ধাঁধা দিয়েছেন শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Dhadha and Rabindranath Tagore | bangla dhadha | বাংলা ধাঁধা
রবীন্দ্রনাথ একবার একটি ছোট মেয়েকে তার জন্মদিনে তিনটি মজাদার ধাঁধা উপহার দিয়েছিলেন। সেই ধাঁধা তিনটি রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই এখানে উদ্ধৃত করি—
১। তিন অক্ষরের কথা। প্রথম ও শেষ অক্ষর ছেড়ে দিলে কান থাকে না। শেষ দুটো অক্ষর ছেড়ে দিলে মান থাকে না। সমস্তটা ছেড়ে দিলে প্রাণ থাকে না।
২। চার অক্ষরের কথা। প্রথম দুটো অক্ষর একটি প্রাণী, শেষ দুটো অক্ষর তার বন্ধন। সমস্ত কথাটার মানে হচ্ছে বাঁধা পড়লে সেই প্রাণীর অবস্থা।
৩। তিন অক্ষরের কথা। তার প্রথম অংশটাকে ইংরেজি শব্দ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তারো যা মানে, বাকি অংশটারও সেই মানে, সমস্ত কথাটারই সেই একই মানে।
একটি খামের মধ্যে পুরে শান্তিনিকেতন থেকে এই ধাঁধা তিনটি কবি পাঠিয়েছিলেন ১৯২৫ সালের ২৫ এপ্রিল তারিখে। বালিকার জন্মদিনের আবদার সামলাতে রবীন্দ্রনাথকে এই ধাঁধাগুলি বানাতে হয়েছিল বৃদ্ধ বয়সে। কবি অবশ্য নিজেকে কখনোই বৃদ্ধ মনে করতেন না আর তাই তো চিঠিতে লিখেছেন, “রবিবাবু তোমাদেরই মত ছোট ছেলে-মেয়েদের বন্ধু।”
রবীন্দ্রনাথের দেওয়া এই তিনটি ধাঁধার মধ্যে প্রথম দুটি ধাঁধার উত্তর বালিকাটি ও তার ফুলদিদি দিতে পেরেছিল। কিন্তু তৃতীয় ধাঁধার উত্তর দিতে পারেনি কেউ। পারেননি তাদের বাবাও। রবীন্দ্রনাথ ৩০ এপ্রিলের চিঠিতে সেই ধাঁধার উত্তরটি লিখে পাঠিয়ে দেন।
এই তিনটি ধাঁধার সঠিক উত্তর কী হবে—তোমরা এখন বলো।
রবীন্দ্রনাথের ধাঁধার উত্তর
প্রথম ধাঁধার উত্তর ‘কামান’। দ্বিতীয় ধাঁধার উত্তর ‘হাঁসফাঁস’। তৃতীয় ধাঁধার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন যে, এর উত্তর হচ্ছে ‘সঙ্গীত’। অর্থাৎ songগীত।