি – Money, Banking and Inflation Questions Answers in Bengali I Hope, you
Liked The information About The Class 12 Economics Textbook Solutions
in Bengali. If you liked Class 12 Economics Textbook PDF Notes in Bengali
Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ)
প্রশ্ন ২১: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলী বিস্তারিত আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা দেশের মুদ্রা ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো ‘ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক’ (RBI)। এর প্রধান কার্যাবলী নিচে আলোচনা করা হলো।
নোট প্ৰচলন:
দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কারেন্সি নোট ছাপানোর একচেটিয়া অধিকার ভোগ করে। এতে মুদ্রার সমতা বজায় থাকে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। নোট ছাপানোর সময় ব্যাংক সমমূল্যের সোনা বা বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষিত রাখে।
সরকারের ব্যাংক ও উপদেষ্টা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। এটি সরকারের যাবতীয় আয় জমা রাখে এবং সরকারি ব্যয় মেটানোর জন্য অর্থ প্রদান করে। এছাড়া দেশের আর্থিক সংকটকালে
সরকারকে প্রয়োজনীয় উপদেশ ও তথ্য দিয়ে সাহায্য করে।
ব্যাংকের ব্যাংক:
দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা রাখতে হয়। সংকটের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘শেষ আশ্রয়ের ঋণদাতা’ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ায়।
ঋণ নিয়ন্ত্রণ:
দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বা মন্দা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যাংক হার, নগদ জমার অনুপাত (CRR) এবং খোলা বাজারের কারবারের মতো শক্তিশালী হাতিয়ার ব্যবহার করে এটি বাজারের অর্থপ্রবাহ স্থির রাখে।
বৈদেশিক মুদ্রার রক্ষক:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের স্বর্ণ এবং বিদেশি মুদ্রার (যেমন— ডলার, ইউরো) তহবিল জমা রাখে। মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল একটি সাধারণ ব্যাংক নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন ২২: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা :
যখন বাজারে অর্থের জোগান অত্যধিক বেড়ে যায় এবং দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পরিমাণগত পদ্ধতির মাধ্যমে এই ঋণের প্রবাহ কমিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ব্যাংক হার নীতি:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে। মুদ্রাস্ফীতির সময় ব্যাংক হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ঋণের ওপর সুদের হার বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হয়।
খোলা বাজারের কারবার:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন খোলা বাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংক বা জনসাধারণের কাছে সরকারি বন্ড বা সিকিউরিটি বিক্রি করে, তাকে খোলা বাজারের কারবার বলে। এর ফলে বাজারের অতিরিক্ত টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চলে আসে এবং বাজারে অর্থের জোগান কমে যায়।
নগদ জমার অনুপাত (CRR):
প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ টাকা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা রাখতে হয়। মুদ্রাস্ফীতির সময় CRR-এর হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়, ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘লোনযোগ্য তহবিল’ কমে যায়।
সংবিধিবদ্ধ জমার অনুপাত (SLR):
ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের একটি অংশ সোনা বা সরকারি ঋণপত্রের আকারে
নিজেদের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হয়। মুদ্রাস্ফীতি রুখতে SLR-এর হার বৃদ্ধি করা হয়, যাতে ব্যাংকগুলো বাজারে বেশি টাকা ঋণ হিসেবে দিতে না পারে।
রেপো রেট:
রেপো রেট হলো সেই হার যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদী ঋণ নেয়। এই হার বাড়িয়ে দিলে ঋণের খরচ বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে বাজারে অর্থের সরবরাহ
কমিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
উপসংহার:
সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে বাজারের অর্থের তারল্য নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
প্রশ্ন ২৩: বাণিজ্যিক ব্যাংক কীভাবে ঋণ বা আমানত সৃষ্টি করে তা উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো?
উঃ ভূমিকা:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একটি জাদুকরী ক্ষমতা হলো আমানত সৃষ্টি। এরা জনগণের কাছ থেকে পাওয়া আমানতের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ ঋণ হিসেবে বাজারে ছাড়তে পারে, যাকে ‘ঋণ সৃষ্টি’ প্রক্রিয়া বলা হয়।
প্ৰাথমিক আমানত গ্ৰহণ:
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ব্যাংকে ১০০০০ টাকা জমা দিলেন। একে বলা হয় প্রাথমিক আমানত। ব্যাংক এই পুরো টাকাটা কাউকে ঋণ দিতে পারে না কারণ গ্রাহক যেকোনো সময় টাকা তুলতে আসতে পারেন।
নগদ সংরক্ষণ (Legal Reserve ):
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক ১০% টাকা (১০০০ টাকা) নগদে জমা রাখল। বাকি ৯০০০ টাকা ব্যাংক অন্য কাউকে ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখে। এই সঞ্চিত অংশটিই ব্যাংকের নিরাপত্তার গ্যারান্টি।
উৎপন্ন আমানত সৃষ্টি:
ব্যাংক যখন ৯০০০ টাকা কাউকে ঋণ দেয়, তখন তাকে নগদ টাকা না দিয়ে তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। এর ফলে ব্যাংকের খাতায় নতুন করে ৯০০০ টাকা আমানত হিসেবে জমা পড়ে। একে বলা হয় ‘উৎপন্ন আমানত’ ।
প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি:
এই ৯০০০ টাকা থেকেও ব্যাংক ১০% (৯০০ টাকা) সরিয়ে রেখে বাকি ৮১০০ টাকা আবার অন্য কাউকে ঋণ দেয়। এইভাবে এই চক্র চলতেই থাকে এবং প্রাথমিক ১০০০০ টাকা থেকে বাজারে কয়েক গুণ বেশি অর্থের সৃষ্টি হয়।
ঋণ গুণক:
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এই ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা নির্ভর করে নগদ জমার অনুপাতের ওপর। যদি জমার অনুপাত কম হয় তবে ব্যাংক অনেক বেশি ঋণ সৃষ্টি করতে পারে এবং জমার অনুপাত বেশি হলে ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা কমে যায়।
উপসংহার:
পরিশেষে, আমানত সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি করে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ২৪: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজস্ব নীতির (Fiscal Policy) ভূমিকা আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা :
মুদ্রাস্ফীতি বা অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার যে আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত নীতি গ্রহণ করে, তাকে রাজস্ব নীতি বা ফিসক্যাল পলিসি বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতির পাশাপাশি সরকারের এই নীতি অত্যন্ত কার্যকর।
সরকারি ব্যয় হ্রাস:
মুদ্রাস্ফীতির সময় বাজারে অর্থের প্রবাহ কমাতে সরকার বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল খাত এবং বিলাসদ্রব্যের ওপর ব্যয় কমিয়ে দেয়। সরকারি প্রকল্পের কাজ কিছুটা ধীর করার ফলে বাজারে টাকার জোগান কমে এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়।
প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি :
সরকার ব্যক্তিগত আয়কর বা করপোরেট কর বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে মানুষের ব্যয়যোগ্য আয় (Disposable Income) কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারের চাহিদার ওপর। চাহিদা কমলে দামস্তর কমতে বাধ্য হয়।
সরকারি ঋণ গ্রহণ:
মুদ্রাস্ফীতি রুখতে সরকার জনসাধারণের কাছ থেকে বন্ড বা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে। এতে জনগণের হাতে থাকা অতিরিক্ত নগদ টাকা সরকারের কাছে চলে আসে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে।
ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ:
সরকার অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে দিয়ে বাজারের আর্থিক তারল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি অর্থের জোগান সীমিত রাখতে সাহায্য করে।
বাজেট উদ্বৃত্ত :
মুদ্রাস্ফীতির সময় সরকার ঘাটতি বাজেটের বদলে উদ্বৃত্ত বাজেট তৈরির চেষ্টা করে। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ব্যয় কম রেখে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়।
উপসংহার:
সুতরাং, সুপরিকল্পিত রাজস্ব নীতির মাধ্যমে সরকার জনগণের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতির ভারসাম্য ও দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
প্রশ্ন ২৫: চাহিদাবৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটছে তার ওপর ভিত্তি করে একে দুই ভাগে ভাগ করা যায়— চাহিদাবৃদ্ধিজনিত এবং ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি। এদের প্রকৃতি ও প্রভাব সম্পূর্ণ আলাদা।
উৎপত্তিগত পার্থক্য:
চাহিদাবৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ঘটে যখন সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক জোগানের তুলনায় বেড়ে যায়। অন্যদিকে, উৎপাদন উপকরণের (যেমন— শ্রম বা কাঁচামাল) দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে যে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, তাকে ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
কারণসমূহ:
অর্থের জোগান বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে প্রথমটি ঘটে। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি বা উৎপাদন কর বৃদ্ধির ফলে দ্বিতীয়টি ঘটে থাকে।
উৎপাদন ও আয়ের ওপর প্রভাব :
চাহিদাবৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থনীতির পূর্ণ নিয়োগ স্তর পর্যন্ত উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে৷ কিন্তু ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন অনেক সময় কমে যায়।
প্রতিকার:
প্রথমটি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক নীতি (যেমন কর বৃদ্ধি বা সুদের হার বৃদ্ধি) নেয়। দ্বিতীয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
গ্রাফিক্যাল প্রকাশ:
চাহিদাবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চাহিদা রেখা ডানদিকে সরে যায়, কিন্তু ব্যয়বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জোগান রেখা বামদিকে সরে গিয়ে দামস্তর বাড়িয়ে দেয়।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, উভয় মুদ্রাস্ফীতিই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হলেও প্রতিকারের জন্য এদের মূল কারণ চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন ২৬: অর্থের প্রধান কার্যাবলী বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করো?
উঃ ভূমিকা:
আধুনিক অর্থব্যবস্থায় অর্থ হলো এমন একটি মাধ্যম যা বিনিময়ের কার্যে সর্বজনগ্রাহ্য। এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর কার্যাবলীকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
বিনিময়ের মাধ্যম:
অর্থের সবচেয়ে বড় কাজ হলো এটি পণ্য ও পরিষেবা কেনাবেচার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এর
ফলে প্রাচীন বিনিময় প্রথার (Barter System) অসুবিধাগুলি দূর হয়েছে এবং মানুষ সহজেই তার প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করতে পারে।
মূল্যের পরিমাপক:
প্রতিটি দ্রব্যের বা পরিষেবার মূল্য কত, তা আমরা অর্থের অঙ্কে বুঝতে পারি। এটি সাধারণ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে, যা জাতীয় আয় গণনা এবং হিসাবরক্ষণের কাজকে সহজ করে তোলে। মূল্যের ভাণ্ডার:
মানুষ তার কষ্টার্জিত আয় ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে চায়। পচনশীল দ্রব্য সঞ্চয় করা সম্ভব না হলেও অর্থকে দীর্ঘদিন সঞ্চয় করে রাখা যায় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।
স্থগিত পাওনার মান:
বর্তমান সময়ে অনেক লেনদেন ধারে বা ঋণে সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতে সেই ঋণের অর্থ বা সুদ পরিশোধ করার জন্য অর্থ একটি আদর্শ মান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়।
তারল্যের উৎস:
সম্পদগুলোর মধ্যে অর্থ হলো সবচেয়ে তরল সম্পদ। একে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অন্য দ্রব্যে রূপান্তর করা যায়, যা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
উপসংহার:
সুতরাং, বিনিময় মাধ্যম থেকে শুরু করে সঞ্চয় পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থ আধুনিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন ২৭: মুদ্রাস্ফীতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক কুফলগুলি আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
মুদ্রাস্ফীতি কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সংকটও বটে। দ্রব্যমূল্যের
ক্রমাগত বৃদ্ধি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, যা নিচে আলোচনা করা হলো।
আয় বৈষম্য বৃদ্ধি:
মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজের ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়ে। ব্যবসায়ীরা চড়া দামে পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে ধনী হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে।
স্থির আয়কারীদের ক্ষতি:
যারা নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করেন বা পেনশনের ওপর নির্ভর করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাজার দর বাড়লেও তাদের আয় বাড়ে না, ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
সঞ্চয় হ্রাস ও বিনিয়োগে অনীহা:
দ্রব্যমূল্য বাড়লে মানুষের জীবনধারণের খরচ বেড়ে যায়, ফলে তাদের হাতে জমানোর মতো টাকা থাকে না। সঞ্চয় কমে গেলে দেশে নতুন মূলধন গঠিত হয় না, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও
শিল্পায়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
নৈতিক অবক্ষয় ও কালোবাজারি:
অধিক মুনাফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং পণ্য মজুত করতে শুরু করে। এর ফলে সমাজে কালোবাজারি ও দুর্নীতির প্রসার ঘটে এবং সাধারণ মানুষের
মধ্যে অসন্তোষ জন্ম নেয়।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য সহায়ক হলেও অনিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
প্রশ্ন ২৮: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
কোনো দেশের অর্থব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এদের উদ্দেশ্য, গঠন এবং কাজের ধরনে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
মূল উদ্দেশ্য:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ সাধন এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা।
নোট প্রচলন ও নিয়ন্ত্রণ:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা আইনত কারেন্সি নোট ছাপাতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নোট ছাপানোর কোনো ক্ষমতা নেই, তারা কেবল চেক বা ড্রাফটের মাধ্যমে আমানত সৃষ্টি করতে পারে।
জনসাধারণের সাথে সম্পর্ক :
সাধারণ মানুষের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি কোনো লেনদেন হয় না। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলো সরাসরি জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং তাদের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ প্রদান করে।
সংখ্যার সীমাবদ্ধতা:
একটি দেশে সাধারণত একটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে (যেমন ভারতে RBI)। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা অনেক হতে পারে এবং তারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে ।
উপসংহার:
সুতরাং বলা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো সমস্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চালক ও নিয়ন্ত্রক, আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সেই ব্যবস্থার অধীনে কাজ করা কার্যকরী এককা
প্রশ্ন ২৯ : বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত সৃষ্টি বা ঋণ তৈরির সীমাবদ্ধতাগুলি আলোচনা করো?
উঃ ভূমিকা:
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানত সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ বাড়ালেও তারা
অনিয়ন্ত্রিতভাবে এটি করতে পারে না। এই প্রক্রিয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রাকৃতিক ও আইনি বাধা
কাজ করে।
নগদ সংরক্ষণের অনুপাত (CRR):
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি অংশ জমা রাখতে হয়। এই জমার হার যত বেশি হবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ঋণ দেওয়ার মতো টাকা তত কম থাকবে এবং ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা কমে যাবে ।
মানুষের ব্যাংকিং অভ্যাস:
যদি কোনো দেশের মানুষ টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে নিজের কাছে নগদ হিসেবে রাখতে পছন্দ করে, তবে ব্যাংকের প্রাথমিক আমানত কমে যায়। ফলে ব্যাংক নতুন করে ঋণ সৃষ্টি করার সুযোগ পায় না ৷
ঋণের চাহিদা ও বিনিয়োগের পরিবেশ:
বাজারে যদি উপযুক্ত ঋণগ্রহীতা না থাকে বা বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল না হয়, তবে ব্যাংক
চাইলেও ঋণ দিতে পারে না। মন্দার সময় সাধারণত ঋণের চাহিদা কমে যায়, যা এই প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়৷
জামানতের অভাব:
ব্যাংক সাধারণত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির জামানত ছাড়া ঋণ দেয় না। যদি ঋণগ্রহীতারা উপযুক্ত জামানত দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যাংক ঋণ প্রদান কমিয়ে দেয় এবং ঋণ সৃষ্টি ব্যাহত হয়।
উপসংহার:
পরিশেষে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ সৃষ্টি করার ক্ষমতা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক আচরণের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
প্রশ্ন ৩০: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলি ব্যাখ্যা করো?
উঃ ভূমিকা:
অর্থনীতিতে ঋণের মোট পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট খাতে ঋণের প্রবাহ পরিচালনা
করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণ করে, তাকে গুণগত বা নির্বাচক ঋণ নিয়ন্ত্ৰণ
পদ্ধতি বলে।
ঋণের প্রান্তিক সীমা নির্ধারণ:
কোনো সম্পদের বিপরীতে কত শতাংশ ঋণ দেওয়া হবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঠিক করে দেয়।
মুদ্রাস্ফীতির সময় এই সীমা (Margin) বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে মানুষ সম্পদের বিনিময়ে কম ঋণ পায় এবং বাজারে অর্থের জোগান কমে ।
ভোগ্যপণ্যের ঋণের নিয়ন্ত্রণ:
কিস্তিতে বা ঋণে বিলাসদ্রব্য (যেমন গাড়ি বা এসি) কেনার নিয়মাবলি কঠোর করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট খাতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের
ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
নৈতিক প্ররোচনা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধানদের সাথে বৈঠক করে তাদের ঋণ সংকুচিত করা বা সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়। কোনো আইন না চাপিয়েও অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতি পরিবর্তন করতে উদ্বুদ্ধ করে।
সরাসরি ব্যবস্থা:
যদি কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য করে তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, যেমন তাদের পুনর্বাট্টা সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া।
উপসংহার:
এই গুণগত পদ্ধতিগুলি ব্যবহারের ফলে দেশের অর্থনীতির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়৷



