
সম্পর্ক ভালো রাখতে বাস্তু ও ফেং শুইয়ের পরামর্শ
দাম্পত্য সম্পর্ক সুন্দর রাখতে ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও খোলামেলা যোগাযোগের কোনও বিকল্প নেই।সংসার সুখের হয় দম্পতির গুণে! এই দাম্পত্য আধুনিক জীবনে ঘা খায়, দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে বহু ক্ষেত্রে। সেই সমস্যা পেরোনর জন্য আছে কিছু পথ।সুখী দাম্পত্য বজায় রাখতে, জীবনে প্রেম ও সম্পর্ক অটুট রাখতেও বাস্তু সাহায্য করে।তবে ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র এবং ফেং শুইয়ের মতো প্রাচীন ধারায় ঘরের পরিবেশ ও সাজসজ্জাকে সম্পর্কের ইতিবাচক আবহের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই লেখায় সেই প্রচলিত বাস্তু ও ফেং শুইয়ের ধারণাগুলি সহজভাবে তুলে ধরা হল।
দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো রাখতে বাস্তু
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শোওয়ার ঘরের অবস্থান, রং,আসবাবের বিন্যাস এবং পরিচ্ছন্নতা দাম্পত্য জীবনের পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নবদম্পতির জন্য কোন ঘর ভালো?
বাস্তু মতে, দক্ষিণ-পূর্ব বা অগ্নিকোণ প্রেম, উদ্যম ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রচলিত বাস্তু ধারণায় নবদম্পতির জন্য এই দিকের ঘরকে উপযোগী মনে করা হয়।তবে বাস্তবে ঘর নির্বাচন করার সময় আলো-বাতাস, আরাম, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব বা অগ্নিকোণের ঘরে থাকা শুরু করুন। কারণ, আগুন ভালবাসা ও কামনার প্রতীক। এইদিকের ঘরে থাকলে প্রেম ও কামভাব বজায় থাকে। দম্পতির মধ্যে ভালবাসা চিরস্থায়ী হয়।
শোওয়ার ঘর কেমনভাবে সাজাবেন?
গাঢ় নয়, দেওয়ালের রং করুন হালকা, নিজেদের পছন্দ ও বাস্তুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে। খাট হবে বর্গাকার নয় আয়তাকার। ডবল বেড জোড়া লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু ম্যাট্রেস হতে হবে একটাই। বালিশ রাখুন জোড় সংখ্যায়। ঘর সাজাতে রাখতে পারেন রোজ কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল ও ফুলের ছবি। উত্তর-পশ্চিমে রাখুন সুন্দর ল্যাম্পশেড। এক্ষেত্রেও শেডের রং হবে হালকা। খাট কখনও দরজার মুখোমুখি রাখবেন না। কিন্তু এমন জায়গায় রাখুন যেখান থেকে দরজা দেখা যায়। ঘরের প্রতিটা জিনিস রাখুন জোড় সংখ্যায়।দাম্পত্য জীবনের জন্য শোওয়ার ঘরকে আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন ও শান্ত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু অনুসারে কয়েকটি প্রচলিত পরামর্শ হল—
- গাঢ় নয়, দেওয়ালের রং করুন হালকা, নিজেদের পছন্দ ও বাস্তুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে। খাট হবে বর্গাকার নয় আয়তাকার। ডবল বেড জোড়া লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু ম্যাট্রেস হতে হবে একটাই। বালিশ রাখুন জোড় সংখ্যায়। ঘর সাজাতে রাখতে পারেন রোজ কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল ও ফুলের ছবি। উত্তর-পশ্চিমে রাখুন সুন্দর ল্যাম্পশেড। এক্ষেত্রেও শেডের রং হবে হালকা। খাট কখনও দরজার মুখোমুখি রাখবেন না। কিন্তু এমন জায়গায় রাখুন যেখান থেকে দরজা দেখা যায়। ঘরের প্রতিটা জিনিস রাখুন জোড় সংখ্যায়।
- যদি বাস্তুমতে সব কিছু করা সম্ভব না-ও হয়, ঘাবড়াবেন না। কয়েকটা ছোটখাটো পরিবর্তন জীবনে আনতে পারে নতুন উদ্দীপনা। ঘর এমন করে সাজান যাতে নিজেদের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়৷ ঘরে অফিসের কোনও জিনিস আনবেন না। ঘরে ফল রাখার অভ্যাস করুন। ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রাখলে মনখারাপ হয়। সেইজন্য ঘর গুছিয়ে রাখুন।
- সন্তানহীন দম্পতিদের জন্য বাস্তু বিবাহিত জীবনে আনন্দ আনে। নিঃসন্তান দম্পতি বাস্তুর নিয়ম মেনে চললে মনের ইচ্ছে পূরণ হতে পারে। শল্যদোষযুক্ত বা দিকমূল জমির ওপর বাড়ি, সদর দরজা ভুল জায়গায় থাকা বা উত্তর- পূর্বের ঘরে থাকা সন্তানলাভে বাধা তৈরি করে। দম্পতি থাকবেন দক্ষিণ-পূর্ব ঘরে। এই ঘরে থাকলে প্রেম বাড়ে। এই বিষয়ে অভিজ্ঞ বাস্তুবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির সহজ উপায়
বাস্তুর সব নিয়ম মেনে চলা সবসময় সম্ভব হয় না। তাই ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়েই ঘরের পরিবেশ সুন্দর করা যায়।
১. ঘর পরিষ্কার রাখুন
অগোছালো ঘর অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তাই নিয়মিত বিছানা, আলমারি ও ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখুন।
২. ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলুন
শোওয়ার ঘর এমনভাবে সাজান যাতে দুজনেরই পছন্দ ও ব্যক্তিত্বের ছাপ থাকে। এতে ঘরটি আরও আপন হয়ে উঠবে।
৩. দম্পতির ছবি রাখুন
দুজনের একসঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি রাখতে পারেন। এটি ঘরে ব্যক্তিগত ও ইতিবাচক আবহ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
৪. ফুল ও ফল রাখতে পারেন
তাজা ফুল বা ফল ঘরের পরিবেশকে সতেজ করে তুলতে পারে। তবে নষ্ট বা শুকিয়ে যাওয়া ফুল দীর্ঘদিন রেখে দেবেন না।
বেডরুমের আদর্শ দিক
দক্ষিণ-পশ্চিম
বাস্তুমতে বাস্তুপুরুষের পা এখানে থাকে। কাজেই এই অঞ্চল সম্পর্কে স্থায়িত্ব আনে। জীবনে যা যা ধরে রাখতে চান, তা এই অংশে রাখুন।
দক্ষিণ-পশ্চিমে বেডরুম না থাকলে
সেক্ষেত্রে যেদিকেই বেডরুম থাক-না কেন, সেই ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ সক্রিয় করুন। দম্পতির ক্ষেত্রে সবথেকে খারাপ হল উত্তর-পশ্চিমের বেডরুম। কারণ, উত্তর-পশ্চিমের বিশেষত্ব হল গতি। কাজেই দম্পতির জীবন স্থিতিশীল হয় না।
উত্তর-পশ্চিমেই বেডরুম
সেই ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণে ভারী কিছু রাখুন। যেমন— আলমারি, ট্রাংক। এতে গতি বাধা পায়। একইসঙ্গে সেই ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ সক্রিয় করুন।
সক্রিয় করতে
বেডরুমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে তোলা একটা ছবি রাখুন। আলাদা আলাদা ছবিও পাশাপাশি রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে দেখে নেবেন, স্বামী-স্ত্রী যেন একে অপরের থেকে উল্টো দিকে।
- দুটো লাল গোলাপের ছবি বা সত্যিকারের দুটো লাল গোলাপও রাখতে পারেন।
- দুটো হার্ট শেপ-এর ক্রিস্টাল একটা লাল ফিতে দিয়ে বেঁধে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, এই কোনায় সব কিছু যেন জোড়ায় থাকে।
- একটা রোম্যান্টিক পরিবেশ তৈরি করুন। দুটো চেয়ার আর একটা কফি টেবিল রাখতে পারেন। লালের ছোয়া রাখুন।
- ভারী কাপবোর্ড বা মেটালিক জিনিস রাখবেন না।
- ভুলেও ওয়াশিং মেশিন রাখবেন না। মানা হয়, কাপড়-জামার ময়লা ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কও ধুয়ে যাবে ।
যৌন জীবনে অখুশি:বেডরুমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একজোড়া ম্যান্ডারিন হাঁসের মূর্তি রাখুন। এই কোণটি যেন কোনওভাবেই নোংরা না থাকে।
দম্পতির ছবি কীভাবে রাখবেন?
দম্পতির একসঙ্গে তোলা ছবি দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাখা যেতে পারে। আলাদা ছবি রাখলে সেগুলি পাশাপাশি এমনভাবে রাখা ভালো যাতে দুজনকে পরস্পরের দিকে মুখ করা অবস্থায় দেখা যায়। এটি মূলত একটি সাজসজ্জার ও প্রতীকী ধারণা, কোনও বৈজ্ঞানিক নিয়ম নয়।
গোলাপ ও রোম্যান্টিক সাজ
দুটি তাজা লাল বা গোলাপি গোলাপ ঘরের সাজে ব্যবহার করতে পারেন।একইভাবে দুটো চেয়ার এবং একটি ছোট কফি টেবিল দিয়ে আরামদায়ক একটিব্যক্তিগত জায়গাও তৈরি করা যায়। তবে শুকনো ফুল, কাঁটাযুক্ত ফুল বা নষ্ট ফুল দীর্ঘদিন ঘরে না রাখাই ভালো।
দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কী রাখা যায়?
প্রচলিত ফেং শুই অনুযায়ী নিচের ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা যেতে পারে—
- দম্পতির একসঙ্গে তোলা ছবি
- জোড়ায় ফুল
- হার্ট আকৃতির ডেকোরেশন
- হালকা লাল বা গোলাপি রঙের সামগ্রী
- মাটির তৈরি সাজসজ্জার সামগ্রী
অতিরিক্ত ভারী, অপ্রয়োজনীয় বা নোংরা জিনিস জমিয়ে না রাখাই ভালো।
দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার আবহ বাড়াতে
শোওয়ার ঘরে নরম আলো, পরিষ্কার বিছানা, সুন্দর সুগন্ধ এবং দুজনের পছন্দের সাজসজ্জা একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।বেডসাইড টেবিলে তাজা গোলাপ বা অন্য ফুল রাখতে পারেন। তবে ফুলের জল নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং ঘরে অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না।প্রচলিত ফেং শুইয়ে জোড়ায় রাখা সামগ্রী সম্পর্কের ভারসাম্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।দাম্পত্য জোরালো করতে বেডসাইড টেবিলে লাল বা গোলাপি ফুল একটি ক্রিস্টাল ফুলদানিতে রাখুন। যদি গোলাপ রাখেন, অবশ্যই কাঁটা ছাড়িয়ে রাখবেন। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাখুন একটা বেগুনি অ্যামেথিস্ট।সম্পর্কে প্যাশন বাড়াতে দুটো লাল বা গোলাপি রঙের মোমবাতি রোজ সন্ধে বেলায় বেডরুমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জ্বালান৷
সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি হলে
প্রথমেই শোয়ার ঘর পরিষ্কার করুন। নেগেটিভ ভাইব্রেশন দূর করতে তিনটে ধূপ জ্বালান। রোজ শঙ্খ বাজান। এতে ফ্রেশ ‘চি’ ঘরে প্রবেশ করবে। বেডরুমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটা বোলে জল ভরে, তার মধ্যে দুটো তরতাজা হলুদ আর লাল ফুলের পাপড়ি রাখুন। ফুলের পাপড়ি নেগেটিভ ‘চি’ শুষে নেবে। এই পদ্ধতি কোনও একটি শুভ দিনে শুরু করবেন এবং ততদিন পর্যন্ত করে যান, যতদিন-না আকাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন।
বিয়ের আগে
বিয়ের আগে একজন মেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ঘরে থাকতে পারেন না। কারণ, বিয়ের পরও তাঁর সেই ঘরে ফিরে আসার টান থাকবে।
সম্পর্কে বিষণ্ণতা
ছেলে ও মেয়ের ছবি, একসঙ্গে মুখোমুখি একটা লাল খামে রেখে, লাল সুতো দিয়ে বাঁধুন। একটা কাগজে লিখতে হবে— ঈশ্বর তোমার আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে রয়েছে, আমাদের বিয়ে হবে। এবার এই নোটটা খামের সঙ্গে আটকে মেয়ের বা ছেলের ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রেখে দিতে হবে।
দাম্পত্য জীবনে গোপনীয়তা ও আরাম
শোওয়ার ঘর এমন জায়গা হওয়া উচিত যেখানে দুজনেই নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ব্যক্তিগত অনুভব করেন।
- অতিরিক্ত আলো এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজনের বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করবেন না।
- ঘর নিয়মিত বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখুন।
- অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন।
- বিছানা ও বালিশ আরামদায়ক রাখুন।
সন্তান পরিকল্পনা ও বাস্তু
বাস্তুশাস্ত্রের কিছু প্রচলিত ধারণায় বাড়ির দিক, প্রবেশপথ এবং শোওয়ার ঘরের অবস্থানের সঙ্গে সন্তানলাভের বিষয়টি যুক্ত করা হয়।যেমন, কিছু বাস্তু মত অনুযায়ী বাড়ির উত্তর-পূর্ব অংশ, প্রবেশদ্বার বা জমির গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবার দম্পতির জন্য দক্ষিণ-পূর্ব বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের ঘর নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে।
সন্তানধারণ, বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাস্তু কোনও চিকিৎসা-পদ্ধতি নয়। সন্তানধারণে সমস্যা হলে গাইনোকলজিস্ট, ইউরোলজিস্ট বা ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ঘরের পরিবেশ
গর্ভাবস্থায় ঘরে শিশুর ছবি, ফুল বা শান্ত পরিবেশের সাজসজ্জা রাখা যেতে পারে যদি তা পরিবারের কাছে আনন্দদায়ক হয়।কিন্তু কোনও ছবি, ক্রিস্টাল, মূর্তি বা বাস্তু-উপায় সুস্থ সন্তান বা নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করে না।গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং নির্ধারিত চিকিৎসা অনুসরণ করাই অগ্রাধিকার।
- আপনি গর্ভবতী:বেডরুমের পশ্চিম দেওয়ালে একটা স্বাস্থ্যকর বাচ্চার ছবি লাগিয়ে রাখুন।
- সেফ ডেলিভারির জন্য:ধাতুর তৈরি একটা হাতির পিছনে একটা মূল্যবান পাথর রেখে বেডরুমের পশ্চিম দিকে রাখুন।
- সন্তানধারণে অক্ষম:সাতটা ডালিম ফলের ছবি মেটাল ফ্রেমে বাঁধিয়ে বেডরুমের পশ্চিম দিকে রাখুন। ডালিম ফলে বহু সংখ্যক বীজ থাকে যা উর্বরতার প্রতীক।
ফেং শুইয়ের কিছু প্রতীকী উপায়
ম্যান্ডারিন হাঁস
জোড়ায় থাকা ম্যান্ডারিন হাঁসকে ফেং শুইয়ের প্রচলিত ধারায় প্রেম ও দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
লাল ও গোলাপি রং
লাল ও গোলাপি রংকে প্রেম, উষ্ণতা ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তাই খুব অল্প পরিমাণে এই রঙের ডেকোরেশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
ক্রিস্টাল
রোজ কোয়ার্টজ বা অ্যামেথিস্টের মতো ক্রিস্টাল ফেং শুই ও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। এগুলিকে সম্পর্ক ভালো করার বৈজ্ঞানিক উপায় হিসেবে না দেখে প্রতীকী বা ডেকোরেশন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
বিয়ের আগে ঘর সাজানোর বিষয়ে প্রচলিত ধারণা
কিছু বাস্তু মত অনুযায়ী, অবিবাহিত ব্যক্তির ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ নিয়ে বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। তবে এগুলির মধ্যে অনেকটাই ঐতিহ্যগত বিশ্বাস এবং বিভিন্ন বাস্তু বিশেষজ্ঞের মত এক নয়। তাই বিয়ের আগে বা পরে ঘর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই বিশ্বাসের কারণে অস্বস্তিকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বাস্তু বা ফেং শুই ঘরের পরিবেশ সুন্দর করার একটি ঐতিহ্যগত পদ্ধতি হতে পারে। কিন্তু একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হল—
ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে যতই সুন্দর সাজসজ্জা থাকুক, একে অপরের প্রতি সম্মান ও বোঝাপড়া না থাকলে সম্পর্ক সুন্দর রাখা কঠিন। তাই বাস্তু বা ফেং শুইয়ের কোনও পরামর্শ গ্রহণ করলে সেটিকে জীবনযাপনের ইতিবাচক অভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
শেষ কথা
সম্পর্ক ভালো রাখতে ঘরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখুন, দুজনের জন্য ব্যক্তিগত সময় রাখুন এবং একে অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। চাইলে বাস্তু ও ফেং শুইয়ের প্রচলিত কিছু প্রতীকী নিয়মকে ঘর সাজানোর অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
মনে রাখবেন, বাস্তু ও ফেং শুইয়ের এসব ধারণা ঐতিহ্যগত বিশ্বাস; এগুলি চিকিৎসা, প্রজনন চিকিৎসা বা দাম্পত্য কাউন্সেলিংয়ের বিকল্প নয়।



