৫৪টি বাংলা ধাঁধা | 54 Bangla Dhadha | MakeMyNotes
পণ্ডিত Archer Taylor ধাঁধার এই সংজ্ঞা নির্দেশ করিয়াছেন—
The essential structure of the riddle consists of two descriptive elements, one positive and one negative. The positive element is metaphorical, in terms of the answer, though the listener is led to understand it in a literal sense. In contrast, the negative descriptive element is correctly interpreted literally.
ইহার তাৎপর্য এই : প্রত্যেক মৌলিক ধাঁধায় একটি বস্তু কিম্বা বিষয়ের দুইটি বর্ণনা থাকে, একটি অস্তিবাচক, আর একটি নেতিবাচক। অস্তিবাচক বর্ণনাটি রূপক হিসাবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু শ্রোতা ইহাকে সহজ অর্থেই বুঝিয়া থাকে। উহার বৈপরীত্য স্বরূপ নেতিবাচক বর্ণনাটি আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়।
দৃষ্টান্ত স্বরূপ তিনি এই Irish ধাঁধাটি উদ্ধৃত করিয়াছেন ‘Something has eyes and cannot see.’ ইহার উত্তর আলু; Something has eyes ইহার প্রথম বর্ণনা, ইহা অস্তিবাচক এবং রূপক ; cannot see ইহার দ্বিতীয় বর্ণনা, ইহা নেতিবাচক, এবং ইহার মধ্যে কোন রূপক ব্যবহার হয় নাই,ইহা প্রত্যক্ষ ভাবেই বোধগম্য। বাংলা হইতেও দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়—
এতটুকু কানি,
শুকোতে না জানি।
উত্তরঃ জিভ
এতটুকু কানি অস্তিবাচক এবং রূপক, জিভকেই রূপক হিসাবে কানি বলা হইয়াছে, ‘শুকোতে না জানি‘ নেতিবাচক এবং এখানে কোন রূপকের ব্যবহার হয় নাই।
এড়া এড়া এড়া, পাট কাঠির বেড়া।
তার মধ্যে ফেউ, বল্তে না পারে কেউ ॥
ইহাকেও এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা চলে।
কিন্তু সর্বত্রই যে উপরি–উক্ত সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয়, তাহা নহে। কারণ, প্রথমাংশের বর্ণনায় রূপক ব্যবহারের কথা মানিয়া লইলেও দ্বিতীয়াংশের বর্ণনায় সর্বত্রই যে নেতিবাচক বর্ণনা থাকে, তাহা স্বীকার করা কঠিন। তথাপি এই কথা সত্য, ধাঁধার মূল প্রকৃতি বিচার করিলে এই সংজ্ঞা অনেকখানি যথাযথ বলিয়া মনে হইতে পারে।
৫৪টি সেরা বাংলা ধাঁধা (Bangla Dhadha) প্রশ্ন ও উত্তর
ধাঁধা ১
হাসতে হাসতে আসছ তুমি ঠাট্টা করতে মোকে।
আমার শ্বশুর বিয়ে করেছে তোমার শ্বশুরের মাকে।
ভেবে দেখ মোর সনে কি সম্বন্ধ হয়।
উপহাসের পাত্রী কি না জানিবে নিশ্চয়।।
ধাঁধা ২
দিইতো পর পুরুষকে দিই।
দিইতো পথে ঘাটে দিই।
দিইতো যাকে তাকে দিই।
তুমি আমার আমি তোমার, তোমায় দিব কি?
ধাঁধা ৩
মা, মাসী, ভগ্নি, পিসি, খুড়ী, জ্যাঠাই, আই।
সকলের দেখিয়াছি স্ত্রীর দেখি নাই।।
অতি সোজা কথা ভাই ভেবে দেখলে পাবে।
স্ত্রীর কাছে বল্লে কিন্তু গালাগালি খাবে।।
ধাঁধা ৪
সতত গোপনে থাকে কিন্তু নারী নয়।
রবিকর তাপে ম্লান হয় অতিশয়।
যৌবনে নাহিক রস এ আশ্চর্য অতি।
বৃদ্ধকালে হয় সেই পূর্ণ রসবতী।।
ধাঁধা ৫
বলি ভাল মানুষের ঝি,
তোমার ব্যাপারখানা কি,
দিতে দিতে রয়ে গেল,
আরে ছি! ছি! ছি!
ধাঁধা ৬
যেতে তাড়াতাড়ি আসতে ধীর।
পথের মাঝে পড়ে রইল এক মহাবীর।।
ধাঁধা ৭
এটার ভিতর ওটা দিয়ে।
মাগ ভাতারে রইল শুয়ে।।
বাইরেতে ছিল যারা।
ঠেলাঠেলি করে তারা।।
কহে কবি কালিদাস।
ভাব বসে বারমাস।।
ধাঁধা ৮
ত্রিনেত্রধারী, নহে শূলপাণি।
বাকল পরিধান, নহে রামচন্দ্র।।
বৃক্ষত বাসী নহে পক্ষীরাজ।
অম্বু বহতি নহে মেঘমালা।।
ধাঁধা ৯
কায়স্থের য়স্থ ছাড়া, পাঁঠার ছাড়া পা।
লবঙ্গর বঙ্গ ছাড়া কিনে আনগে যা‘।।
ধাঁধা ১০
এ ঘর যাই, ও ঘর যাই।
ধপাস্ ক’রে আছাড় খাই।।
ধাঁধা ১১
কাল গরুর দেহখানি।
দুধ দেয় সের খানি।।
গরু যখন হাম্বার।
লোকে তখন চমকায়।।
ধাঁধা ১২
হাড় টিম টিম টিম।
বোয়াল মাছের ডিম।।
আছড়ালে না ভাঙ্গে।
তার নাম সর্ব লোকে জানে।।
ধাঁধা ১৩
সাজালে সাজে বাজালে বাজে।
হেন ফুল ফুটে আছে বাজারের মাঝে।।
ধাঁধা ১৪
এক আছে কেলে মিন্সে,
তার পেট গুড় গুড় করে।
তার মাথায় আগুন জ্বলে।
ধাঁধা ১৫
বাঘও নয় ভালুকও নয়।
আস্ত মানুষ গিলে খায়।
ধাঁধা ১৬
বাঁকা উরু মাথায় ছাই।
হাত মুখ চোখ নাই।।
ধাঁধা ১৭
জল নাই খালে বিলে।
জল আছে সেই গাছের ডালে।।
ধাঁধা ১৮
রাজার বাড়ী পাতিহাঁস।
খায় খোসা তার ফেলে শাঁস।।
ধাঁধা ১৯
ধরেই আছাড়।
ধাঁধা ২০
উচ্চ নীচে ধায় রথ দেখহ বুঝিয়া।
চালায় সারথি রথ হন্তেতে করিয়া।।
আকাশেতে ধায় রথ ভূমিতে সারথি।
বুঝিয়া বলহ ভাই হেয়ালীর গতি।।
ধাঁধা ২১
কেষ্ট, ছ’খানা চরণ।
কোমড় কাটলে, নাইকো মরণ।।
ধাঁধা ২২
ছুঁচলম মাথা তার করাত সম ধার।
কেশহীন মস্তক উপরে জটাভার।।
যোগী ঋষি নহে কিন্তু গায়ে মাখে ছাই।
বুঝহ পণ্ডিত আমি সঙ্কেতে জানাই।।
ধাঁধা ২৩
একটা খাটের তিনটা খুড়ো।
বসে আছে জমাদার বুড়ো।
জমাদার বুড়ো টলমল করে।
মুখ দিয়ে দিয়ে লাল পড়ে।
ধাঁধা ২৪
দশ শির ধরে সেই নহেক রাবণ।
রমণী ধরতে গেলে নিশ্চয় মরণ।
ধাঁধা ২৫
চার ভাই তার চাপুর চুপুর।
চার ভাই তার ঘৃত মধু।
দু’ ভাই তার শুকনো কাঠ।
এক ভাই তার পাগল নাট।
ধাঁধা ২৬
চার পায়রার চার রং।
খোপে গেলে একটা রং।
উত্তর ধাঁধা ২৬ — পান
ধাঁধা ২৭
হাত কন্ কন্ মাণিকলতা।
এ ধন পাইলি কোথা।
রাজার ভাণ্ডারে নাই।
বেণের দোকানে নাই।
ধাঁধা ২৮
জলে জন্ম, স্থলে কর্ম, মালাকারে গড়ে।
ঠাকুর নয় ঠাকুর নয়, মাথার উপর চ’ড়ে।
ধাঁধা ২৯
কাঁচায় তল তল পাকায় সিঁদুর।
যে না বলতে পারে সে ধেড়ে ইঁদুর।
ধাঁধা ৩০
অলি অলি পাখীগুলি গলি গলি যায়।
বেণের দোকানে গিয়ে উল্টাবাজী খায়।
ধাঁধা ৩১
হায় তরমুজ ক’রব কি।
বোঁটা নাই তার ধ’রব কি ॥
ধাঁধা ৩২
বীজ নাই কোন ফলে বল দেখি শুনি।
বুদ্ধিমান্ বলি তোমায় জানিব তখনি ॥
ধাঁধা ৩৩
বন থেকে বেরল টিয়ে।
সোনার টোপর মাথায় দিয়ে ॥
ধাঁধা ৩৪
বন থেকে বেরল হাড়ী কান লোটা লোটা।
মুখ দিয়ে ছেলে পড়ে
দেখরে বিধাতা ॥
ধাঁধা ৩৫
এরা বাপ বেটী, ওরা বাপ বেটা।
তালতলা দিয়ে যায়।
একটা তাল পড়লে পরে
সমান ভাবে খায় ॥
ধাঁধা ৩৬
একটুখানি পুঁচ্কি, তার জামাজোমা বেশ,
সে যায় পশ্চিমা দেশ।
ধাঁধা ৩৭
ঝাঁকড়া ঝোঁকড়া গাছটা, ফল ধরে তার বারোটা,
পাকলে হয় একটা।
ধাঁধা ৩৮
একটুখানি কানি। শুকাতে না জানি ॥
ধাঁধা ৩৯
একটু খানি ডালে। কেষ্ট ঠাকুর দোলে ॥
ধাঁধা ৪০
ঘরের ভেতর ঘর। নাচে কনে বর ॥
ধাঁধা ৪১
তেল কুচকুচে পাতা ফলে ধরে আঠা।
পাকলে অমৃত হয় তার বীজ গোটা গোটা।
ধাঁধা ৪২
চোখ নড়বড় দীঘল কেশ।
মূর্খ বুঝবে কলির শেষ ॥
তুমি বুঝবে ক’ মাস।
ন’ বছর ন’ মাস ॥
ধাঁধা ৪৩
কোথায় যাচ্ছিস্ রে খরখরাণী।
চুপ কর রে দুলদুলুনী ॥
এক্ষুণি গেরস্তরা শুনতে পেলে।
তোকেও খাবে আমাকেও খাবে ॥
ধাঁধা ৪৪
চারটা ঘড়া, রসে ভরা।
আ-ঢাকা তার উপুড় করা ॥
ধাঁধা ৪৫
ওরে মালীর বেটা, এ ফুল তুই পেলি কোথা।
যে গাছে নাই পাতা, সে ফুল এনেছি হেথা ॥
ধাঁধা ৪৬
এক চাকা মূলা, কুটলে হয় এক কুলা।
ধাঁধা ৪৭
উপরে মাটী নীচেয় মাটী।
তার তলায় বাবুই বাটী ॥
ধাঁধা ৪৮
কাঁচায় সর্বলোকে খায়। পাকায় গড়াগড়ি যায় ॥
ধাঁধা ৪৯
শুন হে সদাশিব, কোন দেবতার পোঁদে জিভ।
ধাঁধা ৫০
দুল দুল দুল্ দুলুনী।
ছোট বেলায় খেলুনী ॥
পাকলে সুন্দরী হ’ব।
লেংটা হ’য়ে হাটে যা’ব ॥
ধাঁধা ৫১
মা লতানে, বাপ ধাকুড় ধুকুড়।
বোন ছাতা, ভাই পাতা ॥
ধাঁধা ৫২
বাঁশ কেটে মাটি কেটে বসালাম চারা।
ফুল নাই ফল নাই পাতা মাত্র সারা ॥
ধাঁধা ৫৩
তিনটি হরফে নাম শক্ত জবাব।
চিনতো তাদের বাদশা, নবাব ॥
গোড়ার অক্ষরটাকে দাও যদি ছুটি।
হ’তে পারে তাতে বেশ লুচি আর রুটি ॥
ধাঁধা ৫৪
মসুর ছড়িয়ে চাষা করে অনুমান।
বেরল বিড়ির গাছ দেখ বিদ্যমান ॥
ফুলটি ধরে কাঞ্চন, ফলটি ধরে বেল।
বড় বড় পণ্ডিতের লেগে গেল ভেল ॥
উত্তর ধাঁধা ১ — শাশুড়ী
উত্তর ধাঁধা ২ —ঘোমটা
উত্তর ধাঁধা ৩—স্ত্রীর বৈধব্য
উত্তর ধাঁধা ৪—পান
উত্তর ধাঁধা ৫ —ঘোমটা
উত্তর ধাঁধা ৬ —পায়খানা করা
উত্তর ধাঁধা ৭—খিল
উত্তর ধাঁধা ৮—নারিকেল
উত্তর ধাঁধা ৯ —কাঁঠাল
উত্তর ধাঁধা ১০ — ন্যাতা
উত্তর ধাঁধা ১১—মেঘ
উত্তর ধাঁধা ১২—সরষে
উত্তর ধাঁধা ১৩—হাঁড়ি
উত্তর ধাঁধা ১৪—হুঁকো, কলকে
উত্তর ধাঁধা ১৫—জামা
উত্তর ধাঁধা ১৬—চিমটা
উত্তর ধাঁধা ১৭—ডাব
উত্তর ধাঁধা ১৮ —চালতা
উত্তর ধাঁধা ১৯ —শিকনী
উত্তর ধাঁধা ২০—ঘুড়ি
উত্তর ধাঁধা ২১—পিপড়া
উত্তর ধাঁধা ২২—কেয়াফুল
উত্তর ধাঁধা ২৩ — উনুন ও হাঁড়ি
উত্তর ধাঁধা ২৪— ঝিঙা
উত্তর ধাঁধা ২৫ — গরুর ৪ পা, ৪ বাঁট, ২ শিং, ১ লেজ
উত্তর ধাঁধা ২৭ — বরফ
উত্তর ধাঁধা ২৮ – টোপার
উত্তর ধাঁধা ২৯ — হাঁড়ি
উত্তর ধাঁধা ৩০ — টাকা
উত্তর ধাঁধা ৩১ — ডিম
উত্তর ধাঁধা ৩২ — নারিকেল
উত্তর ধাঁধা ৩৩ — আনারস
উত্তর ধাঁধা ৩৪ — মোচা
উত্তর ধাঁধা ৩৫ — বাপ ছেলে নাতি
উত্তর ধাঁধা ৩৬ — চিঠি
উত্তর ধাঁধা ৩৭ — বারমাস, বছর
উত্তর ধাঁধা ৩৮ — জিভ
উত্তর ধাঁধা ৩৯ — বেগুন
উত্তর ধাঁধা ৪০ — মশারী
উত্তর ধাঁধা ৪১ — কাঁঠাল
উত্তর ধাঁধা ৪২ — গলদা চিংড়া
উত্তর ধাঁধা ৪৩ — বেগুন ও কই মাছ
উত্তর ধাঁধা ৪৪ — গরুর বাঁট
উত্তর ধাঁধা ৪৫ — বন মনসার ফুল
উত্তর ধাঁধা ৪৬ — টাকা
উত্তর ধাঁধা ৪৭ — আলু
উত্তর ধাঁধা ৪৮ — ডুমুর
উত্তর ধাঁধা ৪৯ — কলুর ঘানি
উত্তর ধাঁধা ৫০ —তেঁতুল
উত্তর ধাঁধা ৫১ —কুমড়া গাছ
উত্তর ধাঁধা ৫২ —পান
উত্তর ধাঁধা ৫৩ —বেগম
উত্তর ধাঁধা ৫৪ —বেগুন বীজ