স্তনের চামড়ার যত্ন
➸ স্তনের আকারে পরিবর্তন, ফুলে লাল হয়ে যাওয়া, স্তনবৃত্তের চারদিকে র্যাশ, চুলকানি, ত্বকের রং পাল্টে যাওয়া—এই সমস্ত উপসর্গ দেখলেই ডাক্তারি পরামর্শ নিন।
➸ তড়িঘড়ি ওজন কমাবেন না। এতে ত্বক ঝুলে পড়ে। স্ট্রেচ মার্কস দেখা দেয়।
➸ স্তন খুব ঘামে। স্তনের নীচের দিকে ঘাম জমে র্যাশ, চুলকানি হয়। কাজেই রোজ অন্তর্বাস পরার আগে ভাল ডিয়োডোরান্ট বা বেবি পাউডার লাগান।
➸ ব্রণ, সূর্যের রশ্মির কারণে অনেকসময় স্তনের চামড়ায় লালচেভাব দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আপনার পোশাকের মেটেরিয়াল দেখে নিন। হয়তো আপনার জামার মেটেরিয়াল খরখরে, যার ফলে ত্বক জ্বালা করছে, লালচেভাব দেখা দিচ্ছে।
➸ ত্বকে জ্বালা করলে কড়া এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করবেন না। ওটমিল ময়েশ্চারাইজার লাগান।
➸ স্তনে ব্রণ হওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। স্যালিসাইলিক ওয়াইপ দিয়ে স্তন পরিষ্কার করুন।
➸ এক্সারসাইজ করার পর ঘামে ভেজা জামা পরে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করবেন না। স্নান করে নিন। ঘাম জামার ছিদ্র বন্ধ করে, ব্রণ– ফুসকুড়ির জন্ম দেয়।
➸ স্তনবৃত্তের চারদিকে অনেকসময় চুল বেরোয়। স্থায়ী মুক্তি পেতে ডাক্তারি পরামর্শ নিয়ে লেজার করান।
➸ স্তনে লোমের আধিক্য থাকলে ডিপিলেটারি ক্রিম, শেভিং বা ওয়াক্সিং করবেন না। এতে ত্বকে র্যাশ বেরোতে পারে। ম্যামরি গ্ল্যান্ডের ক্ষতি হওয়ারও সম্ভাবনা থেকে যায়।
➸ স্তনের ত্বক টান টান করতে স্পিয়ারমিন্ট অয়েল, কেনেল অয়েল, ক্যারট অয়েল, লেমন গ্রাস অয়েল, সিপরেস অয়েলের মতো এসেনশিয়াল অয়েল মাসাজ করুন।
➸ খুব বেশি পরিমাণে এসেনশিয়াল অয়েল লাগাবেন না। এক–একটি স্তনে ৩ ফোঁটা লাগান। এসেনশিয়াল অয়েলের সঙ্গে ভেজিটেবল অয়েল মিশিয়ে নিন।তেল সবসময় বৃত্তাকার গতিতে লাগান।
➸ স্তনের ত্বক টান টান, মসৃণ, উজ্জ্বল করতে শসা, ডিমের কুসুম, ন্যাচরাল ক্রিম আর অল্প মাখন দিয়ে প্যাক বানান। ১৫–২০ মিনিট স্তনে লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।
➸ স্তনের ত্বকের জন্য খুব উপকারী ডিম আর পেঁয়াজ। ত্বক মসৃণ হয়, কালো দাগ ছোপ কমে, বলিরেখা দূর হয়। ১টা ডিম ফেটিয়ে নিয়ে বুকে লাগান। একটা পেঁয়াজ থেঁতো করে রস বের করে নিয়ে ১ গ্লাস জলে মেশান। রস মেশানো জল দিয়ে বুক ধুয়ে ফেলুন।
➸ মেথি গুঁড়ো করে জল মিশিয়ে, স্তনে লাগিয়ে ৫–১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। স্তনের ত্বক টান টান হবে।
➸ শিয়া বাটার–এ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই রয়েছে। স্তনের ত্বক হালকা করে। ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে ত্বকের যে–ক্ষতি হয়, তা মেরামত করে। ১৫ মিনিট শিয়া বাটার স্তনে বৃত্তাকার গতিতে মাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
➸ টোনিংয়ের জন্য শসা আর ডিমের কুসুমের প্যাক খুব উপকারী। স্তনের টিশুর মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করে। প্যাকটি ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।
➸ ডালিমে অ্যান্টি–এজিং গুণ রয়েছে। ত্বকের বুড়োটেভাব দূর করে। ডালিম আর সূর্যের তেল মিশিয়ে একটা প্যাক বানান। প্রতিদিন শুতে যাওয়ার আগে বৃত্তাকার গতিতে মাসাজ করুন।
➸ স্তনের ত্বক বুড়িয়ে গেলে ডালিম থেঁতো করে নিম তেল মিশিয়ে, হালকা গরম করে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে বুকে মাসাজ করুন।
➸ অ্যালোভেরা ত্বক টান টান করে। এতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে যা ফ্রি–র্যাডিক্যালের কারণে কোষের যে–ক্ষতি হয়, তা মেরামত করে।
➸ স্তনের চামড়া টান টান করতে, বলিরেখা কমাতে বরফ মাসাজ করুন। বরফের ঠান্ডায় স্তনের টিশু সঙ্কুচিত হয়ে যায়, কাজেই চামড়া টাইট, টান টান থাকে।
কেমোথেরাপি ট্রিটমেন্টের আগে ও পরে স্তনের চামড়ার যত্ন
➸ সুতির ঢিলেঢালা জামা পরুন।
➸ খুব গরমজলে চান করবেন না। উষ্ণ জল ব্যবহার করুন।
➸ শাওয়ারের জল যেন সরাসরি আপনার স্তনের ওপর না পড়ে।
➸ কড়া সাবান মাখবেন না।
➸ গন্ধ নেই, এমন সাবান ব্যবহার করুন।
➸ লক্ষ রাখবেন, ত্বকে ত্বকে যেন ঘষা না লাগে। হাত সোজা রাখলে, হাত স্তনের বাইরের দিকে লেগে থাকে। চেষ্টা করুন, যাতে হাত ও স্তনের মধ্যে ঘষাঘষি না লাগে।
➸ আন্ডারওয়্যার ছাড়া অন্তর্বাস পরুন।
➸ স্তনের আকার খুব বড় হলে অন্তর্বাস না পরলে স্তনের নীচে এক টুকরো নরম কাপড় বা তুলো গুঁজে রাখুন।
➸ পরিষ্কার মেক–আপ ব্রাশ দিয়ে স্তনে কর্নস্টার্চ বা বেবি পাউডার লাগান। কর্নস্টার্চ আর্দ্রতা শুষে নেয়।
➸ যদি আপনার স্তনের নীচের অংশে কোনও ইস্ট ইনফেকশন হয়, তবে তা সারিয়ে তবেই রেডিয়েশন নিন।
➸ কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের সময় যে–অংশে ট্রিটমেন্ট চলছে, স্তনের সেই অংশ সূর্যের রশ্মি থেকে দূরে রাখুন।
➸ ক্লোরিন মেশানো জল এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বক শুকনো হয়ে যায়।
➸ কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ত্বক খুব সংবেদনশীল থাকে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় এসপিএফ ৩০ সানস্ক্রিন লাগান।
➸ রোদে বেরোনোর ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগাবেন।