Charles-Tegart-manabendra-nath-roy
স্যার চার্লস টেগার্ট , শ্রীনরেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য ও রিভলভার
স্যার চার্লস টেগার্ট তখন কলকাতার পুলিশ কমিশনার ৷ নাম করা দুঁদে পুলিশ অফিসার । যার দুর্দান্ত শাসনে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায় ৷ এ হেন বিখ্যাত টেগার্ট সাহেব একটা আঠার– উনিশ বছরের ছেলেকে কায়দা করতে পাচ্ছেন না। কি লজ্জা !
হঠাৎ সাহেব খবর পেলেন । আরপুলি লেনের জাহাজীদের কাছ থেকে নরেন সেই দিন সন্ধ্যায় লুকিয়ে একটা রিভলভার কিনেছেন। তাঁর বাড়ী তল্লাসী করলেই আসামীকে বামাল শুদ্ধ ধরা যাবে । মহা খুসী টেগার্ট সাহেব । গদ গদ হয়ে বল্লেন—সার্চ পাটি আমি লীড, করবো ।
আর রক্ষা আছে! পুলিশের বড়– মেজ–সেজ–ছোট সব অফিসারের দল পরম উৎসাহে বন্দী গাড়ী নিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে নরেনের বাড়ী ঘেরাও করে ফেললেন ।
তখন সকাল হয়ে গেছে। নরেন বৈঠকখানায় চেয়ারে বসে কি একখানা বই খুলে পড়ছেন । টেগার্ট সাহেব বীর দর্পে বাড়ীতে ঢুকলেন। দেখলেন সামনেই নরেন । একখানা বই নিয়ে বসে। চোখে জ্বলন্ত মনোযোগ ।
অবশ্য তার আগেই নরেন পুলিশকে আড়চোখে দেখে নিয়েছেন এবং কর্তব্য কর্মও ঠিক করে ফেলেছেন।
টেগার্ট সাহেব বল্লেন—তোমার বাড়ী সার্চ করতে এসেছি।
উত্তম, সার্চ করুন, নরেন বল্লেন ।
টেগার্ট সাহেব সামনের চেয়ার খানা টেনে নিয়ে বসলেন। আর নরেন অমায়িকভাবে টেগার্ট সাহেবের সঙ্গে গল্প জুড়ে দিলেন। গল্প বলে মন ভোলাতে তিনি ওস্তাদ । আর তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোরা দু ঘণ্টা ধরে সমগ্র বাড়ী তন্ন তন্ন করে সার্চ করে রিপোর্ট দিল, —না, সার, কিছুই পাওয়া গেল না ।
সাহেব গল্প করছেন।
টেগার্ট সাহেব তখন ম্লান মুখে নরেনের সঙ্গে গুড–বাই, বলে চলে গেলেন । সাহেব নিঃসন্দেহ। না কিছু নেই ।
কিন্তু সাহেবের যদি সত্যকার দৃষ্টি থাকতো, তাহলে দেখতে পেতেন । তারই সামনে, টেবিলের ওপর বইখানার তলায় রিভলভারটি চাপা পড়ে আছে ।
একেই বলে হাতের কৌশল। আর উপস্থিত বুদ্ধি! এই বুদ্ধির খেলায় নরেন ভবিষ্যতে বহু বিপদের হাত থেকে অনায়াসে ও অবলীলাক্রমে রক্ষা পেয়েছেন ।