gardenreach-decoity-manabendra-nath-roy
গার্ডেনরীচে ডাকাতি
১৯১৫ সালে গোড়ার দিকের কথা ।
যতীন মুখার্জীর নিকট গোপনে খবর এল ।
বার্ড কোম্পানীর জুট মিলের শ্রমিকদের সপ্তাহে প্রায় পঁচিশ কি ত্রিশ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয় ৷ আর সে টাকা ব্যাঙ্ক
থেকে মিলে আসে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় ।
যতীন মুখার্জী এ সংবাদে উল্লসিত হয়ে উঠলেন ৷ সাহেব কোম্পানীর টাকা ৷ সুতরাং সে টাকা ডাকাতি করে কেড়ে নাও কারও আপত্তি থাকতে পারে না। দেশের লোকও খুশী হবে । এই সুযোগ ৷
নরেনকে এ কাজে নেতৃত্ব নিলেন ।
নরেন ছুটলেন গার্ডেনরীচে।
সঙ্গে গেলেন অতুল ঘোষ, সতীশ চক্রবর্তী, ফণী চক্রবর্তী । আরও দু–একজন বিশ্বাসী কর্মী ।
অনুসন্ধানে জানা গেল । ঘোড়ার গাড়ীতে করে মিলে টাকা আসে।
সঙ্গে থাকে মাত্র একজন বন্দুকধারী দারোয়ান । ইস্পাহানির জুট মিলটা পার হলে একটা নির্জন জায়গা ।
নরেন জায়গাটা সার্ভে করে এলেন।
তারপর নির্দিষ্ট দিনে, নরেনের নেতৃত্বে সবাই যথাস্থানে উপস্থিত৷ প্রত্যেকের কাছে রিভলভার। সবাই গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছেন ।যথাসময় ঘোড়ার গাড়ী ধীর মন্থরগতিতে আসছে ৷ কোচুয়ান নির্ভাবনায় গাড়ী চালিয়ে চলেছে। আর মাঝে মাঝে চাবুক উচিয়ে অবলা ঘোড়া দুটোর মা বোনের উদ্দেশ্যে বিশেষ রুচিকর সম্পর্কের উল্লেখ করে গালি দিচ্ছে ।
হঠাৎ রাস্তার দু দিক থেকে কারা ছুটে এসে ঘোড়ার লাগামটা টেনে ধরলো ৷
সঙ্গে সঙ্গে গুড়ুম গুড়ুম। বন্দুকধারী দারোয়ান ততক্ষণে কাত । তার রক্তে মাটি লাল হয়ে উঠলো ।
ক্যাশ বাবু সচকিত হয়ে দেখলেন। তাঁরই বুকের ওপর রিভলভার । তিনি ত ভয়ে কাঠ ।
ডাকাতরা মুহূর্তের মধ্যে টাকা নিয়ে নিঃশব্দে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল । খবর পেয়ে গার্ডে নরীচের পেটমোটা দারোগা হস্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন সম্ভাব্য সকল পথঘাট পুলিশ ঘিরে ফেললে।
হাতেনাতে কাকেও ধরা গেল না ।
থানার বড় বাবু গলদঘর্ম হয়ে উঠলেন।
আশ্চর্য। দেখছি এরা চমকে বিস্ময় সৃষ্টি করে গেল ।
পুলিশ সন্দেহ করলো । ডাকাতরা এসেছিল নদীপথে।
প্রত্যেক জেলেনৌকা আটক করা হোল। তল্লাসী চললো ।
কিন্তু ডাকাতদের কোন কিনারা হোল না ।
এদিকে নরেন আর দলবল এ রাস্তা সে রাস্তা ঘুরে নির্দেশমত বাদুড়বাগানে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বাড়ীটার কাছে একটা ভাঙ্গা পোড়ো বাড়ীতে টাকা নিয়ে হাজির। যতীনদা বসে আছেন ।
নগদ পঁচিশ হাজার টাকা তাঁর হাতে নরেন তুলে দিল।
যতীনদা বললেন, নরেন, তোমরা আজই কলকাতার বাইরে চলে যাও। পুলিশ যেন সন্ধান না পায় ।
তারপর ডেকে পাঠালেন । গোপাল দাস মজুমদার আর শৈলেন মৌলিকাকে ।
দুটিই দলের অল্প বয়সী বিপ্লবী কর্মী। অত্যন্ত বিশ্বাসী ।
গোপাল, তোমার ওপর টাকার ভার রইল ।
দুটি তরুণ কর্মী বুকে দুর্জয় সাহস আর হাতে রিভলবার নিয়ে সমস্ত রাত টাকা পাহারা দিলেন ৷
পরদিন যতীনদার নির্দেশে টাকা যথাস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হল ।