
বাস্তুশুদ্ধিতে সংসারে সুখ শান্তি সমৃদ্ধি-Vastu Shastra
বাস্তুশুদ্ধি – Vastu Shastra
বাস্তশুদ্ধি করিয়ে সংসারে সুখ শান্তি সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে পারেন আপনিও! কীভাবে? জ্যোতিষ-বাস্তু-নিউমেরোলজির মেলবন্ধনে বাস্তু রহস্যের উন্মোচন ও সমাধানের পথ দেখালেন বিশিষ্ট জ্যোতিষ ও বাস্তু বিশারদ শ্রীশ্যামসুন্দার চট্টোপাধ্যায় ৷
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ‘বাস্তু’ মানেই একটি জটিল শাস্ত্র। বেশ গুরুগম্ভীর এক ব্যাপার-স্যাপার। আদৌ কি তাই? আসুন দেখে নেওয়া যাক। বাস্তুশাস্ত্রের ব্যাপ্তি সুবিশাল হলেও— খুব সংক্ষেপে বাস্তু কী তা বলতে হলে জানাতে হয়— বাস্তুশাস্ত্রের (Vastu Shastra) প্রধানত দুটি অংশ। তাত্ত্বিক অংশে রয়েছে পূজার্চনা, দর্শন, সিদ্ধান্ত ও জ্যোতিষভিত্তিক আচার-বিচার ইত্যাদি। আর ব্যবহারিক অংশে মূলত স্থাপত্যকলা জ্যামিতি, ভূগোল ও প্রকৃতি বিজ্ঞান সম্পর্কিত— এককথায় যা স্থাপত্য বিজ্ঞান। ‘বাস্তু’ ও ‘বিজ্ঞান’ এই দুই শাস্ত্রের সার্থক মেলবন্ধনে সৃষ্ট এক মানবকল্যাণকারী শাস্ত্রের নামই হল ‘বাস্তু-বিজ্ঞান’।
ধার্মিক না হলেও চলবে
ভারতবর্ষ ধর্মপ্রধান দেশ। প্রাচীনকালে ঋষি, মুনিরা বাস্তু- শাস্ত্রের উপরিউক্ত দুটি দিকের সুসংহত মিশেল ঘটিয়ে বাস্তুশাস্ত্রকে মানবজীবনের একটি অত্যন্ত উপযোগী ও ক্যলাণকারী শাস্ত্র হিসাবে প্রচলন করেছিলেন। তাই বাস্তুশাস্ত্রের সঙ্গে জ্যোতিষ ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের একটি সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা আজও রয়ে গেছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, বাস্তুশাস্ত্র মানতে গেলে আস্তিক বা ধর্ম বিশ্বাসী হতেই হবে। মানবকল্যাণকারী এক উপযোগী শাস্ত্র হিসাবে বাস্তুশাস্ত্র পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাস্তে যুগ যুগ ধরে আজও সুপ্রতিষ্ঠিত।
বাড়িই দোষের উৎস?
ফ্ল্যাট-ই হোক কিংবা জমি সাধারণ মধ্যবিত্তর জীবনে তা অবশ্যই একটি বড়মাপের ‘অ্যাচিভমেন্ট, যা জীবনে বারবার আসে না। তাই সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ উজাড় করে দিয়ে কিংবা ব্যাঙ্কে প্রতিমাসের মোটা ই এম আই শোধ করে প্রত্যেকেই এই অ্যাচিভমেন্টটাকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে নিতে চান। আবাসস্থলটিই যদি সমস্ত বাস্তুদোষের উৎপত্তি স্থল হয়, তবে এই বাস্তুদোষের অশুভ প্রভাব সংশ্লিষ্ট আবাসস্থলটির প্রতিটি সদস্যদের মধ্যেই ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে বাড়ি-ঘর নির্মাণের জন্য বাস্তুশাস্ত্র বর্ণিত যে আদবকায়দা-রীতিনীতি উল্লেখ রয়েছে তা যথাসম্ভব মেনে চললে এই সকল অশুভ প্রভাবের বাধা কাটিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা ফ্ল্যাটটিতে সারাজীবন সুখ-শান্তিতে বসবাস করা অনায়াস সাধ্যই হয়।
অথচ দুঃখের বিষয় এই যে শহর বা শহরতলির অধিকাংশ ফ্ল্যাট বা বাড়ি তৈরির সময় বাস্তুশাস্ত্রের এই রীতিনীতি-আদবকায়দা প্রায় মান্য করা হয় না বললেই চলে। ফল যা হওয়ার তাই। ন্যূনতম বাস্ত পরিকল্পনাবর্জিত এই সকল বাড়ি ফ্ল্যাটে বসবাস করতে করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখানকার বাসিন্দারা চরম বাস্তুদোষের শিকার। মামলা-মোকদ্দমা, অর্থনাশ, শত্রুতা, ব্যবসায় মন্দা— কোনওকিছুই আটকানো যাচ্ছে না। এই সকল ক্ষেত্রে অধিকাংশ সমস্যার মূলেই কিন্তু ‘বাস্তুদোষ’— যার উৎপত্তি বহুকষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত আপনার স্বপ্নের এই বাড়িটিতেই।
কী কী ব্যাপার মাথায় রাখবেন Vastu Shastra
বাড়ি-ঘর তৈরি হয়ে যাওয়ার পর যদি দেখা যায় সেটিতে ‘বাস্তুদোষ’ রয়েছে, তবে সেই বাস্তুদোষ কাটানো হয়তো যায় কিংবা ‘বাস্তশুদ্ধি’ করে নেওয়া যায়। কিন্তু বাড়িঘর নির্মাণের পূর্বেই প্রাক্ সতর্কতা হিসাবে নির্ভরযোগ্য বাস্তু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। অনাবশ্যক অর্থ ব্যয়, শ্রম ব্যয়, ভাঙচুর এড়ানো সম্ভব হয়। যাইহোক, বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয় করার সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত সহজ সরল ভাষায় টিপস আকারে তৈরি করে দেওয়া হল—
জমির গুণাগুণ ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থিতি
১. জমির আকার
- জমির পরিমাণ যেমনই হোক না কেন তার আকৃতিটি যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
- বর্গাকার, আয়তাকার (যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২:১) জমি সর্বোৎকৃষ্ট।
- বিষমবাহু, ত্রিভুজাকৃতি, ডিম্বাকৃতি জমি বা অনিয়মিত আকৃতির জমি অশুভ।
২. রাস্তার অবস্থান ও ঢাল
- বাড়ির চারদিকে বা তিনদিকে রাস্তা অত্যন্ত শুভ।
- ‘T” বা ‘Y’ আকৃতির রাস্তার সংযোগস্থলে বাড়ি নির্মাণ অশুভ।
- বাড়ির পারিপার্শ্বিক রাস্তার ঢাল যদি উত্তর দিক বা পূর্ব দিকে হয় তবে তা খুব ভালো।
- ঢাল দক্ষিণ, পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিমে হলে অশুভ।
৩. জমির বাইরে বেরনো জলের গতিমুখ
- জমি থেকে নির্গত জলের গতিমুখ যদি উত্তর-পূর্ব দিকে হলে শুভ।
- দক্ষিণ, পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে জল বেরলে তা শুভ নয়।
৪. সীমানা প্রাচীর
- বাড়ির চারদিকে সীমানা প্রাচীর থাকবে।
- তবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে তা উঁচু করা প্রয়োজন।
৫. উন্মুক্ত জায়গার অবস্থান
- বাড়িই হোক বা বহুতল উত্তর ও পূর্বদিকের ছাড় যেন দক্ষিণ ও পশ্চিমের থেকে বেশি হয়— তা নজর দেওয়া প্রয়োজন।
৬. বাড়ির উচ্চতা কোন দিকে বেশি
- বাড়ির উচ্চতা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বেশি রাখা সবথেকে ভালো।
৭. প্রধান প্রবেশদ্বার
- বাড়ির চারটি দিকের প্রতিটি দিককে সমান নয় ভাগে ভাগ করে যে কোনও দিকের বাঁদিক থেকে চতুর্থ ভাগে প্রধান প্রবেশদ্বার প্রয়োজন অনুযায়ী বসানো যেতে পারে।
- উত্তর ও পূর্বমুখী প্রবেশদ্বার উত্তম।
৮. সিঁড়ি
- সিঁড়ি ঘুরবে ক্লকওয়াইজ— অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার মতো।
- সিঁড়ির সংখ্যা এমন হবে যাতে ৩ দিয়ে ভাগ করলে ২ অবশিষ্ট থাকে।
যেমন: ১১, ১৭, ৪১, ৪৪, ৫৬ ইত্যাদি।
৯. লিফট
- লিফট বসাতে হবে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে।
১০. জল সরবরাহ ব্যবস্থা:
- পাতকুয়া, নলকূপ, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারের আদর্শ হল উত্তর, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বদিক।
- দক্ষিণ-পশ্চিম দিক বর্জনীয়।
১১. ওভারহেড ট্যাঙ্ক
- ওভারহেড ট্যাঙ্কের আদর্শ অবস্থান দক্ষিণ-পশ্চিম দিক।
- উত্তর-পূর্ব দিকে এই ট্যাঙ্ক রাখবেন না।
১২. সেপটিক ট্যাঙ্ক
- বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে বা উত্তর দিকের মধ্যস্থলে মাটির নীচের সেপটিক ট্যাঙ্ক করা সবচেয়ে ভালো।
১৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা
- বাড়ির দক্ষিণ-পূর্বে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটার ঘর তৈরি করুন।
- বিকল্পে দক্ষিণ বা উত্তর-পশ্চিমে করা যেতে পারে।
- উত্তর-পূর্ব বা উত্তর দিকে কখনওই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা রাখা যাবে না।
১৪. ছাদ
- বাড়ির ছাদ অর্থাৎ Roof হবে অবতল।
- সমতল ছাদ হলে তা অপেক্ষাকৃত বেশি গরম হয়ে যায় ও বৃষ্টির জল জমে থাকে।
১৫. টেরেস
- বাড়ির উত্তর-পূর্ব বা উত্তর দিক হল টেরেসের আদর্শ স্থান।
১৬. মেজেনাইন ফ্লোর
- বাড়ির দক্ষিণ দিকে মেজেনাইন ফ্লোর বানান।
১৭. বেসমেন্ট
- দক্ষিণ-পশ্চিমদিকে বর্জনীয়।
- উত্তর-পূর্ব দিক হল আদর্শস্থান।
১৮. গ্যারেজ
- বাড়ির গ্যারেজ হওয়া উচিত উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে।
১৯. বাগান
- উত্তর-পশ্চিম দিক হল বাগানের আদর্শস্থান। • বিকল্পে উত্তর-পূর্ব।
২0. ব্রহ্মস্থান
- জমি বা বাড়ির মধ্যস্থলটিকে বলা হয় ব্রহ্মস্থান— যেখানে বাস্তুদেবতার অবস্থান।
- সেকারণে এই ব্রহ্মস্থলে বিম, কলাম, পিলার, দেওয়াল যেন না থাকে।
- ঘরের কোনও ভারী আসবাবও এই ব্রহ্মস্থানে রাখা বর্জনীয়।
২১. বেডরুম
- গৃহকর্তার বেডরুম হবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে।
- স্বামী-স্ত্রীর বেডরুমও হবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকেই।
২২. বেডরুমের দরজার অবস্থান:
- বেডরুমের দরজা উত্তর বা পূর্ব দিকে রাখা উচিত।
- এই দরজা দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব বা দক্ষিণ পশ্চিমে রাখা শুভ নয়।
২৩. বেডরুমের জানালা
- বেডরুমের জানালা থাকবে উত্তরপূর্ব, উত্তর বা পূর্বদিকে।
- জানালায় এমনভাবে বসাতে হবে যাতে ক্রস ভেন্টিলেশনের থাকে।
২৪. শয়নকক্ষে বিছানার অবস্থান
- গৃহকর্তার শোওয়ার খাট বেডরুমের দক্ষিণ-পশ্চিমের দেওয়াল থেকে কমপক্ষে দু-তিন ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে।
২৫. শয়ন পদ্ধতি
- শোওয়ার সময় দক্ষিণ-দিকে মাথা ও উত্তরদিকে পা রেখে শোওয়া।
২৬. বেডরুমের ওয়ার্ডরোব/ আলমারির অবস্থান
- প্রধান আলমারি ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিমে খাটের পাশে রাখতে হবে।
- আলমারির মুখ থাকবে উত্তর দিকে।
২৭. ড্রইংরুম
- পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিমের ঘরটি ড্রইংরুম হিসাবে ব্যবহার করা উচিত।
- দক্ষিণ দিক ঘেঁষে এই ধরনের ঘর করা উচিত নয়।
২৮. শৌচাগার ও বাথরুম
- শৌচাগারের অবস্থান হবে পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম দিকে।
- উত্তর-পূর্ব দিকে বা ঈশান কোণে শৌচাগার নির্মাণ করা যাবে না।
- শৌচাগারের কমোড বা প্যান উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বসাতে হবে।
২৯. রান্নাঘর
- অগ্নিকোণ অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব দিক হল রান্নাঘরের জন্য আদর্শ।
- এইদিকে সম্ভব না হলে উত্তর-পশ্চিম দিকে করা যেতে পারে।
- কিন্তু কোনওভাবেই ঈশানকোণ বা উত্তরপূর্ব দিকে তা রাখা উচিত নয়।
- রান্না করার প্ল্যাটফর্ম টেবিলটা এমনভাবে বানাতে হবে যাতে রান্না করার সময় রাঁধুনির মুখ থাকে পূর্বদিকে।
- রান্নাঘরের কল, ফিল্টার ও জল সম্বন্ধীয় বস্তুর অবস্থান হবে উত্তর-পূর্ব দিকে।
৩০. ডাইনিং রুম
- রান্নাঘরের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ডাইনিং রুমের প্লেসমেন্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়।
- বাড়ির বা ফ্ল্যাটের পূর্ব বা পশ্চিম দিকের ঘরটি ডাইনিং রুম হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।
৩১. ঠাকুরঘর
- ঈশানকোণ অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব কর্নারে ঠাকুরঘর বা ঠাকুরের সিংহাসন রাখুন।
- উত্তর মুখে বা পূর্বমুখে বসে যাতে পূজা করা যায় সেভাবেই মূর্তি স্থাপন করুন।
৩২. স্টাডি রুম
- উত্তর-পূর্ব কোণে ঠাকুরঘরের আশপাশের স্টাডিরুম করা সবচেয়ে ভালো।
- সম্ভব না হলে উত্তর-পশ্চিমেও তা করা যেতে পারে।
- পড়াশুনা করার সময় এমনভাবে বসতে হবে যাতে পূর্বদিকে মুখ থাকে।
৩৩. স্টোর রুম বা ভাঁড়ার ঘর
- উত্তর-পশ্চিমে ভাঁড়ার ঘর করা বাঞ্ছনীয়।
৩৪. গেস্ট রুম
- অতিথির জন্য উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণদিকে একটি গেস্ট রুম রাখা যেতে পারে।
৩৫. ব্যালকনি/ ঝুল বারান্দা
- উত্তর-পূর্ব দিক হল ব্যালকনি বা ঝুল বারান্দার আদর্শ স্থান।
৩৬. সার্ভেন্টস রুম
- বাড়ির কাজের লোকেদের থাকার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর পশ্চিম কোণটি ভালো।
৩৭. জুতো রাখার স্থান
- বাড়ির দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকের ঘরটির দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকের কর্নারে জুতো রাখার ব্যবস্থা করুন।
৩৮. আবর্জনা/ ডাস্টবিনের স্থান
- ময়লা আবর্জনা কখনও বাড়তে দেবেন না। ময়লা আবর্জনার ডাস্টবিনটি রাখুন বাড়ির দক্ষিণ দিকে।
- সম্ভব না হলে উত্তর- পশ্চিমে রাখা যেতে পারে।
- কিন্তু কোনও মতেই বাড়ির ব্রহ্মস্থান ও উত্তর-পূর্বদিকে আবর্জনা বা ডাস্টবিন রাখবেন না।
বাস্তুদোষে (Vastu Shastra) পরিত্রাণের পথ
যে বাড়িতে বসবাস করছি, সেটি যদি অনেক পুরনো হয় কিংবা তা যদি বাস্তু পরিকল্পিত উপায়ে নির্মিত না হয় তাহলে কি ভাঙচুরই একমাত্র পথ? পাঠকদের এইরকম বহু প্রশ্ন বা কৌতূহল প্রায়ই শোনা যায়। এসব ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলে দেওয়া প্রয়োজন। খুব প্রয়োজন না পড়লে বা একান্তই উপায় না থাকলে বাস্তুদোষ খণ্ডনের জন্য বিস্তর ভাঙচুরের প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে।
বাস্তু-সংস্কারই একমাত্র পথ!
বাস্তুদোষ খণ্ডনের জন্য কোনওরকম ভাঙচুর না করেই প্রয়োজনীয় বাস্তু-সংস্কারের সাহায্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস্তু সমস্যার মোকাবিলা করা যায়। বাস্তু সংস্কারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল – এনার্জি ম্যানেজমেন্ট কৌশলের সফল প্রয়োগ।
এনার্জি ম্যানেজমেন্ট আসলে কী?
খুব সহজ কথায় ও সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে বাস্তু-সংস্কারের মূল ভিত্তি হল সঠিক দিক অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতির নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে প্রকৃতির সমস্ত ‘পজিটিভ এনার্জি’ (INFRA RAY)-র রূপ, রং, নির্মাণকে আপনার ফ্ল্যাট বা বাড়ির সমস্ত আনাচেকানাচে সুবিন্যস্তভাবে বিচ্ছুরণ ঘটানোর পাশাপাশি প্রকৃতির ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি সহ যাবতীয় নেগেটিভ এনার্জি (ULTRA – VIOLATE RAY)-কে অবিরলভাবে প্রতিহত করার একটি স্থায়ী ও সামগ্রিক পরিকল্পনা বা কৌশল যা আসলে অনেকটাই স্থাপত্য বিজ্ঞান। তাই এই এনার্জি- ম্যানেজমেন্ট কৌশলের ওপর ভিত্তি করে এবং প্রয়োজনীয় গ্রহ-প্রতিবিধানের সমন্বয়ে কোনও প্রশিক্ষিত জ্যোতিষ ও বাস্তুবিশারদ দ্বারা যদি প্রয়োজনীয় বাস্তু-সংস্কার করে নেওয়া যায় তাহলে অধিকাংশ বাস্তু-সমস্যার সুরাহা করা সম্ভব। হ্যাঁ, ভাঙচুর না করেই।
বাস্তুদোষ খণ্ডনের জন্য
জ্যোতিষ-বাস্তু-নিউমেরোলজির সফল মেলবন্ধন
জ্যোতিষ বেদের অঙ্গ। জীবনে সাফল্য অর্জন করতে হলে ‘লাকি নম্বর’– অর্থাৎ সংখ্যাতত্ত্বের ভূমিকাও কম নয়। এরই পাশাপাশি মানব জীবনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি বিষয় হল ‘বসত ভূমি’ বা বাস্তু। এই বসত ভূমি বা আবাসস্থল যে শুধুমাত্র আশ্রয় দেয় তাই নয়, এককথায় মানুষের বেঁচে থাকার ও সঠিকভাবে এগিয়ে চলার নেপথ্য প্রেরণা জোগায় সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ একটি গৃহ বা বাস্তু। কাজেই বাস্তু যদি সঠিক না হয় তাহলে তার অশুভ প্রভাব ওই গৃহের প্রতিটি সদস্যদের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। তার ফলে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক নানা ধরনের সমস্যা সংকট, বিপর্যয় দেখা যায় নিজের একান্তই আপন এই আবাসস্থলটিতেই।
অপরদিকে জ্যোতিষই হোক কিংবা বাস্তু অথবা নিউমারোলজি, সবগুলিই তো মানব কল্যাণকারী শাস্ত্র। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে— সুপরিকল্পিত উপায়ে এই তিনটি মানব-কল্যাণকারী শাস্ত্রের সুসমন্বিত মেলবন্ধন যদি ঘটানো যায় তবে ভাঙচুর না করেই অনেক জটিল থেকে জটিলতর বাস্তু সমস্যার নিরসন ঘটানো যায়।
পাঠকের সুবিধার্থে এই তিন শাস্ত্রের সফল মেলবন্ধনে কোন দিকে কীভাবে গৃহসজ্জার পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে কোনওরকম ভাঙচুর না করেই অধিকাংশ বাস্তু সমস্যার মোকাবিলা করা যায় তা দিকভিত্তিকভাবে (পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ-ঈশান-অগ্নি-নৈঋত বায়ু) একে একে মেলে ধরা হল। আবার একই সঙ্গে উপরিউক্ত তিন শাস্ত্রের সফল মেলবন্ধনে কোন রাশির জাতকের/ জাতিকার কী পেশা হওয়া উচিত বা কিংবা তার শুভ সংখ্যা, শুভ বার অনুযায়ী কোন দিকে কীভাবে বাস্তু-পরিকল্পনা করলে একটি সুন্দর, সুস্থ, সচ্ছল জীবন- যাপনের দিশা উন্মোচন করতে পারেন তাও একে একে দিক অনুযায়ী মেলে ধরা হল। শুরু করা যাক— পূর্ব দিক দিয়েই।
পূর্ব দিক-এর গুরুত্ব, প্রভাব ও তার শুভ-অশুভ
প্রভাব
- পূর্ব দিক পৈতৃক স্থান নির্দেশ করে।
- পূর্বদিক থেকে বংশ স্থান সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করা যায়।
দিকপতি: পূর্বদিকের দিকপতি হলেন দেবরাজ ইন্দ্ৰ।
অধিপতি গ্রহ: পূর্ব দিকের অধিপতি গ্রহ হল রবি।
কোন কোন রাশির পক্ষে শুভ: মেষ, সিংহ ও ধনু রাশির জাতক জাতিকাদের পক্ষে পূর্বদিক অত্যন্ত শুভ।
শুভ সংখ্যা
- সংখ্যাতত্ত্ব অনুসারে যাদের জন্মতারিখ ও নাম বিশ্লেষণ করে ১ সংখ্যাটি পাওয়া যায় তাদের পক্ষে পূর্ব দিকে শুভ ফল লাভ হতে পারে।
- সার্বিকভাবে পূর্বদিকের অধিবাসীদের পক্ষে ১ সংখ্যাটি শুভ ফলের ইঙ্গিত বহন করে।
শুভ তারিখ
- উপরে উল্লিখিত রাশি ও সংখ্যার জাতক-জাতিকাদের পক্ষে ১, ১০ তারিখ শুভ ফল দিতে পারে।
- অন্যান্য রাশির ব্যক্তিবর্গও যদি পূর্বদিকে বসবাস বা ব্যাবসাবৃত্তি করেন তাদের পক্ষেও ১, ১০ তারিখে বিশেষ লাভ হতে পারে।
শুভ বার
পূর্বদিকের অধিবাসীদের পক্ষে রবিবার শুভ ফল প্রদান করতে পারে।
আদর্শ পেশা বা ব্যবসা
যশ-প্রতিপত্তি-মান-সম্মান প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণকারী হল পূর্ব দিকের অধিপতি রবি। রবির শুভ প্রভাবে আইএএস, ডব্লুবিসিএস, সরকারি চাকরি সংক্রান্ত পেশা, রাজনীতিক, ফার্মাসি, প্যারামেডিকেল কোর্স, অধিপতি গ্রহ: পশ্চিম দিকের অধিপতি গ্রহ হল ‘শনি’। যে সকল অধ্যাপনা, চলচ্চিত্র বিষয়ক পড়াশোনা, বৃত্তি ব্যবসায়ীদের পক্ষে পূর্ব দিক অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত।
পূর্ব দিকে কী রাখবেন
- বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার পূর্বদিকে রাখা অত্যন্ত শুভ।
- পূর্ব দিকে বারান্দা থাকতে পারে। জলপ্রবাহ ব্যবস্থা এই দিকে রাখতে পারেন।
- স্নানাগার রাখা যেতে পারে।
- জমির খোলা অংশ পূর্বদিকে বেশি রাখতে পারেন। খাওয়ার ঘর করা যেতে পারে।
- বারান্দা রাখা যেতে পারে।
- ঠাকুরের মুখ এই দিকে রাখতে পারেন।
- পূর্বদিকে মুখ করে রান্না করা অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ও শুভ।
- পূর্বদিকে মুখ করে পূজার্চ্চনা করা শুভকারক।
- মেষ, ধনু ও সিংহ রাশির জাতক-জাতিকারা পূর্বদিকে মুখ করে পড়াশোনা বা কাজকর্ম করলে অত্যন্ত শুভ ফল পেতে পারেন। পূর্বদিকে মাথা রেখে শয়ন করা যেতে পারে। পূর্বদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখবেন।
পূর্বদিকে কী রাখবেন না
- এদিকে বদ্ধ জমি রাখবেন না।
- উচু জমির পক্ষে পূর্ব দিক শুভ নয়।
- এঁটো, বর্জ্য জিনিসপত্র, আবর্জনা পূর্বদিকে রাখবেন না।
পূর্বদিকের গুরুত্ব
- বাসগৃহ তৈরির সময় জমির পূর্বদিক খোলামেলা রাখা প্রয়োজন।
- পূর্বদিক আবদ্ধ থাকলে গৃহকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা থেকে যায়।
- শাস্ত্রমতে এটি পৈতৃক স্থান। পূর্বদিক দুষ্ট থাকলে পিতার স্বাস্থ্যহানি বা অন্যান্য বিপর্যয় ঘটতে পারে।
- পূর্বদিকের অধিপতি গ্রহ হল রবি অর্থাৎ সূর্য।
- তাই এই দিকে মুখ করে রান্না করলে খাদ্যের পুষ্টিমূল্য বৃদ্ধি পায়।
- নিয়মিতভাবে পূর্বদিকে মুখ করে সূর্যপ্রণাম বা পূজার্চ্চনা করলে সারা দিন নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে কাটানো যেতে পারে।
- বিদ্যার্থীদের পক্ষে পূর্বদিকে মুখ করে পড়াশোনা করাও অত্যন্তফলদায়ক।
- মেষ, সিংহ ও ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের পূর্বাভিমুখী ব্যবসা, বৃত্তি পেশা থেকে সহজেই সাফল্য মিলতে পারে।
এইভাবে সুপরিকল্পিতভাবে প্রতিটি দিকের বাস্তু পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারলে আপনার জীবনপ্রবাহ হতে পারে অনায়াস, স্বচ্ছন্দ। বাস্তুকে যতটা সম্ভব কাজে লাগিয়ে ধনবর্ষায় সিক্ত হয়ে উঠুক আপনার একান্ত নিজস্ব কুটিরটিও। অ্যাস্ট্রো-বাস্তু ও নিউমারোলজির অভিনব এই সমন্বয় বিধানের মাধ্যমে সৌভাগ্যের ফসল তুলে নিন আপনিও।
পশ্চিম দিকের গুরুত্ব, প্রভাব ও তার শুভ-অশুভ
প্রভাব
গৃহস্থ বাড়ির পশ্চিম দিক থেকে নাম, যশ, প্রতিপত্তি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অবস্থার উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। যশ-প্রতিপত্তি-সুনাম প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমদিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দিকপতি: পশ্চিম দিকের দিকপতি হলেন ‘বরুণ’।
অধিপতি গ্রহ: পশ্চিম দিকের অধিপতি গ্রহ হল শনি। যে সকল ব্যক্তির রাশিচক্রে ‘শনি’র শুভ অবস্থান রয়েছে তাঁদের পক্ষে পশ্চিম দিক অনুকূল হতে পারে।
কোন কোন রাশির পক্ষে শুভ
- মিথুন, তুলা ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকার পক্ষে পশ্চিম দিক শুভফল প্রদানে সহায়ক হতে পারে।
- মকর রাশির জাতক-জাতিকারাও এই দিকে শুভ ফল পেতে পারেন।
শুভ সংখ্যা
- নিউমেরোলজিক্যাল হিসেব মতো যে সকল ব্যক্তির জন্ম তারিখ বা বানান বিশ্লেষণ করে ৮ সংখ্যা পাওয়া যায়, তাঁদের পক্ষে পশ্চিমদিক অনুকূল।
- পশ্চিম দিকের ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে ৮ সংখ্যাটি শুভ ফল প্রদানকারী।
শুভ তারিখ
- পূর্বোক্ত রাশি ও শুভ সংখ্যা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ৮, ১৭, ২৬ তারিখে পশ্চিম দিকে যে কোনও কাজে অগ্রসর হলে সাফল্য পেতে পারেন।
- পশ্চিমদিকের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে উপরিউক্ত তারিখগুলো সার্বিকভাবে শুভ ফল প্রদানকারী।
শুভবার
- পশ্চিম দিকের অধিবাসীদের পক্ষে শনিবার শুভ ফল প্রদানকারী।
আদর্শ পেশা, বৃত্তি, ব্যাবসা
- পুরাতত্ত্ব বিদ্যা, গবেষণাধর্মী কাজকর্ম, আর্টস, ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি ক্ষেত্রে আদর্শ পেশা বা বৃত্তি এই দিকের অধিবাসীরা পেতে পারেন।
- সাংবাদিকতা, লেখালেখি, শিক্ষকতা, হিসাবরক্ষণ, ভাষাতত্ত্ব প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য পাওয়া যেতে পারে।
- জনসংযোগ আধিকারিক, আইনজ্ঞ, বিচারক, বিউটিশিয়ান, ম্যানেজমেন্ট, অটোমোবাইল, ইলেকট্রিকাল কাজকর্ম, এক্স-রে কর্মী, মেডিকেল যন্ত্রপাতির ব্যবসায় পশ্চিমদিকের অধিবাসীরা সহজেই সাফল্য লাভ করতে পারবেন।
কী রাখবেন?
- সন্তান যদি কিশোর হয়— তবে পশ্চিম দিকের শয়নকক্ষ তার পক্ষে আদর্শ।
- খাওয়ার ঘর পশ্চিমদিকে করতে পারেন।জমির ঢাল এই দিকে উঁচু করা উচিত।
- পূর্ব দিকের চেয়ে পশ্চিমদিকের বাউন্ডারি ওয়াল উঁচু করবেন।
- বাড়ির ছাদের কার্নিশ এই দিকে উঁচু করবেন।
- সিঁড়ির ঘর এই দিকে করতে পারেন।
- বসার ঘর বা ডাইনিং রুম করা যেতে পারে।
- মিথুন, তুলা, কুম্ভ রাশির জাতক- জাতিকারা এই দিকে মুখ করে পড়াশোনা করলে শুভ ফল পেতে পারেন।
কী রাখবেন না?
- টাকা-পয়সার আলমারি রাখবেন না।
- ঠাকুরে মুখ এই দিকে রাখা উচিত নয়।
- পশ্চিম দিকে মুখ করে রান্না করা অশুভ।
- পূজার্চ্চনার সময় পশ্চিম দিকে মুখ না করাই বাঞ্ছনীয়।
- এদিকে মুখ করে শুষুধ না খাওয়াই ভালো।
পশ্চিম দিকের গুরুত্ব
- পশ্চিম দিকটি গৃহকর্তার সার্বিক সাফল্য, মান-সম্মান, যশ-প্রতিষ্ঠা লাভে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবলম্বন করে।
- মিথুন, তুলা, কুম্ভ রাশির ব্যক্তিরা এইদিকে ব্যবসা, বৃত্তি নির্বাচন করলে সহজেই প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন।
- কিশোর সন্তানের পক্ষে পশ্চিম দিকের বেডরুম অত্যন্ত শুভ।
উত্তর দিকের গুরুত্ব, প্রভাব ও তার শুভ-অশুভ প্রভাব
- উত্তর দিক মাতৃস্থান নির্দেশ করে।
- বুদ্ধি ও চাতুর্যভাব নিদর্শনের ক্ষেত্রে উত্তর দিকের প্রভাব অনস্বীকার্য।
দিকপতি
উত্তর দিকের দিকপতি হলেন কুবের।
অধিপতি গ্রহ
- উত্তর দিকের অধিপতি গ্রহ হল বুধ।
- যাদের রাশিচক্রে বুধ গ্রহ বলবান তাদের পক্ষে উত্তর দিক অত্যন্ত শুভ হতে পারে।
কোন রাশির পক্ষে শুভ
- যেসকল জাতক-জাতিকারা কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন রাশির অন্তর্গত তাদের পক্ষে উত্তর দিক সর্বাধিক শুভ ফল দেবে।
- মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষেও উত্তর দিক শুভ ফল বহন করতে পারে।
শুভ সংখ্যা
- সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে যে সকল জাতক- জাতিকার জন্মতারিখ বা নাম থেকে ৫ সংখ্যাটি আসছে তাঁদের পক্ষে উত্তর দিক অত্যন্ত শুভ।
- এছাড়া অন্যান্য যে কোনও ক্ষেত্রে উত্তর দিকের পক্ষে ৫ সংখ্যাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শুভ তারিখ
- উপরিউক্ত রাশি ও শুভ সংখ্যার জাতক জাতিকাদের পক্ষে ৫, ১৪, ২৩ তারিখ অত্যন্ত শুভ হতে পারে।
- অন্য রাশির জাতক-জাতিকারাও উত্তর দিকের সাপেক্ষে উপরিউক্ত তারিখগুলিতে শুভকার্যে হাত দিয়ে দেখতে পারেন।
শুভবার
- উত্তর দিকের অধিবাসীদের পক্ষে বুধবার অত্যন্ত শুভবার হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
আদর্শ পেশা ব্যাবসা
- শিক্ষক, সাংবাদিক, হিসাবরক্ষক, আবৃত্তিকার, অনুবাদক, ভাষাতত্ত্ববিদ, টেলিফোন অপারেটর, আইন ব্যবসা, কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পক্ষে উত্তর দিক অভিমুখে ব্যবসা, বৃত্তি, বসবাস অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।
কী রাখবেন?
- উত্তর দিকে আয়না রাখা যেতে পারে।
- এই দিকে বারান্দা রাখা শুভ।
- ব্যবসায়ীরা ক্যাশবাক্স রাখতে পারেন।
- বসতবাড়ির ক্ষেত্রে টাকাপয়সা এই দিকে রাখা যেতে পারে।
- উত্তরদিকে জলপ্রবাহ ব্যবস্থা রাখা শুভকারক।
- বসতবাড়ির খোলা জায়গা এই দিকে বেশি রাখা প্রয়োজন।
- প্রবেশদ্বারও রাখা যেতে পারে।
- এইদিকে মুখ করে পড়াশোনা বা অফিসিয়াল কাজকর্ম করা অত্যন্ত শুভ।
কী রাখবেন না?
- উত্তর দিকে রান্নাঘর রাখবেন না।
- উত্তর দিকে জলের ট্যাঙ্ক রাখবেন না।
- ভারী আসবাব কোনওভাবেই রাখবেন না।
- উত্তর দিকে মাথা করে কখনওই শয়ন করা উচিত নয়।
- ভাঁড়ার ঘর করবেন না।
উত্তর দিকের গুরুত্ব
- উত্তর দিক মিত্রস্থান নির্দেশ করে।
- বাস্তুভূমির উত্তর দিক কোনওভাবেই আবদ্ধ অবস্থায় রাখা উচিত নয়।
- উত্তর দিকের অধিপতি কুবের। সে কারণে ব্যাবসা বাণিজ্যের পক্ষে এই দিকের গুরুত্ব সর্বাধিক।
- সে কারণেই এই দিকে ক্যাশবাক্স, টাকা-পয়সা, ধনসম্পদ রাখা অত্যন্ত শুভ। এতে সম্পদ বৃদ্ধি হয়।
- এই দিকের অধিপতি ‘বুধ’ হওয়ার কারণে বিদ্যার্থীদের পক্ষে এই দিকে মুখ করে পড়াশোনা করা অত্যন্ত শুভ কারক।
- যে কোনও রকম হালকা জিনিসপত্র এই উত্তর দিকেই রাখা উচিত।
- বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে উত্তর দিক জল সম্পর্কিত স্থানও নির্দেশ করে। তাই উত্তর দিকে জল সরবরাহ ব্যবস্থা রাখা সমীচীন।
- মাতৃস্থানের পক্ষে উত্তর দিকের প্রভাব অপরিসীম। তাহলে বুঝতেই পারছেন বাস্তু পরিকল্পনা করতে গেলে কত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় মাথায় রাখতে হয়? বাস্তুশাস্ত্রের সুফল সর্বাধিকভাবে পেতে হলে এইরকমভাবে প্রতিটা বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব-নিকাশ করে তবেই বাস্তু পরিকল্পনা করা উচিত। এসব ক্ষেত্রে সুদক্ষ বাস্তু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সমীচীন। তবেই বাস্তুশাস্ত্রের সুফল পেতে পারবেন আপনিও!
দক্ষিণ দিক-এর গুরুত্ব, প্রভাব ও তার শুভ অশুভ
প্রভাব
- গৃহস্থ বাড়ির দক্ষিণ দিকটি সামগ্রিকভাবে বাড়িটির শান্তি ও সমৃদ্ধি নির্দেশ করে।
- নিরুপদ্রব ও ছন্দোবন্ধ জীবন কাটাতে হলে দক্ষিণ দিকের পরিকল্পিত বাস্তু বিন্যাসের প্রয়োজন।
দিকপতি
- দক্ষিণ দিকের দিকপাল বা দিকপতি হলেন ‘যম’।
অধিপতি গ্রহ
- দক্ষিণ দিকের অধিপতি গ্রহ হল মঙ্গল।
- যাদের রাশিচক্রে ‘মঙ্গল’ বলবান তাদের পক্ষে দক্ষিণ দিক মঙ্গলকারক হতে পারে।
কোন রাশির পক্ষে শুভ
- বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষে দক্ষিণ দিক অত্যন্ত শুভ।
- এছাড়া বৃশ্চিক রাশি এবং মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষেও দক্ষিণ দিক শুভকারক হতে পারে।
শুভ সংখ্যা
- নিউমেরোলজির সূত্র অনুসারে যে সকল ব্যক্তির জন্মতারিখ বা নামের বানান বিশ্লেষণ করে ৯ সংখ্যাটি পাওয়া যায়— তাঁদের পক্ষে দক্ষিণ দিক অত্যন্ত শুভ।দক্ষিণ দিকের ক্ষেত্রে ৯ সংখ্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুভ ফলদায়ক।
শুভ তারিখ
- উপরে উল্লিখিত রাশি ও শুভ সংখ্যার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৯, ১৮,
- ২৭ তারিখ শুভ ফল দিতে পারে।
- এছাড়া দক্ষিণ দিকের অন্যান্য বাসিন্দার ক্ষেত্রেও এই তারিখগুলি বিশেষ লাভ হতে পারে।
শুভ বার
- দক্ষিণ দিকের বাসিন্দারা মঙ্গলবার যে কোনওরকম শুভ কার্যে হাত দিলে তাতে সাফল্য লাভ করতে পারেন।
আদর্শ পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা
- সাহস, পরাক্রম, আত্মবিশ্বাস, লড়াকু মনোবৃত্তির কারক গ্রহ হল দক্ষিণ দিকের অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। তাই মঙ্গলের শুভ প্রভাবে পুলিস, নৌ-সেনা, শল্য চিকিৎসক, ইলেকট্রিকাল/ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাজিস্ট্রেট, ডেনটিস্ট, রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ীদের পক্ষে দক্ষিণ দিক অত্যন্ত শুভ। উপরিউক্ত পেশা, বৃত্তি, ব্যবসার ব্যক্তিবর্গের পক্ষে দক্ষিণ দিক অভিমুখে বসবাস, বৃত্তি বা ব্যবসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
কী রাখবেন?
- দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে শয়ন করা অত্যন্ত শুভ।
- তাই খাট-বিছানার প্লেসমেন্ট এমনভাবে করুন যাতে দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে শয়ন করা যায়।
- দক্ষিণ দিকে বেডরুম রাখতে পারেন।
- ভারী জিনিস, আসবাবপত্র এই দিকে রাখুন। জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের খোলা জায়গা দক্ষিণ দিকে কম পরিমাণে রাখুন।
- দক্ষিণমুখী প্রবেশদ্বার হলে দরজার রং নীল করুন।
- কন্যা, বৃষ, মকর রাশির জাতক-জাতিকারা এই দিকে মুখ করে পড়াশোনা করলে শুভ ফল পাবেন।
- স্টোর রুম করতে পারেন।
- দক্ষিণ দিকের জানলা, দেওয়ালে লাল বা হলুদ রং করুন।
কী রাখবেন না?
- দক্ষিণ দিকে আয়না রাখবেন না।
- দক্ষিণ দিকে খোলা জায়গা বেশি রাখবেন না।
- জল সরবরাহ ব্যবস্থা রাখবেন না।
- ব্যবসায়ীরা ক্যাশবাক্স এই দিকে রাখবেন না।
- দক্ষিণ দিকে মুখ করে পূজার্চনা করবেন না।
দক্ষিণ দিকের গুরুত্ব?
- দক্ষিণ দিক সমৃদ্ধিকারক।
- জীবনে সুখ, শান্তি, প্রফুল্লতা বিকাশে সহায়ক এই দক্ষিণ দিক।
- দক্ষিণ দিকের দিকপতি ‘যম’। নিরুপদ্রব, নিষ্কণ্টক জীবনযাত্রা পেতে হলে দক্ষিণ দিকের গুরুত্ব সর্বাধিক।
- দক্ষিণ দিকের অধিপতি গ্রহ ‘মঙ্গল’ হওয়ার কারণে পুলিস, নৌ- সেনা, ম্যাজিস্ট্রেট, শল্য চিকিৎসক, প্রোমোটারদের পক্ষে এই দিক অত্যন্ত কার্যকরী।
- সাহস, পরাক্রম, বীরত্ব, আত্মবিশ্বাস বর্ধনকারী দিক এই দক্ষিণ দিক।
এইভাবে সুপরিকল্পিত উপায়ে আপনিও যদি আবাসস্থলের দিকভিত্তিক পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে পারেন তাহলে ‘বাস্তুদোষ’ থাকলেও ভাঙচুর না করেই বাস্তুসংস্কার করে নিতে পারেন। তবে সমস্যা যদি জটিল হয় তবে বাস্তু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
অগ্নিকোণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক
প্রভাব
- দক্ষিণ-পূর্ব দিকটিকে অগ্নিকোণ বলা হয়। যাবতীয় শক্তি- উদ্দীপনা, ধৈর্য, স্থৈর্য প্রভৃতি নিয়ন্ত্রিত হয় এই অগ্নিকোণের সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুপরিকল্পিত ব্যবহার-বিধির ওপরই।
দিকপতি
- অগ্নিকোণের দিকপতি হলেন অগ্নিদেবতা।
অধিপতি গ্রহ
- অগ্নিকোণের অধিপতি গ্রহ হল শুক্র।
- যে সকল ব্যক্তির রাশিচক্রে শুক্রের অবস্থান শুভ তাঁদের পক্ষে অগ্নিকোণ অত্যন্ত শুভকারক।
কোন কোন রাশির পক্ষে শুভ
- বৃষ ও তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষে এই দিক শুভ।
শুভ সংখ্যা
- সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে যে সকল ব্যক্তিবর্গের জন্মতারিখ বা নামের বানান থেকে ছয় (৬) সংখ্যা পাওয়া যায় তাদের পক্ষে অগ্নিকোণ শুভ।
- দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পক্ষে ৬ সংখ্যা
সার্বিকভাবে শুভ ফল প্রদানকারী।
শুভ তারিখ
- অগ্নিকোণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকের অধিবাসীবৃন্দ ৬, ১৫, ২৪ তারিখে শুভ ফল লাভ করতে পারেন।
- বৃষ ও তুলা রাশির জাতক-জাতিকা কিংবা ৬ সংখ্যা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পক্ষে অগ্নিকোণে ৬, ১৫ ও ২৪ তারিখে যাত্রা অত্যন্ত শুভকারক হতে পারে।
শুভ বার
- দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পক্ষে শুক্রবার অত্যন্ত শুভ।
আদর্শ পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা
- এই দিকের বাসিন্দাদের পক্ষে যে কোনওরকম সৃজনশীল কাজকর্ম, সৃষ্টিশীল কার্য, অভিনয়, ফাইন আর্টস, ফ্যাশন ডিজাইনিং, ভেষজ বিদ্যা, কেমিস্ট্রি, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে— এরকম কার্যে সহজেই সাফল্য মিলতে পারে।
- এছাড়া, নাচ, গান, আবৃত্তির মতো সৃজনশীল যে কোনও বিষয়, অ্যাড এজেন্সি, যন্ত্রশিল্পী, প্রসাধন সম্পর্কিত বিষয়, ইন্টিরিয়র ডেকরেশন, ব্যাঙ্ককর্মীদের পক্ষে এই দিক অত্যন্ত শুভ।
কী রাখবেন, কী রাখবেন না?
- এই দিকে রান্নাঘর সবচেয়ে ভালো।
- মিটার ঘর বা ইলেকট্রিক রুম করতে পারেন।
- শৌচাগার নয়।
- সেপটিক ট্যাঙ্ক রাখবেন না।
- বাথরুম রাখবেন না।
- গ্যাসওভেন রাখতে পারেন।
- টিভি রাখতে পারেন।
- ইলেকট্রিক গ্যাজেটস রাখা যেতে পারে।
- জলের জায়গা চলবে না।
- সদ্য বিবাহিত ছেলেদের শোওয়ার ঘর করা যেতে পারে।
- এই কোণের জন্য সাদা রং ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঈশান কোণ বা উত্তর-পূর্ব দিক
প্রভাব
- উত্তর-পূর্ব দিকটিকে বলা হয় ঈশান কোণ। বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঈশান কোণের শুভাশুভ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দিকপতি
- ঈশান কোণ অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব দিকের দিকপতি হলেন রুদ্র বা শিব।
অধিপতি গ্রহ
- ঈশান কোণের অধিপতি গ্রহ হল বৃহস্পতি।
- যে সকল ব্যক্তির রাশিচক্রে বৃহস্পতি গ্রহ বলবান তাঁদের পক্ষে ঈশান কোণ শুভফল প্রদানকারী রূপে বিবেচিত হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বাসিন্দাদের পক্ষে যে কোনওরকম সৃজনশীল কাজকর্ম, অভিনয়, ফাইন আর্টস, ফ্যাশন ডিজাইনিং, বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে— এরকম কার্যে সহজেই সাফল্য মিলবে।
কোন কোন রাশির পক্ষে শুভ
- ধনু ও মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষে উত্তর-পূর্ব দিক অর্থাৎ ঈশান কোণটি সাফল্যসূচক হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
শুভ সংখ্যা
- তিন সংখ্যাটি অর্থাৎ ৩ হল উত্তর-পূর্ব দিকের পক্ষে অত্যন্ত শুভ সংখ্যা।
- নিউমেরোলজিক্যাল বিচারে যাঁদের ৩ সংখ্যাটি ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংখ্যা হিসাবে পাওয়া যায় তাঁরা এই দিকে গেলেই সাফল্য লাভ করতে পারেন।
শুভ তারিখ
- ঈশান কোণের অধিবাসীরা ৩, ১২, ২১ তারিখে যে কোনওরকম শুভকার্যে হাত দিলে সহজেই সাফল্য পেতে পারেন।
- ধনু ও মীন রাশির ব্যক্তি বা ‘তিন’ সংখ্যা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ৩, ১২, ২১ তারিখে এই দিকে শুভ যাত্রা করতে পারেন।
শুভ বার
- ঈশান কোণের অধিবাসীদের পক্ষে বৃহস্পতিবার সর্বাধিক শুভ।
আদর্শ পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা
- ঈশান কোণের বাসিন্দাদের পক্ষে প্রজ্ঞামূলক, জ্ঞানমূলক, আর্টস, ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক পেশা উন্নতিকারক হতে পারে।
- ধর্মপ্রচারক, আধ্যাত্মিক বিষয় অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, রাজনীতি, চিকিৎসক, কবি, সমাজকর্মী, নাট্য পরিচালনা, গবেষণাধর্মী কাজকর্ম প্রভৃতি বিষয়ে সফল কেরিয়ার, পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা ঈশান কোণের অধিবাসীদের পক্ষে অত্যন্ত শুভকারক।
কী রাখবেন, কী রাখবেন না?
- ঠাকুর ঘর করা সবথেকে ভালো।
- সন্তানের স্টাডিরুম করা যেতে পারে।
- মেডিটেশন রুম/ প্রার্থনা গৃহ হতে পারে।
- এই মুখে ঔষধ সেবন করা যেতে পারে।
- জলপ্রবাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
- শৌচাগার/ বাথরুম কোনওভাবেই রাখা যাবে না।
- সেপটিক ট্যাঙ্ক একেবারেই নয়।
- এই দিকে রান্নাঘর একদম নয়।
- এই কোণে আবর্জনা, ভারী জিনিস রাখবেন না।
- জমি বা বাড়ির ঢাল এই দিকে অবশ্যই নীচু রাখবেন।
বায়ুকোণ বা উত্তর-পশ্চিম দিক
প্রভাব
- উত্তর-পশ্চিম দিকটি হল বায়ুকোণ। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই বায়ুকোণের ভূমিকা অপরিসীম।
- পারস্পরিক মৈত্রী, বন্ধুত্ব, লোকাচার, সদ্ভাব বৃদ্ধিতে উত্তর-পশ্চিম দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবলম্বন করে।
দিকপতি
- উত্তর-পশ্চিম দিক অর্থাৎ বায়ুকোণের দিকপতি হলেন বায়ু দেবতা।
অধিপতি গ্রহ
- বায়ুকোণ অর্থাৎ উত্তর-পশ্চিম দিকের অধিপতি গ্রহ হল চন্দ্ৰ। চন্দ্রের শুভ প্রভাবে এই দিক জাতক-জাতিকাদের অত্যন্ত সাফল্য দিতে পারে।
কোন কোন রাশির পক্ষে শুভ
কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষে উত্তর-পশ্চিম দিকটি সর্বাধিক শুভ।
শুভ সংখ্যা
- বায়ুকোণ বা উত্তর-পশ্চিম দিকের পক্ষে দুই সংখ্যাটি খুবই শুভ।
- যে সকল ব্যক্তির জন্মতারিখ থেকে ২ সংখ্যা পাওয়া যায় তারা উত্তর-পশ্চিম দিকে সাফল্য অর্জন করবেন।
শুভ তারিখ
- উত্তর-পশ্চিম দিকের বাসিন্দারা মাসের ২, ১১, ২০ তারিখে শুভ ফল পেতে পারেন।
- কর্কট রাশির জাতক-জাতিকা কিংবা ‘২’ সংখ্যা বিশিষ্ট মানুষজন ২, ১১, ২০ তারিখে উত্তর-পশ্চিম দিকে যাত্রা করলে শুভ ফল পেতে পারেন।
শুভ বার
- উত্তর-পশ্চিম দিকের পক্ষে সোমবার।
আদর্শ পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা
- কল্পনাশক্তি, মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন রয়েছে এইরকম পেশা বা বৃত্তি, শিল্পবিদ্যা, কলাবিদ্যা, ব্যবহারিক বিদ্যা, লেখালেখি, জল সরবরাহ, ইরিগেশন, নাবিক, নার্স, চিকিৎসক, উকিল, সেলস, ক্লারিকাল কাজকর্ম প্রভৃতি বিষয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকের অধিবাসীগণ সর্বাধিক সাফল্য লাভ করতে পারেন।
কী রাখবেন, কী রাখবেন না?
- শৌচালয় করা যেতে পারে।
- অতিথির ঘর করা যেতে পারে।
- এই কোণে সেপটিক ট্যাঙ্ক রাখা যেতে পারে।
- ঠাকুর ঘর এই দিকে করা অশুভ।
- বিবাহযোগ্যা কন্যার ঘর অত্যন্ত শুভ।
- স্বামী-স্ত্রীর এই দিকের ঘরে শয়ন করা উচিত নয়।
- গৃহকর্তা এই দিকের ঘরে না থাকাই শ্রেয়।
নৈঋত কোণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক
প্রভাব
- দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটিকে বলা হয় নৈঋত কোণ।
- নীরোগ স্বাস্থ্য, দীর্ঘজীবন লাভের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের শুভাশুভকে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
- সিদ্ধান্ত – আচার-বিচার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এই দিকের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দিকপতি: দক্ষিণ-পশ্চিম দিক অর্থাৎ নৈঋত কোণের দিকপতি হলেন “নিরুতি’।
অধিপতি গ্রহ: দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটি নিয়ন্ত্রণ করে রাহু ও কেতু। কোন কোন রাশির পক্ষে শুভ
মেষ, বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষে এই কোণ অত্যন্ত শুভ।
শুভ সংখ্যা
দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের পক্ষে শুভ সংখ্যা হল সাত।
জন্ম তারিখ বা নামের বানান বিশ্লেষণ করে যে সকল ব্যক্তি ‘সাত’ সংখ্যাটি পাওয়া যাচ্ছে তাঁদের পক্ষে নৈর্ঋত কোণ শুভ বলে বিবেচিত।
শুভ তারিখ
দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বাসিন্দাদের পক্ষে ৭, ১৬, ২৫ তারিখ সার্বিকভাবে শুভ ফল বহনকারী।
উপরিউক্ত রাশি ও সংখ্যা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ৭, ১৬, ২৫ তারিখে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সর্বাধিক শুভ ফল লাভ করতে পারেন।
শুভ বার
মঙ্গলবার বা শনিবার।
আদর্শ পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা
দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের অধিবাসীবৃন্দের পক্ষে এয়ারলাইন্স, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রফেশনাল কোর্সে সাফল্য, যুদ্ধবিদ্যায় সাফল্য মিলতে পারে।
এছাড়া যে কোনওরকম গুহ্য বিদ্যা, গোয়েন্দাবৃত্তি, স্ট্যাটিসটিক্স বিজ্ঞান বিষয়ে এই দিকের অধিবাসীরা উৎকর্ষ লাভ করতে পারেন।
কী রাখবেন, কী রাখবেন না?
- স্বামী-স্ত্রীর শয়নকক্ষ করা যেতে পারে।
- গৃহকর্তা/গৃহকর্ত্রীর ঘর অত্যন্ত শুভ। • জলের ট্যাঙ্ক রাখা চলবে।
- গুদামঘর করতে পারেন।
- বাচ্চাদের শয়নকক্ষ অশুভ।
- অবিবাহিত মহিলারা এই দিকের ঘরে শোবেন না।
- এই কোণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
- ক্যাশবাক্স কোনওভাবেই এই কোণে রাখবেন না।
- ঈশান কোণের চেয়ে এই কোণটি অপেক্ষাকৃত উঁচু রাখবেন।
সুস্বাস্থ্যের সন্ধানে বাস্তু বিধান (Vastu Shastra)
স্বাস্থ্যের ওপর বাস্তুর প্রভাব কীরকম তা পর্যালোচনা করার অবকাশে এই বিষয়ে পাঠকেরা যাতে সুস্থ, সতেজ থাকবার রসদ খুঁজে পান তার সন্ধান করাই হবে আমাদের উদ্দেশ্য। আর এই উদ্দেশেই রইল একগুচ্ছ টিপস।
১. মানুষ সর্বদাই সুস্থ, সতেজ থাকতে চায়। বর্তমান কালে নীরোগ থাকা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হলেও প্রাত্যহিক কিছু হালকা ব্যায়াম, প্রাণায়াম এই ক্ষেত্রে আপনাকে করতেই হবে। না, কোনও অজুহাত নয়, স্নান করা, দাঁত মাজা, প্রাত্যহিক বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের মতো শরীরচর্চাকেও আপনার দৈনন্দিন কার্য তালিকায় অবশ্য কর্ম হিসাবে অভ্যাস করুন। প্রথম প্রথম অসুবিধা মনে হলেও পরে অ্যাডজাস্ট হয়ে যাবেই। চেষ্টা করুন। অবশ্যই পারবেন।
২. পরিমিত আহার করুন। ফাস্ট ফুড যতটা সম্ভব বর্জন করুন। জানবেন খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়… বরং বাঁচার জন্যই খাওয়া।
৩. যতই ব্যস্ততা থাকুন না কেন— পর্যাপ্ত নিদ্রার যেন অবকাশ থাকে তা আপনাকেই সুনিশ্চিত করতে হবে। কী ভাবছেন, বাস্তু- সম্পর্কিত এই নিবন্ধটিতে শরীর-স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপসের কি যোগসূত্র? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। মানব কল্যাণকারী অন্যান্য আরও অনেক বিষয়ের মতো বাস্তু শাস্ত্রের মূল বিষয়ই হল জটিল এই পৃথিবীর মধ্যে কীভাবে কত সহজে বা কী কৌশলে একটা সুস্থ, সুন্দর, সুস্থির জীবন লাভ করা যায়। আর তা সুনিশ্চিত করতে গেলে সুস্থ, সতেজ থাকার উপরিউক্ত প্রাথমিক পাঠ আপনাকে মানতেই হবে।
৪. আপনি যদি আপনার পরিবারের গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রী হন, তবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের ঘরটি বরাদ্দ করুন আপনার মাস্টার বেডরুম হিসাবে।
৫. বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে শয়নের দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শোওয়ার সময় দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে শয়ন করুন। সম্ভব না হলে পূর্ব দিকে মাথা রেখে শয়ন করতে পারেন। কিন্তু উত্তর দিকে মাথা রেখে একদমই শয়ন করা উচিত নয়, শরীর-স্বাস্থ্য সুস্থ, সতেজ রাখতে এই শয়নবিধি অবশ্যই মান্য করুন। কারণ সুখ-নিদ্রাই সমস্ত সাফল্যের পথ ত্বরান্বিত করে।
৬. যে গৃহে তিন দিকে রাস্তা থাকে সেই গৃহের বাসিন্দারা অত্যন্ত অসুবিধা ও উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিন যাপন করেন। তাই মাস্টার বেডরুম হিসাবে এই প্রকার বেডরুম পরিত্যাজ্য।
৭. অপরদিকে ভবনের উত্তর, পূর্ব অথবা উত্তর-পূর্বে রাস্তা থাকলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ লাভ।
৮. শয়নকক্ষে একজোড়া সারস পাখির ছবি লাগালে পতি-পত্নীর মধ্যে সদ্ভাব ও সুসম্পর্ক বজায় থাকে।
৯. শয়নকক্ষের রং গাঢ় না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। রাগ, উন্মাদনা কাটাতে শয়নকক্ষের রং যতটা সম্ভব হালকা হওয়া প্রয়োজন।
১০. গৃহে তুলসী, আমলকী, অশোক বৃক্ষ রোপণ করা অত্যন্ত শুভ। এই সকল বৃক্ষ বাসিন্দাদের সুখ-শান্তি, সুস্থতা ও সতেজতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
১১. যে সকল গৃহে দুৰ্গন্ধ আসে সেখানে বাসিন্দাদের সুস্থতা সংকটাপন্ন হয়।
১২. যে গৃহের আগ্নেয় কোণে (অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব দিক) কূপ বা নলকূপ থাকে সেই গৃহকর্তার সন্তান-সন্ততির নানা প্রকার শারীরিক কষ্ট দেখা যেতে পারে।
১৩. যে গৃহের জমি ত্রিকোণাকার, সিংহমুখী বা ঢোলকের মতো সেখানকার অধিবাসীগণ মনোরোগগ্রস্ত, খিটখিটে মেজাজ, ভুলো মন, বদরাগী হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং শরীর-স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই প্রকার জমিতে গৃহনির্মাণ না করাই সমীচীন।
১৪. যে ভূখণ্ড উঁচু-নিচু হয় বা যে ভূখণ্ডের পূর্ব দিক বেশি উঁচু হয় সেই গৃহের সন্তানদের মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়, বুদ্ধি অপর্যাপ্ত ও ভুলোমন বিশিষ্ট হয়।
১৫. যে সকল ভবন নির্মাণ চৈত্র, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, ভাদ্র, আশ্বিন, মাঘ মাসে হয় সেই গৃহের বাসিন্দাদের নানাপ্রকার শারীরিক কষ্ট, মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়।
১৬. যদি কোনও ভারী বস্তু গৃহের বায়ুকোণ অর্থাৎ উত্তর-পশ্চিম দিকে থাকে তাহলে সেই গৃহের বাসিন্দাদের অস্থিপীড়া মনোরোগ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
১৭. অপর দিকে নৈঋত কোণে অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে যত ভারী জিনিস রাখা যাবে তা গৃহবাসীর পক্ষে শুভ ফল প্রদানে সহায়ক হয়। তাই এই দিকে স্টোর রুম করা সবথেকে শুভ।
১৮. যে গৃহের প্রধান প্রবেশদ্বার নৈঋত কোণে অবস্থিত সেই গৃহে অশাস্তি এবং উদ্বেগ লেগেই থাকে। তাই এই দিকে প্রধান প্রবেশ দ্বার না রাখাই শ্রেয়।
১৯. যে ভূখণ্ডের বায়ুকোণ (উত্তর-পশ্চিম দিক) উঁচু ও অগ্নিকোণ (দক্ষিণ-পূর্ব দিক) নিচু সেই গৃহের বসবাসকারীদের উদর বিকার, এবং অস্ত্র বিকার, ভগন্দর ইত্যাদি অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
২০. গৃহের অগ্নিকোণে রন্ধনের ব্যবস্থা রাখা উচিত। এই দিকটি শরীর-স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ। আবার অগ্নিকোণে (দক্ষিণ- পূর্ব দিক) জল সরবরাহ ব্যবস্থা রাখলে তা বাসিন্দাদের পেটের অসুখ, লিভারের রোগ বৃদ্ধি করতে পারে।
২১. যে গৃহে মরুভূমির কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ স্থাপন করা হয় সেখানকার অধিবাসীদের রক্তচাপ বুদ্ধি, খিটখিটে মেজাজ সম্পন্ন হতে পারে। বাঁশগাছের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
২২. যে বাসভূমির ঈশানকোণে (উত্তর- পূর্ব দিক) বাথরুম বা শৌচাগার রয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা নানাবিধ শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে। তাই কোনওভাবেই এই দিকে বাথরুম বা শৌচাগার নির্মাণ করবেন না।
বাস্তুদোষ সংশোধনের টিপস (Vastu Shastra)
গৃহ নির্মাণের পূর্বেই যথাযথ সতর্কতা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ গৃহ বা ফ্ল্যাটে বাস্তুদোষ দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যা নতুন করে ভেঙে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ভাঙচুর করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই সাধের বাড়িটি তো আর সাধারণ পণ্যসামগ্রী নয় যে, ইচ্ছা হলেই বদল করা বা বিক্রি করা যাবে। তাহলে কী করণীয়? এসব ক্ষেত্রে কোনও সুশিক্ষিত বাস্তু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বাস্তুশুদ্ধি করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আপাতত কিছু ঘরোয়া টিপস নীচে দেওয়া হল যা পালন করলে বাস্তুদোষ অনেকাংশেই লাঘব হতে পারে।
১. আজ থেকেই দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে শয়ন শুরু করে দিন।
২. সন্তানের পড়াশোনার জন্য ঈশানকোণের ঘরটি ছেড়ে দিন।
৩. বাড়ির ব্রহ্মস্থানের অর্থাৎ কেন্দ্রস্থলের সমস্ত কিছু সরিয়ে ফেলুন।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রহ্মস্থলটি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আবর্জনামুক্ত ও খালি রাখুন।
৪. বাড়ির অপ্রয়োজনীয়, অচল জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন।
৫. পুরনো অব্যবহৃত বস্তু বা জঞ্জাল একদম জমতে দেবেন না।
৬. ঘরে হিংসাত্মক, যুদ্ধরত, লড়াইয়ের দৃশ্যের ছবি টাঙাবেন না।
৭. অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ সিঁড়ি হলে সিঁড়ির বাঁকের মুখে বড় একটি আয়না লাগিয়ে ফেলুন।
৮. ঈশান কোণে যদি আপনার বাথরুম হয় তবে এক বাটি সৈন্ধব লবণ সবসময় রাখবেন।
৯. এরকম দিকে বাথরুম হলে দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে একটি বড় আয়না লাগান।
১০. বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে একটি জলপূর্ণ পাত্র রাখুন। প্রতিদিন এই জল পরিবর্তন করুন।
১১. বাড়ির ছেঁড়া জামাকাপড় সরিয়ে ফেলুন বা দান করে দিন।
১২. লোহার খাট বা ধাতুর খাটের বিছানায় শোওয়া ছেড়ে দিন।
১৩. বাড়ির ঈশানকোণের উত্তর ও পূর্ব দিকে দেওয়ালের ভেতরে সিঁদুরযুক্ত স্বস্তিক চিহ্ন Eye Lehve’-এ লাগিয়ে ফেলুন।
১৪. যে ঘরে বিম রয়েছে তার ঠিক নীচে শয়ন করবেন না। এমনকী কোনও জিনিস রাখবেন না।
১৫. বাড়ির প্রধান দরজার ফ্রেমের নীচের অংশ মেঝে থেকে কিছুটা উঁচু করে রং করে দিন।
বাস্তু দোষ? নাকি গ্রহদোষ? (Vastu Shastra)
আপনার সমস্যা যাই হোক না কেন তা বোঝার জন্য নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির ওপর পাঠক একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।
- গৃহকর্তা সহ পরিবারের সদস্যদের অসুখ-বিসুখ লেগেই রয়েছে।
- দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক কলহ।
- যে কোনও শুভ কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
- অকারণে পুত্র বা কন্যার বিবাহটা হচ্ছে না।
- মামলা-মোকদ্দমা-পুলিসি ঝামেলা, গুপ্ত শত্রুতা, অশান্তি।
- সন্তানের পড়াশোনার রেজাল্ট দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
- জলের মতো অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে।
- সুখ-সমৃদ্ধি-উন্নতিতে বাধা-বিঘ্ন ইত্যাদি।
বাস্তু সমস্যা স্থায়ী (Vastu Shastra)
সমাধানের জন্য কোনও শাস্ত্র বিশারদের সাহায্য নেওয়া সমীচীন। সবথেকে ভালো হয় জ্যোতিষ, বাস্তু ও নিউমেরোলজি— এই তিন শাস্ত্রের ওপর উপর্যুপরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
রুটে গিয়ে তার সমাধান সূত্র খুঁজে বার করতে মানব কল্যাণকারী তিন শাস্ত্র— জ্যোতিষ, বাস্তু ও নিউমেরোলজির সার্থক মেলবন্ধন ঘটানো যায়, তবেই বিভিন্ন ধরনের জটিল থেকে জটিলতর জীবন সমস্যার সমাধান যেমন অত্যন্ত সহজ হতে পারে, ঠিক সেরকমই তার স্থায়িত্ব ও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে যায়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি— মানুষের বিচিত্র ও বিভিন্ন ধরনের বাস্তু সমস্যা যে শুধুমাত্র ঘর-বাড়ি ভাঙচুর- বিক্রি-গৃহসজ্জার অদলবদলের মাধ্যমে যেমন স্থায়ী সমাধান করা যায়। না, ঠিক তেমনই কেবলমাত্র হাজার হাজার টাকার যন্ত্র-মূর্তি-লকেট বসিয়েও কোনও লাভ হয় না।
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে— জ্যোতিষ, বাস্তু, নিউমেরোলজির মেলবন্ধনে সৃষ্ট পূর্বোক্ত ‘এনার্জি ম্যানেজমেন্ট’ কৌশলের আইন প্রয়োগ যদি এই ধরনের সমস্যায় করা যায় তবেই বাস্তুই হোক কিংবা গ্রহদোষজনিত সমস্যা— চিরস্থায়ী সমাধান তবেই সুনিশ্চিত করা যেতে পারে।
বাস্তুশুদ্ধিতেই (Vastu Shastra) বাজিমাত
উপরিউক্ত বিষয়গুলির মধ্যে যদি কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই এক বা একাধিক লক্ষণ আপনিও অনুভব করেন তবে তা বাস্তুদোষজনিত কারণে হতেই পারে। সেক্ষেত্রে এই বাস্তুদোষ কাটানোর জন্য কী পুরো বাড়িটিই ভাঙচুর করবেন? নাকি সেটা বিক্রি করে দেবেন? না, এসবের কোনও কিছুই করার দরকার পড়ে না। তাহলে কী করণীয়? উপরিউক্ত সমস্যাগুলি যেমন বাস্তুদোষজনিত কারণে হতে পারে, ঠিক তেমনই তা বাড়িটির সংশ্লিষ্ট সদস্য বা সদস্যার রাশিচক্রে অশুভ গ্রহবিন্যাসের কারণেও হতে পারে। তাই সেটি ‘বাস্তুদোষ’ না ‘গ্রহদোষ’ ? – সর্বাগ্রে তা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তারা একে অপরের পরিপূরক। ‘বাস্তুদোষ’ আদৌ আছে কিনা তা নিরূপণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা ফ্ল্যাটটিতে পূর্বোক্ত আলোচনায় বর্ণিত বাস্তুশাস্ত্রের আদব- কায়দার নীতি মানা হয়েছে কিনা তা দেখে নেওয়ার পাশাপাশি ওই বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বিভিন্ন সদস্যদের জন্মকোষ্ঠীর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ করে নিলে তবেই স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে অহেতুক বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অর্থ অপচয়, শ্রম অপচয় না করেই প্রয়োজনীয় শাস্ত্রবিধি অনুসারে বাস্তুদোষ বা গ্রহদোষ খণ্ডন করে নেওয়া যায়। তবে সবথেকে ভালো হয় বাড়ি-ফ্ল্যাট নির্মাণ-ক্রয় করার সময়ই যদি তা একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাস্তু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে যাচাই করে নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে অনাবশ্যক হয়রানি, ভাঙা অর্থ ব্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। আর যদি অজ্ঞতার কারণে তা না হয়ে থাকে এবং পরবর্তীকালে অর্থাৎ বসবাসকালীন অবস্থায় বাস্তুদোষজনিত উপরিউক্ত যে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হন। তাহলেও বলব আতঙ্কিত হবেন না। কোনও অভিজ্ঞ শাস্ত্রকার ও বাস্তু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ‘বাস্তশুদ্ধি’র প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন আজ থেকেই।
Vastu Shastra সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
Vastu Shastra কী?
Vastu Shastra হল ভারতীয় ঐতিহ্যের স্থাপত্য ও স্থান-পরিকল্পনা সম্পর্কিত একটি জ্ঞানধারা, যেখানে দিক, স্থান, মাপ, অনুপাত এবং ভবনের বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়।
Vastu Shastra-এর পাঁচটি তত্ত্ব কী?
প্রচলিতভাবে পাঁচটি তত্ত্ব হল—পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু এবং আকাশ।
Vastu Purusha Mandala কী?
এটি Vastu tradition-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ grid-based spatial planning concept।
বাড়ি তৈরির সময় শুধু Vastu মানলেই হবে?
না। বাস্তব নির্মাণের ক্ষেত্রে structural safety, building regulations, fire safety, sanitation, ventilation এবং qualified architect/engineer-এর পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
Vastu Shastra ভারতীয় স্থাপত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। এর মধ্যে দিকনির্ণয়, স্থান-পরিকল্পনা, জ্যামিতি, মাপ, অনুপাত এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বসবাসের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন ধারণা পাওয়া যায়।
আধুনিক সময়ে Vastu-এর ঐতিহ্যগত ধারণাগুলিকে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বোঝার পাশাপাশি বাস্তব বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে আধুনিক architecture, engineering এবং safety standards-কেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
MakeMyNotes.in-এ আমরা Vastu Shastra-কে সহজ ভাষায় শিক্ষামূলকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি, যাতে পাঠক ঐতিহ্যগত ধারণাগুলির পাশাপাশি বাস্তব স্থাপত্য-পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও বুঝতে পারেন।


