খুন হলেন প্রভাসবাবু
প্রভাসবাবুর হত্যা রহস্য ( Murder Mystery ) | bangla dhadha | বাংলা ধাঁধা
শুধু ছবি দেখে একটা খুনের মামলায় গোয়েন্দাগিরি করা কি সহজ কাজ? সহজ কি কঠিন, মুখে তর্ক চালিয়ে লাভ নেই। একটা পরীক্ষাই নেওয়া যাক বরং।

নীচে একটা বিবৃতি দেওয়া হল। বিবৃতির সবটুকুই সত্যি। খুব মন দিয়ে প্রথমে বিবৃতিটা পড়ে নাও। এরপর ওপরের ছবিটা বেশ ভালভাবে পরীক্ষা করো। সব শেষে, ১ থেকে ১৪ পর্যন্ত সাজানো প্রশ্নমালার উত্তর বসাও। আন্দাজে উত্তর দেওয়া চলবে না, প্রতিটি উত্তরের যুক্তিসম্মত কারণও সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে। সব কটা উত্তর যদি ঠিক-ঠিক মিলে যায়, তবে বুঝব তুমি বাঘা গোয়েন্দা। আর যদি চার ভাগের এক ভাগ উত্তরও না মেলে, তাহলে? তাহলে আর কী, গোয়েন্দা-গল্প পড়াই তোমার ছেড়ে দেওয়া উচিত—এই বুঝতে হবে।
বিবৃতি
বদমেজাজি ব্যবসায়ী প্রভাসবাবুকে বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে গুলি করে খুন করা হয়েছে। ওই দিন সন্ধে-বেলা তাঁকে যে-অবস্থায় আবিষ্কার করা হয়, ছবিতে তা দেখা যাচ্ছে। তাঁর নিজের পিস্তলটি থাকত ‘A’ চিহ্নিত ড্রয়ারের মধ্যে, পিছনদিকে। সেই পিস্তলটি পাওয়া যায় অফিসের বাইরে—দুটি গুলি খরচ করা অবস্থায়। একটি গুলি তাঁর মাথার খুলি ভেদ করে সোজা দেওয়ালে গিয়ে ঢুকেছে।
খুন সম্পর্কে সন্দেহভাজন দু-জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একজন প্রভাসবাবুর সেক্রেটারি, অন্যজন তাঁর দূর-সম্পর্কের ভাইপো, সুব্রত। সুব্রতর সঙ্গে ইদানীং বদমেজাজি প্রভাসবাবুর সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না, দেখা হলেই খিটিমিটি লেগে যেত।
সেক্রেটারিটি বিকেল চারটেয় বাড়ি চলে গেছে, আর ফেরেনি, সুব্রত সেদিন শহরে এসে পৌঁছয় বিকেল পাঁচটায়, সন্ধে সাতটার ট্রেনে ফিরে চলে যায়।
ঘড়িটা ঠিক সময়ই দিচ্ছিল। গুলি করে সেটাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে!
প্রভাসবাবু দুপুরে টিফিনের পর অফিসে এসে বসেছেন, আর একবারও ঘর ছেড়ে বেরোননি। তাঁর অফিসটা একটা ব্যস্ত রেলরাস্তার মেইন লাইনের ঠিক পাশে।
এই সব তথ্যের ভিত্তিতে এবং ঘরের সাক্ষ্যপ্রমাণের ছবি দেখে দু-জন সন্দেহভাজনের মধ্যে প্রকৃত খুনী কে বার করতে হবে।
প্রশ্নমালা
১। প্রভাসবাবু কি বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে কাজ করছিলেন?
২। সিন্দুক কি খুনের আগেই খোলার চেষ্টা হয়েছিল?
৩। খুনের উদ্দেশ্য কী? কোনো কিছু অপহরণ?
৪। প্রভাসবাবু কি অসচ্ছল ছিলেন?
৫। সুব্রত যে সেদিন সাতটার ট্রেনে ফিরে গিয়েছিল, এটা কি তার অপরাধের নিশ্চিত কোনো প্রমাণ?
৬। প্রভাসবাবুর বর্তমানে কি ড্রয়ার থেকে তাঁর পিস্তলটি সরানো সম্ভবপর?
৭। অত বড় অফিসবাড়িটার বিস্তর লোক কাজ করে অথচ কারো কানেই গুলি করার শব্দ পৌঁছল না, এর সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে?
৮। গুলিবিদ্ধ হবার পূর্ব মুহূর্তে কী করছিলেন প্রভাসবাবু?
৯। ঘরে ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন আছে কি?
১০। গুলিটা কোথায় দাঁড়িয়ে ছোঁড়া হয়েছিল? জানালার পাশ থেকে? পেছন থেকে? মুখোমুখি? না ডেস্কের ডান পাশের কোণ থেকে?
১১। ঘড়িটা কোন্ গুলিতে থামানো হয়েছিল—প্রথম না দ্বিতীয়?
১২। প্রভাসবাবু যে ছটার সময় খুন হয়েছেন, ধরে নেওয়া যায় কি?
১৩। কে খুন করেছে? সুব্রত না সেক্রেটারি?
১৪। খুনী কে তা সাব্যস্ত করার জন্য তিনটি নিশ্চিত প্রমাণ কী কী?
খুন হলেন প্রভাসবাবু – উত্তর
ছবি থেকে কতগুলো জিনিস স্পষ্ট, যার উল্লেখ বিবৃতিতে নেই।
এবার তাহলে প্রশ্নগুলোর উত্তরে আসা যাক।
১। হ্যাঁ। ছবি থেকেই বোঝা যায়।
২। না। সিন্দুক খুলতে হলে প্রভাসবাবুকে পার হয়ে যেতে হত। সেক্ষেত্রে ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন থাকত ঘরে।
৩। হ্যাঁ। খোলা সিন্দুক থেকেই তা স্পষ্ট।
৪। না। মূল্যবান কাগজপত্র বা টাকাকড়ি কিছু নিশ্চিত ছিল সিন্দুকে, যার লোভে এই খুন।
৫। না। খুন ঠিক কখন হয়েছে জানা যায় না। সুতরাং সুব্রতর অপরাধের এটা কোনো প্রমাণই হতে পারে না।
৬। না। প্রভাসবাবুকে না জানিয়ে তাঁর বর্তমানে ড্রয়ার থেকে পিস্তল বার করা অসম্ভব ছিল।
৭। কোনো ট্রেনের যাতায়াতের শব্দ গুলি ছোঁড়ার শব্দ ঢেকে দিয়ে থাকবে।
৮। একটি চিঠি পড়ছিলেন।
৯। না। কোনো কিছুই অগোছালো নয়।
১০। ডেস্কের ডান দিকের কোণ থেকে।
১১। প্রথম গুলিতে ঘড়ি থামালে প্রভাসবাবু টের পেতেন। সুতরাং দ্বিতীয় গুলিতেই ঘড়িটা থামানো হয়েছিল। প্রথম গুলি প্রভাসবাবুর মাথার খুলি ভেদ করে দেওয়ালে ঢুকেছে।
১২। না। খুনের সময় গুলিয়ে দেবার জন্যেই ঘড়িতে গুলি করা হয়েছে।
১৩। সেক্রেটারি।
১৪। প্রথমত, পিস্তলটি সেক্রেটারির পক্ষেই সরানো সম্ভবপর ছিল। দুই, সুব্রতর উপস্থিতিতে বদমেজাজি প্রভাসবাবুর পক্ষে শান্ত হয়ে কাজ করা সম্ভবপর ছিল না। তৃতীয়ত, ঘড়িতে ছটা বাজিয়ে রাখার উদ্দেশ্যই হল, সুব্রতর ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা।
সব দিক দিয়ে দেখলে সেক্রেটারিই এই খুন করতে পারে। বদমেজাজি প্রভাসবাবু সুব্রতকে ঘরে দেখলে নিশ্চিত রেগে উঠতেন। অথচ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তিনি শান্ত মনে একটি চিঠি পড়ছিলেন—দেখা যাচ্ছে।
টিফিনের সময় পিস্তলটি সরিয়ে রেখে সেক্রেটারিই টিফিনের পর খুন করে চারটের সময় বাড়ি চলে গেছে। যাবার আগে দ্বিতীয় গুলিতে ঘড়িটা বন্ধ করে কাঁটা ঘুরিয়ে ছটায় এনে রেখেছে। যাতে সুব্রতর ঘাড়ে দোষ পড়ে।